প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডে আর জেতা হয়নি, বেড়েছে অপেক্ষা। টস হেরে ব্যাটিং করতে হয়েছে আগে। ফলে পরে বোলিং করে শিশিরের কারণে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ২৮৭ রানও সহজ হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার জন্য। তবে সোমবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি হবে দিনের বেলায়। ফলে কোনও দলের খেলাতে শিশিরের প্রভাব থাকবে না। বাংলাদেশ এই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে চায়।
শুক্রবার ম্যাচ খেলে ক্রিকেটাররা হোটেলে ফিরতে ফিরতে গভীর রাত করেছে। এই কারণে শনিবার অনুশীলনের সূচি রাখেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। আজ সারা দিন হোটেলে বসেই কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। কেউ কেউ হোটেলের আশপাশেও ঘুরে বেরিয়েছেন। রবিবার অবশ্য অনুশীলন রয়েছে। একবেলা অনুশীলন করেই সিরিজ জয়ের মিশনে সোমবার সকাল দশটায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
শনিবার তানজিম হাসান সাকিব বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা মাঠে নামবো জেতার জন্য এবং আমরা চাইবো এই সিরিজ যাতে জিততে পারি। গত ম্যাচে আমাদের হাতে একটা সুযোগ ছিল, আমরা সেটা কাজে লাগাতে পারিনি। শেষের ম্যাচটা আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলবো, যাতে জয়লাভ করতে পারি ইনশাআল্লাহ। সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’
প্রথম ম্যাচে শিশিরের প্রভাব ছিল। শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাটিং করে ২৫৫ রান করে। সেই রান সহজেই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। লঙ্কানরা পরে বোলিং করে শিশিরের কারণে সমস্যায় পড়েছিল। গত ম্যাচেও পরে বোলিং করা দলের একই অবস্থা। তবে এবার ভুগলো বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা আগে ব্যাটিং করে লঙ্কানদের ২৮৭ রানের লক্ষ্য দেয়। এই লক্ষ্যটা সহজেই ছুঁয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। বলা যায়, দারুণ বোলিং সত্ত্বেও শিশিরই জিততে দেয়নি বাংলাদেশকে। তৃতীয় ম্যাচটি হবে দিনে। সন্ধ্যার মধ্যেই খেলা শেষ হয়ে যাবে। ফলে শিশির নিয়ে ভয় নেই কারও।
এ প্রসঙ্গে জুনিয়র সাকিব বলেছেন, ‘দিনের ম্যাচে বোলাররা তাদের শতভাগ দিতে পারবে এবং দুই দলের জন্য বিষয়টা সমানই হবে। উইকেটের কন্ডিশন বলেন, আউটফিল্ডের কন্ডিশন বলেন। দুই দল সবকিছু সমানভাবে পাবে বলে মনে হয়। বোলাররা যদি ভালো জায়গায় বোলিং করতে পারে, তাহলে উইকেট থেকে সহায়তা পাবে এবং কন্ডিশন থেকে বোলাররা সমর্থন পাবে। শিশির থাকলে হয় কী, বোলাররা বল ধরতে পারে না বা ব্যাটে খুব সহজে চলে যায়।’
বাংলাদেশকে হারিয়ে দিয়েছে মূলত শ্রীলঙ্কার ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও চারিথ আসালাঙ্কার জুটি। চতুর্থ উইকেটে তারা দুইজন মিলে গড়েন ১৮৫ রানের জুটি। গতকালকের ম্যাচ নিয়ে সাকিব বলেছেন, ‘কালকে (শুক্রবার) উইকেট কিন্তু তুলনামূলক ভালো ছিল অনেক। শেষের দিকে একটু শিশির পড়ছিল। বল ব্যাটে সহজেই যাচ্ছিল। তারপরও আমরা... ওই একটা জুটি ম্যাচটা একটু কঠিন করে দিয়েছিল। আমরা একটা বেকথ্রুর আশা করছিলাম। ওরা খুব ভালো ব্যাটিং করছে, বলা যায়। আসালাঙ্কা ও নিসাঙ্কা অনেক ভালো ব্যাটিং করছে। আমার মনে হয়, এটা ডিফেন্ড করতে পারতাম, যদি ওই সময় একটা ব্রেকথ্রু দিতে পারতাম।’
ব্যাটিংয়ে তাওহীদ হৃদয়কে দারুণ সাপোর্ট দিয়ে সাকিব আগলে রেখেছিলেন একপ্রান্ত। সপ্তম ব্যাটার হিসেবে প্রমোদ মাদুশানের বলে ফেরার আগে ৩৩ বলে ১ চার করেন ১৮ রান। যদিও আরও ভালো করতে পারেননি বলে আক্ষেপে পুড়ছেন তিনি, ‘যখন ব্যাটিংয়ে নামি, আমার চেষ্টা ছিল হৃদয় (তাওহীদ) ভাইকে সাপোর্ট দেবো। শেষের দিকে আমি একটু চার্জ করবো। আমি হৃদয় ভাইকে সাপোর্ট দিচ্ছিলাম, কিন্তু আমি যে শটে আউট হয়েছি আমি আসলে সন্তুষ্ট না। আমার মনে হয়েছে, যদি আরও ২ ওভার হৃদয় ভাইকে সাপোর্ট দেওয়ার পরে শেষের ২ ওভার চার্জ করতাম, আমরা আরও একটু বেশি রান করতে পারতাম, দলের জন্য আরও অবদান রাখতে পারতাম।’









