দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১৮.১ ওভারে ১৭০/২
শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ১৬৫/৫
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
প্রথম ম্যাচে বড় লক্ষ্যে নেমেও দুর্দান্ত লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জাকের আলীর অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ের দাবি রেখেছিল তারা। কিন্তু তীরে গিয়ে তরী ডোবে। ৩ রানে হেরে যায়। বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের জন্য সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। মাঝের ওভারে শ্রীলঙ্কা ভালো ব্যাটিং করলেও বাংলাদেশের বোলারদের নৈপুণ্যে ৫ উইকেটে ১৬৫ রান করে। সেই লক্ষ্য ১১ বল হাতে রেখে ছুঁয়েছে স্বাগতিকরা।
লিটন দাস ও সৌম্য সরকার শক্ত ভিত গড়ে দেওয়ার পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে জয়ের পথে ছুটতে থাকে বাংলাদেশ। তাদের জুটি ৩৬ বলেই করে পঞ্চাশ। শেষ দিকে চ্যালেঞ্জ ছিল শান্ত হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেন কি না। লক্ষ্য থেকে ৮ রান দূরে থাকতে হৃদয় ছয় মারলে কাজটা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন ফিফটির জন্য শান্তর দরকার ৩ রান, আর জিততে ২! তবে ১৯তম ওভারের প্রথম বলে দাসুন শানাকাকে ছয় মেরে নিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরি করেন এবং দলও জিতে যায়। দুজনের ৫৫ বলে ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৮ উইকেটে বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছায়।
৩৮ বলে ৪ চার ও ২ ছয়ে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন শান্ত। ২৫ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ৩২ রানে খেলছিলেন হৃদয়। তার আগে সৌম্য ২৬ ও লিটন ৩৬ রান করেন।
শ্রীলঙ্কার ১৬৫ রানের জবাবে বাংলাদেশ ১৮.১ ওভারে ২ উইকেটে করে ১৭০ রান। তাতে সিরিজে ১-১ এ সমতা ফেরালো স্বাগতিকরা। আগামী ৯ মার্চ সিলেটেই হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।
বাংলাদেশের একশ
তাওহীদ হৃদয় ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে বাংলাদেশ একশ ছুঁলো। ১২তম ওভারে দিলশান মাদুশাঙ্কার বলে শান্ত সিঙ্গেল নিয়ে দলীয় স্কোর তিন অঙ্কের ঘরে নেন।
১৬৬ রানের লক্ষ্য তাদের সামনে। এরই মধ্যে লিটন দাস ও সৌম্য সরকার আউট হয়েছেন। তবে বাংলাদেশ সহজেই লক্ষ্যে ছুটছে।
সৌম্যর পর পাথিরানার শিকার লিটন
মাথিশা পাথিরানা টানা দুই ওভারে উইকেট পেলেন। প্রথমে সৌম্য সরকারকে, পরে লিটন দাসকেও ফেরালেন শ্রীলঙ্কার পেসার। ৬৮ ও ৮৩ রানে দুই ওপেনারের বিদায় দেখলো বাংলাদেশ। স্কয়ার লেগে লিটনের দারুণ ক্যাচ নেন চারিথ আসালাঙ্কা। ২৪ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৩৬ রানে থামলেন ডানহাতি ব্যাটার।
শক্ত জুটি গড়ে সৌম্যর বিদায়
সৌম্য সরকার শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে বিদায় নিলেন। সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে মাথিশা পাথিরানার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় হয়। মিডউইকেটে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ক্যাচ হন বাংলাদেশি ওপেনার। ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য করেন ২২ বলে ২৬ রান। ৫ চার ছিল তার ইনিংসে।
পাওয়ার প্লেতে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত বাংলাদেশ
প্রথম ৬ ওভারের খেলা শেষ। ১৬৬ রানের লক্ষ্যে নামা বাংলাদেশ কোনও উইকেট না হারিয়ে করেছে ৬৬ রান। সৌম্য সরকার ও লিটন দাসের ব্যাটে শক্ত জবাব দিচ্ছে বাংলাদেশ। লিটন ৩১ ও সৌম্য ২৫ রান করে অপরাজিত আছেন।
সৌম্য জীবন পেলেন, আম্পায়ারকে ঘিরে ধরলো শ্রীলঙ্কা
দারুণ শুরুর পর চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ভাঙতে বসেছিল বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। সৌম্য সরকারের বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আবেদন জানায় শ্রীলঙ্কা। আম্পায়ার গাজী সোহেল আউট দিলে সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন বাংলাদেশি ওপেনার। আল্ট্রা এজে বলে স্পাইক দেখে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু থার্ড আম্পায়ারের মতে, বল ও ব্যাটের মাঝে সূক্ষ্ম ফাঁক ছিল। মাঠের আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বলেন থার্ড আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল। চোখেমুখে বিস্ময় নিয়ে আম্পায়ারকে ঘিরে ধরেন চারিথ আসালাঙ্কারা। মিনিটখানেক যুক্তিতর্কের পর পরের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
লিটন-সৌম্যর ব্যাটে দারুণ শুরু বাংলাদেশের
১৬৬ রানের লক্ষ্যে নেমে তিন ওভার পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করছে। দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার বল বুঝে বাউন্ডারি মারছেন।
তিন ওভারে ২৮ রান জমা হয়েছে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে।
সিরিজ বাঁচাতে ১৬৬ রান করতে হবে বাংলাদেশকে
প্রথম ম্যাচে ২০৭ রানের লক্ষ্যে নেমে দারুণ লড়াইয়ে জয়ের আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার রানের লাগাম টেনে ধরতে পেরেছেন শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদরা। ৫ উইকেটে সফরকারীরা করেছে ১৬৫ রান। সিরিজে টিকে থাকতে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৬৬ রান।
টসে জিতে আবারও শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। তাসকিন তার প্রথম ওভারে আভিষ্কা ফার্নান্ডোকে ফেরান। প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ৮ রান দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু পাওয়ার প্লের বাকি তিন ওভারে খরুচে ছিলেন তাসকিন ও মোস্তাফিজ। ১ উইকেট হারিয়ে ৬ ওভারে ৪৯ রান তোলে লঙ্কানরা।
কুশল মেন্ডিস ও কামিন্দু মেন্ডিস তৃতীয় উইকেটে শক্ত জুটি গড়েন। সৌম্য সরকারের বোলিংয়ে ব্রেকথ্রুর দেখা পায় বাংলাদেশ। ৬৬ রানের এই জুটি ভাঙতে স্বস্তি ফেরে। কুশল ২২ বলে ৩৬ রান করে লিটনের ক্যাচ হন। ১০ রানের ব্যবধানে আরেকটি উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। মেহেদী হাসানের নিয়ন্ত্রিত থ্রোতে রিশাদ হোসেন নন স্ট্রাইকে ভেঙে দেন স্টাম্প, রান আউট হন কামিন্দু। তার ২৭ বলে ৩৭ রান লঙ্কানদের ইনিংস সেরা।
প্রথম ওভারে ১৫ রান দেওয়া মোস্তাফিজুর রহমান ১৩তম ওভারে ফিরে উইকেটের দেখা পান। সাদিরা সামারাবিক্রমাকে (৭) ফিরতি ক্যাচে মাঠছাড়া করেন বাঁহাতি পেসার। চারিথ আসালাঙ্কা ছোট্ট ঝড় তোলার পর আর বেশিদূর যেতে পারেননি। মেহেদীর বলে বোল্ড হন ১৪ বলে ২৮ রান করে। ১৪তম ওভারে ১১২ রানে ৫ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
ডেথ ওভারে খরুচে ছিলেন মোস্তাফিজ। ১৮তম ওভারে ১২ রান দেন তিনি। শেষ তিন ওভারে ২৮ রান দেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ ওভারে মেহেদী ক্যাচ না ফেললে আরেকটি উইকেট পেতো স্বাগতিকরা। দাসুন শানাকা তার হাত ফসকে জীবন পান। ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ার পথে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। তার ২১ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার।
ঝড় তুলে মেহেদীর বলে থামলেন আসালাঙ্কা
শ্রীলঙ্কার চার উইকেট পড়ার পর ঝড় তুলেছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা। মেহেদী হাসানকে দুটি ছক্কা মারেন অধিনায়ক। ওই ওভারেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয় তাকে। ১৪ বলে ১ চার ও ৩ ছয়ে ২৮ রান করে বোল্ড হন আসালাঙ্কা। ১১২ রানে ৫ উইকেট পেলো বাংলাদেশ।
সাদিরাকে ফেরালেন মোস্তাফিজ
প্রথম ওভারে ১৫ রান দেওয়া মোস্তাফিজুর রহমান ১৩তম ওভারে আবার বল হাতে নেন। দ্বিতীয় বলেই পেয়ে গেলেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। সাদিরা সামারাবিক্রমা তার হাতে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন। আগের ম্যাচে ৬১ রান করেছিলেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটার। এবার ১১ বল খেলে মাত্র ৭ রান করেছেন সাদিরা। ৯২ রানে চতুর্থ উইকেট পেলো বাংলাদেশ।
১০ রানের ব্যবধানে কুশল-কামিন্দুকে ফেরালো বাংলাদেশ
সৌম্য সরকারকে বল দিয়ে ব্রেকথ্রুর দেখা পেলো বাংলাদেশ। কামিন্দু মেন্ডিস ও কুশল মেন্ডিসের ৬৬ রানের জুটি ভেঙে দিলেন বাংলাদেশি বোলার। ২২ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ৩৬ রান করে লিটন দাসের ক্যাচ হন কুশল।
পরের ওভারে কামিন্দুকে আউট করে স্বস্তি ফেরায় বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেনের বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে নন স্ট্রাইকারে রান আউট হন লঙ্কান ব্যাটার। আগের বলে ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। মেহেদী হাসানের থ্রোতে বল হাতে নিয়ে স্টাম্প ভাঙেন রিশাদ। ২৭ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৩৭ রান করেন কামিন্দু। ৭৭ রানে ৩ উইকেট পেলো বাংলাদেশ।
পাওয়ার প্লেতে ৪৯ রান দিলো বাংলাদেশ
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আভিষ্কা ফার্নান্ডোকে ফিরিয়ে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ তাকে শূন্যতে বিদায় করার পরের ওভারে কামিন্দু মেন্ডিস ও কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে নাস্তানাবুদ হন। চতুর্থ ওভারে ১৭ রান করে শ্রীলঙ্কা। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান দেন ১৫ রান। এই দুই ওভারে বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৪৯ রান করেছে শ্রীলঙ্কা, এক উইকেট হারিয়ে। অথচ প্রথম তিন ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়েছিল স্বাগতিকরা।
চতুর্থ ওভারে খরুচে তাসকিন
নিজের প্রথম ওভারে আভিষ্কা ফার্নান্ডোকে মাঠছাড়া করেন তাসকিন আহমেদ। তবে পরের ওভারে তার ছয় বল থেকে ১৭ রান তুলে নিলেন কামিন্দু মেন্ডিস ও কুশল মেন্ডিস। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে খরুচে বাংলাদেশের এই পেসার। ৪ ওভারে ১ উইকেটে ২৫ রান শ্রীলঙ্কার।
তাসকিন ভাঙলেন উদ্বোধনী জুটি
প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও আভিষ্কা ফার্নান্ডো ব্যর্থ। ৭ বল খেলে কোনও রানই করতে পারলেন না শ্রীলঙ্কার ওপেনার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে তাসকিন আহমেদের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন তিনি। এক রানে প্রথম উইকেট পেলো বাংলাদেশ।
প্রথম ওভারে শ্রীলঙ্কাকে রান করতে দেননি শরিফুল
বোলিংয়ে দারুণ শুরু হলো বাংলাদেশের। উইকেট না পেলেও প্রথম ওভারে শ্রীলঙ্কাকে কোনও রান নিতে দেননি শরিফুল ইসলাম।
টসে জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে টস জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের মতো এবারও বোলিং নিয়েছে তারা। আগের ম্যাচে ৩ রানে হেরেছিল স্বাগতিকরা।
সিলেটে বুধবারের ম্যাচে বাংলাদেশ আগের একাদশ নিয়ে খেলছে। শ্রীলঙ্কা দলে একটি পরিবর্তন, দিলশান মাদুশাঙ্কা এসেছেন আকিলা ধনঞ্জয়ার জায়গায়।
বাংলাদেশ স্কোয়াড: সৌম্য সরকার, লিটন দাস (উইকেটকিপার), নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ, জাকের আলী, মেহেদী হাসান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান।
শ্রীলঙ্কা স্কোয়াড: আভিষ্কা ফার্নান্ডো, কুশল মেন্ডিস (উইকেটকিপার), সাদিরা সামারাবিক্রমা, কামিন্দু মেন্ডিস, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, দাসুন শানাকা, মাহিশ ঠিকশানা, দিলশান মাদুশাঙ্কা, বিনুরা ফার্নান্ডো, মাথিশা পাথিরানা।









