রান খরায় ভুগছে বিপিএল। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোন দলই দুইশ ছুঁতে পারেনি। বেশিরভাগ ম্যাচেই দেড়শর আশপাশে রান থাকছে। অথচ ২০ ওভারের ক্রিকেট থাকার কথা চার-ছক্কার বিনোদন। বিপিএলে খেলা ব্যাটাররা সেই আবেদন পূরণ করতে পারছেন না বলে মাঠেও দর্শকখরা। সবকিছু মিলিয়ে বিপিএল যেন দিনকে দিন তার জৌলুস হারাচ্ছে। যদিও দলগুলোর স্কোরবোর্ডে বেশি রান না পাওয়ার পেছনে উইকেটের কোনও দায় দেখছেন না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক লিটন দাস।
আগের ম্যাচগুলোর ধারাবাহিকতা রেখে বুধবারের দুটো ম্যাচই গড়িয়েছে লো-স্কোরিংয়ে। এজন্য উইকেটের দায় দেখছেন না লিটন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘সবসময় উইকেটের দোষ, তা কিন্তু না। যারা হিসেব করে ঝুঁকি নিয়ে খেলতে পারে তারা এই মাঠে… (রান করে)। আজ কিন্তু একটা পরিস্থিতিতে ১৭০ রান হওয়ার মতো ছিল। সেটা হলে উইকেটকে কেউই দোষ দিতাম না। কোনোভাবে আমরা পারিনি, মিডল ওভারে আমাদের কিছু ঘাটতি আছে। বাংলাদেশ দলেও আমরা এই বিষয়ে ভুক্তোভোগী। পাওয়ার প্লে শুরু করলে মাঝখানে খেলতে পারি না। আবার মাঝখানে খেলতে পারলে ফিনিশ করতে পারি না। এখনও আমরা শেখার ধাপে আছি, এমন না যে ভালো দল আমরা। বিপিএলের গেইমগুলো চলতে চলতে আমরা এক পর্যায়ে শিখে যাবো কীভাবে মাঝের ওভারে খেলতে হয়।'
বিপিএল শুরুর আগে বলা হচ্ছিল, এবারের টুর্নামেন্টে রান হবে। কিন্তু আসলে খুব বেশি রান দেখা যায়নি। এই আসরের সর্বোচ্চ রান ১৯৩। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে চট্টগ্রাম এই রান করেছিল। তবে বিপিএলে বেশিরভাগ স্কোরই ১৬০ এর কাছাকাছি। লিটন মনে করেন উইকেট যেমনই হোক, তাদের মানিয়ে নিয়েই খেলতে হবে, 'দেখেন, আমি কিছু বললে কি উইকেট পাল্টে যাবে? আমি যদি চাই কালকের ম্যাচে দুইশ রানের উইকেট দিতে, দিতে পারবে? যেটা ফ্যাক্ট না সেটা কীভাবে হবে? এখন দেড়শ রানের উইকেটে আমরা কীভাবে খেলতে পারি সেটা দেখতে হবে। আপনি সব সময় টি-টোয়েন্টিতে দেড়শ রানের উইকেট পাবেন না। দেড়শ রানের উইকেটে আমরা কীভাবে দুইশ রান করতে পারি এটা একটা চ্যালেঞ্জ।'
১৭০ রান করার সম্ভাবনা তৈরি করলেও উইকেট ছিল দেড়শো রানের। এসব উইকেটে খেলতে হলে বাউন্ডারির বাইরে প্রান্ত বদলের তাগিদ দেখেন লিটন, 'আমি টস জেতার সময়ই বলেছিলাম ১৫৫ বা ১৫০ জেতার মতো। কারণ আমার হাতে ওই মানের বোলিং আক্রমণ আছে। আমাদের যে শুরুটা হয়েছিল, ওখান থেকেও ১৭০ রান করা যেতো। আমরা মাঝের ওভারে ভালো ক্রিকেট খেলিনি, অনেক ডট হয়েছে। আমরা অনেক বড় বড় শট খেলতে চাচ্ছি। এক, দুইয়ের অপশন কিন্তু আছে। দেখবেন বড় বড় খেলোয়াড়রা এক-দুই করে খেলা বানায়। যেখানে আমাদের ঘাটতি আছে।'
লিটন আরও বলেছেন, 'হতে পারে জাতীয় দলেরও মূল সমস্যা মিডল অর্ডার। এক তো আমরা কেউই পাওয়ার হিটার না। গায়ে এত জোর আছে যে ছয় মারবো খালি, তাও না। কিন্তু আমাদের মতো খেলোয়াড়রাও টি-টোয়েন্টিতে অনেক রান করছে। তারা কীভাবে খেলছে। তারা এক দুই করে নিয়ে বাউন্ডারি খুঁজছে। আমরা চেষ্টায় আছি এসব করার। হয়তো আস্তে আস্তে আসবে।'









