চায়ের শহরে আজ (সোমবার) থেকে শুরু হচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আলিস আল ইসলামের ইনজুরিতে দলে সুযোগ পেয়েছেন উইকেট কিপার ব্যাটার জাকের আলী অনিক। আজ লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই অনিকের ঘরের মাঠে প্রথমবার খেলতে নামার সুযোগ হয়ে যেতে পারে।
তার আগে রবিবার অনুশীলনে বাংলাদেশের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের চালু করা ‘দ্য টাইগার্স কোড’ পেয়ে গেছেন তিনি। কোডের বইটি অনিকের হাতে তুলে দেন অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতোমধ্যেই তার অভিষেক হয়ে গেছে। গত বছরের অক্টোবরে অনিক যখন এশিয়ান গেমস খেলছিলেন, বাংলাদেশ দল তখন বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আসামের গুয়াহাটিতে প্রস্তুতি ম্যাচের সময়টাতেই এক ধরনের নিয়ম চালু করেন হাথুরুসিংহে। এটাই হচ্ছে ‘দ্য টাইগার্স কোড।’
বইটিতে লেখা আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সংস্কৃতি কেমন হবে, ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতি, দলের ভাবনা, বিশ্বাস, লক্ষ্য, চিন্তাভাবনা- মোদ্দাকথা কীভাবে ক্রিকেটাররা একটি আদর্শ দল হয়ে খেলতে পারবেন, তারই লিখিতরূপ এই বইটি।
ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ম্যানেজার নাফিস ইকবালসহ তাইজুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিশাদ হোসেনদের উপস্থিতিতে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের সঙ্গে অনিকের পরিচয় পর্বটা শেষ হয়েছে।
ড্রেসিংরুমে অনিককে স্বাগত জানানোর দিন ‘দ্য টাইগার্স কোড’ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তাসকিন আহমেদ। বিসিবির প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তাসকিন বলেছেন, ‘‘এই টাইগার্স কোড বইটার মধ্যে আমরা কীভাবে আমাদের দলকে গোছাতে পারি, সংস্কৃতি কেমন হবে, একে অপরের সঙ্গে কীভাবে থাকতে চাই সেসবের সম্মিলন। প্রথমেই দল; যে ব্যাপারটা সবকিছুর উর্ধ্বে দল। এটাকে শুধু বই হিসাবে না ধরে আমরা চাই এই জিনিসটা আমাদের মনের মধ্যেও থাকুক। বাংলাদেশ দল তো আজীবনের জন্য। যদি সংস্কৃতি পরিবর্তন করে একধাপ এগিয়ে দেই, পরবর্তী প্রজন্ম আরও ভালো কিছু করবে। এই ‘দ্য টাইগার্স কোড’ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’’
সংবিধানের মতো গুরুত্ব বহন না করলেও ‘দ্য টাইগার্স কোড’ কে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অলিখিত সংবিধান বলা যায়।
আলিসের আঙুলের ইনজুরিতে অনিকের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ হয়েছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে স্লগ ওভারে প্রায় প্রতি ম্যাচেই ঝড় তুলেছিলেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার। বিপিএলে ১৪ ম্যাচে করেছেন ১৯৯ রান। গড় ৯৯.৫ ও স্ট্রাইকরেট ১৪১.১৩। ১০ চারের পাশাপাশি মেরেছেন ১৪ ছক্কাও। রবিবার ড্রেসিংরুমের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে অনিক বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে। সবারই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে যাওয়া। ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন ছিল। সবসময় ইচ্ছা ছিল নিজেকে পরিপূর্ণ করে জাতীয় দলে আসার। আলহামদুলিল্লাহ বিপিএলে ভালো পারফরম্যান্সের কারণে সুযোগ হয়েছে।’
ঘরের মাঠে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা অনিক আরও বলেছেন, ‘এই মাঠে আমার ভালো ভালো স্মৃতি আছে। আমার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক এই মাঠে। সব সময়ই এই মাঠে খেলা হয়। বিপিএলেও এখানে ভালো ভালো ইনিংস আছে। তবে আমার কাছে মনে হয় মাঠ গুরুত্বপূর্ণ নয়, ওই দিনটায় নিজের সেরাটা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সেটাই চেষ্টা করবো।’









