আনুষ্ঠানিকভাবে তিন ফরম্যাটের নেতৃত্ব পাওয়ার আগে নিয়মিত অধিনায়কদের অনুপস্থিতিতে ১১টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিন ফরম্যাটে তার নেতৃত্বে তিনটি জয়ে এসেছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে এক বছরের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিলেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হার দিয়ে শুরু হয় তার। অধিনায়ক নিজেও ব্যাট হাতে কোনও ভূমিকা রাখতে পারেননি। প্রবল চাপ নিয়েই বুধবার লঙ্কানদের বিপক্ষে মাঠে নামেন। চাপকে জয় করে দারুণ এক ইনিংস খেলে শেষ ম্যাচটিকে অলিখিত ফাইনাল বানিয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছেন। সবমিলিয়ে অধিনায়ক শান্তর নতুন শুরু বলাই যায়!
চাপের পাহাড় ছিল কাঁধে। বিপিএলে কোনও ভূমিকা রাখতে পারেননি তিনি। আগের ৭ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও রান খরায় ভুগেছেন, রান ছিল মাত্র ৯৪! এর মধ্যে লঙ্কান সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২২ বলে ২০ রান করে দলকে চাপে ফেলেছিলেন তিনি নিজেই। সবকিছু মিলিয়ে বিস্তর চাপ সঙ্গী করেই বুধবার খেলতে নেমেছিলেন। কিন্তু কঠিন এই চাপটাকে যে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলেন তিনি। দারুণ অধিনায়কত্বের পাশাপাশি আগ্রাসী রূপে ব্যাটিংও করেছেন। ব্যাটিং নিয়ে শুরুতে একটু অস্বস্তি দেখা গেলেও সময় বাড়ার সঙ্গে মুখের হাসিটা চওড়া হয়েছে তার। সংবাদ সম্মেলন কক্ষেও এলেন হাসিমুখে। গলার সমস্যায় ভোগা শান্তর খসখসে কণ্ঠস্বরেও তৃপ্তিমাখা সুর।
দল ও নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে, ক্রিকেটারদের নিয়ে শান্তর বলা প্রতিটি কথাতেই ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ম্যাচ সেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেই শুরুতেই জানালেন আনন্দের অনুভূতির কথা, ‘প্রথমে ভালোই লাগছে। ম্যাচ জিততে পেরেছি। আমার মনে হয় দুইটা ম্যাচই আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগের ম্যাচটা জিততে পারিনি। যেভাবে আমরা সবাই দল হিসেবে খেলতে পেরেছি খুবই খুশি। হ্যাঁ, বিপিএলটা ভালো যায়নি। চেষ্টা করছি ব্যাটিংয়ে যে ঘাটতি ছিল সেটা নিয়ে কাজ করার। আজকে একটু ভালো হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। চেষ্টা করবো সামনে এটা ধরে রাখার।’
ম্যাচ শুরু ঘণ্টাখানেক আগে নতুন ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্পকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলগত কিছু কাজ করেছেন শান্ত। ওই অনুশীলনের পরই শান্তর কাছ থেকে এলো দারুণ এক ইনিংস। অনুশীলনে কী চেষ্টা করছেন, সেটি জানাননি তিনি, ‘আমি ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছিলাম। কী নিয়ে কাজ করছিলাম তা বলতে চাই না, টেকনিক্যাল বিষয়। কাজ করাতে যে আজকের (বুধবার) ম্যাচে ফল এসেছে এমন কিছু না। অনেক দিন থেকেই একটা জিনিস ঠিক করার চেষ্টা করছি। আরও একটু ভালো করতে হবে।’
অধিনায়ক হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করে চলছেন শান্ত। অধিনায়কের দায়িত্ব কেবল ব্যাট-বলে পারফরম্যান্স কিংবা বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং পরিবর্তন নয়। সতীর্থদের কাঁধে আস্থার হাত রাখাও জরুরি। শান্ত এই কাজটা ঠিকমতোই করছেন। আগের ম্যাচে মোস্তাফিজুর রহমান শেষ ওভারে ২৪ রান দেওয়ার পর ওই ম্যাচ তিন রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তারপরও একাদশে পরিবর্তন আনেনি অধিনায়ক। একাদশ পরিবর্তনের কথা একবারের জন্যও ভাবেননি বলে জানিয়েছেন শান্ত, ‘আমার মনে হয় এটা (আতঙ্কিত না হওয়া) খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রথম ম্যাচে ভালো ক্রিকেটই খেলেছি, মাত্র ৩ রানে হেরেছি। সবাই দলের জন্য চেষ্টা করেছে। তাই খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফ কেউ অযথা চিন্তা করেনি। আমার মনে হয় সেই বিশ্বাসটা এ ম্যাচে কাজে দিয়েছে।’
শুধু তাই নয় ঘরোয়া ক্রিকেটে লেগ স্পিনারদের খেলার সুযোগ খুব একটা হয় না। এই কারণে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য সেভাবে প্রস্তুত হতে পারে না। জাতীয় দলে জুবায়ের হোসেন থেকে শুরু করে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব হয়ে রিশাদ হোসেন এসেছেন, কেউই টিকতে পারেননি। রিশাদ কতদিন টিকতে পারে সেটাই এখন দেখার। তবে অধিনায়ক যখন কাঁধে হাত রাখেন, তার জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়, ‘ওর জন্য কাজটা অনেক কঠিন, কারণ সে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় না। ওর জন্য এটা দুর্ভাগ্যজনক, জানি না কেন এমনটা হয়। সে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে ভালো করেছে, ও সেরা সেরা সব আন্তর্জাতিক ব্যাটারের বিপক্ষেই বল করেছে। সে আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করার চেষ্টা করে, আশা করছি ঘরোয়াতে সে নিয়মিত বোলিং করবে।’
ডেথ ওভারের বোলিং পরিকল্পনাতেও সফল ছিলেন শান্ত। গত ম্যাচে শেষের বোলিংয়ের কাছেই মূলত পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে শান্ত তার বোলারদের ঠিকঠাক ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়েন। শেষ ৪ ওভারে কোনও উইকেট তুলে নিতে না পারলেও কম রান দেন শরিফুল-মোস্তাফিজ জুটি। ডেথ ওভারের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে অধিনায়ক শান্ত বলেছেন, ‘আমার মনে হয় প্রথম ম্যাচের পর আমাদের খুব ভালো প্ল্যানিং হয়েছে। আমরা কীভাবে কী করতে চাই। খুব ভালো ছিল। বোলাররা খুব ভালোভাবে প্ল্যান কাজে লাগিয়েছে। সবাই পরিষ্কার ছিল যে তারা কী করতে চায়। অইটাই আমাদের কাজে দিয়েছে। সবাই সবার প্ল্যান কাজে লাগিয়েছে। ’









