বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স এনালিস্ট হিসেবে এক সময় কাজ করেছেন শ্রীনিবাসন চন্দ্রশেখর। বুধবার ম্যাচ চলাকালীন সামাজিক মাধ্যমে মুশফিককে নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে লিখেছেন ‘কীভাবে হাসারাঙ্গাকে খেলবেন? যোগাযোগ- মুশফিকুর রহিম।’ ম্যাচ জিতে আসা মুশফিককে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানাতেই তিনি অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন। পরে অবশ্য হাসারাঙ্গাকে সফলভাবে খেলার রহস্য জানিয়েছেন তিনি।
লঙ্কান লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বিপক্ষে বেশ সফল মুশফিক। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বুধবারের ম্যাচেও মুশফিকের কাছে লঙ্কান স্পিনার পাত্তা পাননি। মুশফিক লঙ্কান এই লেগ স্পিনারের বিপক্ষে এতটাই ভালো খেলেন যে, কখনও আউট হননি! পরিসংখ্যানও সেটাই বলছে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে হাসারাঙ্গার ১০০ বল খেলেও আউট হননি কেবল মুশফিক, ডেভিড ওয়ার্নার ও শাই হোপ। এমন সাফল্যের পর বুঝতে বাকি থাকে না, হাসারাঙ্গার লেগস্পিনের সব কিছুই জানা মুশফিকের।
বুধবার ২৫৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ১৬৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয় ছিনিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ৭৩ রানের ইনিংসে মুশফিক মেরেছেন ৮টি চার। তার মধ্যে তিনটিই হাসারাঙ্গার বলে।
শ্রীনিবাসনের মন্তব্য মনে করাতেই মুশফিককে বলে উঠেন, ‘কবে করেছে ভাই এটা?’ যখন বলা হয়, ‘আজই’, মুশফিকের অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠে সাফল্যের তৃপ্তির হাসি, ‘হাহাহাহা… না, তেমন কিছু না।’
এরপরই মূল ব্যাখায় চলে যান মুশফিক, ‘আমার কাছে মনে হয় স্বাভাবিক। কিছু বোলার বলেন বা নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষ, অনেক সময় থাকে আপনি যদি ওদের সঙ্গে খেললে আত্মবিশ্বাসী থাকেন। আবার অনেকে আছে ওর বলে বারবার আউট হয়ে যায়। ওরকম স্পেশাল কিছু না। ও যেটা করে আমি পিক করে ফেলি। এটাই আর কিছু না। সে আউটস্ট্যান্ডিং এবং ইমপ্যাক্টফুল বোলার। সে যত কম ইমপ্যাক্ট ফেলবে আমাদের জন্য তত ভালো। যখনই সুযোগ পাই ওর বিপক্ষে, আমি কমফোর্টেবল ফিল করি।’
মুশফিক আরও যোগ করে বলেছেন, ‘কেউ ফ্লিপার করবে, কেউ গুগলি করবে, কেউ লেগ স্পিন করবে। সব বল হাত দেখে পিক করা যায় না। সুইপ অপশন যদি থাকে, কাজটা সহজ হয়ে যায়। ভালো বলে স্কোরিং অপরচুনিটি থাকলে ব্যাটারের চাপ কমে যায়। ফিল্ড সেটআপ বদলে যায়, বোলারের চাপ বেড়ে যায়।’









