বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে কুমিল্লাকে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল দুর্দান্ত ঢাকা। এরপর আরও ছয় ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই হেরেছে মোসাদ্দেক-তাসকিনদের নিয়ে গড়া দলটি। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ১৭৫ রানের বড় সংগ্রহের পর মনে হচ্ছিল, হয়তো হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে তারা। কিন্তু তাওহীদ হৃদয়ের রাজসিক সেঞ্চুরিতে মন ভাঙলো ঢাকার সমর্থকদের। এদিন হৃদয়ের অপরাজিত ১০৮ রানের ইনিংসের ওপর ভর করেই ৪ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লাকে ১৭৬ রানের কঠিন লক্ষ্যই দিয়েছিল ঢাকা। বোলিংয়ে শুরুটাও করেছিল নামের মতোই ‘দুর্দান্ত’। ২৩ রানে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে দারুণ প্রভাব বিস্তার করছিল দলটি। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও ব্রুক গেস্ট মিলে প্রতিরোধ গড়েন। তাদের ৮৪ রানে জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। এ দিনই প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা গেস্ট ৩৫ বলে ৩৪ রান করে আউট হলেও হৃদয় ম্যাচ শেষ করেই মাঠ ছাড়েন।
৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া তাওহীদ হৃদয় পরের পঞ্চাশ রান করেন মাত্র ২১ বলে। ৫৩ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়া কুমিল্লার এই ব্যাটার অপরাজিত থাকেন ১০৮ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে। সবমিলয়ে ৫৭ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। চলতি বিপিএলে এটাই কারো প্রথম সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে বিপিএলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডবুকে নাম লেখালেন মিডল অর্ডারের স্তম্ভ হয়ে ওঠা ডানহাতি এই ব্যাটার। বিপিএলে এটি ৩০তম সেঞ্চুরি।
শুক্রবার তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট যেন হয়ে ওঠে ধারালো কোনও তরবারি। বোলিংয়ে যেই এসেছেন, তার কাছে রীতিমতো খাবি খেয়েছেন। তার বিস্ফোরক ইনিংসে ভর করে ১ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে কুমিল্লা।
ঢাকার বোলারদের মধ্যে শরিফুল দুটি উইকেট নেন। এছাড়া আরাফাত সানি, মোহাম্মদ ইরফান ও চাতুরাঙা নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে দুর্দান্ত ঢাকা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। চাতুরাঙা ডি সিলভা শুরুতে ফিরে গেলেও দ্বিতীয় উইকেটে ৭৮ বলে ১১৯ রানের জুটি গড়েন নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান। এই জুটির ওপর দাঁড়িয়েই ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ঢাকা। ৪২ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৭ রান করে আউট হন সাইফ হাসান। স্কোরবোর্ডে আরও এক রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন নাঈম শেখ। তার আগে ৪৫ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় খেলে যান ৬৭ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। ঢাকার বড় সংগ্রহের পেছনে ১১ বলে ২১ রান করা অ্যালেক্স রসেরও অবদান রয়েছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বোলারদের মধ্যে ম্যাথু ফোর্ড সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া আলিস আল ইসলাম নেন একটি উইকেট।









