দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে, প্রথম টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ ওভারে ১১৯/৫ (বিশ্ব ২*, ধনাঞ্জয়া ২৩*; দিমুথ করুণারত্নে ৫২, নিশান মাদুশকা ১০, কুশল মেন্ডিস ৩, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ২২, দিনেশ চান্ডিমাল ০), শ্রীলঙ্কার লিড ২১১ রান।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৫১.৩ ওভারে ১৮৮/১০ (রানা ০*; জাকির ৯, শান্ত ৫, মুমিনুল ৫, জয় ১২, শাহাদাত ১৮, লিটন ২৫, তাইজুল ৪৭, মিরাজ ১১, শরিফুল ১৫, খালেদ ২২)।
শ্রীলঙ্কা ৬৮ ওভারে প্রথম ইনিংসে ২৮০/১০ (রাজিথা ৬*; মাদুশকা ২, মেন্ডিস ১৬, করুণারত্নে ১৭, ম্যাথুজ ৫, চান্ডিমাল ৯, কামিন্দু ১০২, ধনাঞ্জয়া ১০২, প্রবাথ ১, ফার্নান্ডো ৯, কুমারা ০)
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও বোলারদের দাপট দেখা গেলো। আগের দিন পড়েছিল ১৩ উইকেট। শনিবার দুই দল মিলিয়ে হারালো ১২ উইকেট! শ্রীলঙ্কার ২৮০ রানের জবাবে বাংলাদেশ মাত্র ১৮৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। দিন শেষে সেই লিড লঙ্কানরা বাড়িয়ে নিয়েছে ২১১ রানে। যদিও চা বিরতির পর চার উইকেট নিয়ে শেষ সেশনটা নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ১১৯ রানে তৃতীয় দিন খেলতে নামবে শ্রীলঙ্কা।
৩ উইকেটে ৩২ রানে দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে মাঠে নামা তাইজুল ইসলামই স্বাগতিকদের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। ৮০ বলে ৬ চারে ৪৭ রান করেন তিনি। এছাড়া লিটন দাস ২৫ ও খালেদ আহমেদ ২২ রানের উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেন।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন বিশ্ব ফার্নান্ডো। তিনটি করে উইকেট পান কাসুন রাজিথা ও লাহিরু কুমারা।
৯২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে নাহিদ রানার তোপের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। নিশান মাদুশকা (১০) ও কুশল মেন্ডিস (৩) তার শিকার হন।
এরপর অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (২২) ও দিনেশ চান্ডিমালকে (০) ফেরান তাইজুল ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
৬৪ রানে চার উইকেট পড়ার পর ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন দিমুথ করুণারত্নে। ফিফটিও করেন লঙ্কান ওপেনার। তারপরই শরিফুল ইসলামের বলে তিনি বিদায় নেন। ৪৯ রানের জুটি ভেঙে গেলেও ততক্ষণে লিড দুইশ রানের। ১০১ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৫২ রান করেন করুণারত্নে। ১১৩ রানে ৫ উইকেট পড়ে লঙ্কানদের।
ধনঞ্জয়া ও বিশ্ব ৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেন। ২৩ রানে ধনঞ্জয়া ও ২ রানে বিশ্ব অপরাজিত ছিলেন।
লিড দুইশ পার করে আউট করুণারত্নে
প্রতিরোধ গড়ে লিড দুইশ পার করেন দিমুথ করুণারত্নে। ৩২তম ওভারের প্রথম বলে শরিফুল ইসলামকে চার মেরে ফিফটিও করেন তিনি। তার তিন বল পর নাহিদ রানাকে ক্যাচ দিয়ে বাংলাদেশি পেসারের শিকার হন শ্রীলঙ্কার ব্যাটার। ১০১ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৫২ রান করেন করুণারত্নে। ১১৩ রানে ৫ উইকেট হারালো সফরকারীরা। অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভার সঙ্গে করুণারত্নের জুটি ছিল ৩৯ রানের।
তাইজুলের পর মিরাজের আঘাত
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও দিমুথ করুণারত্নে। ২৮ রান যোগ করেছিলেন তারা। ম্যাথুজকে (২২) ফিরিয়ে জুটি ভেঙে লঙ্কানদের চাপে ফেলেছেন তাইজুল। পরের ওভারে রানের খাতা খুলতে না পারা দিনেশ চান্ডিমালকেও ফিরিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
ম্যাথুজ লিটনকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। আর চান্ডিমাল আউট হয়েছেন এলবিডাব্লিউতে। শুরুতে অবশ্য আম্পায়ার মিরাজদের আবেদনে সাড়া দেননি। পরে বাংলাদেশ রিভিউ নিলে মেলে সাফল্য।
রানার দ্বিতীয় শিকার কুশল মেন্ডিস
শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে উদ্বোধনী জুটিতে আঘাত হেনেছেন নাহিদ রানা। দলের ৩২ রানে দ্বিতীয় উইকেটও তুলে নিয়েছেন তিনি। দ্রুত দুই উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেছেন। নাহিদের দারুণ এক বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে ৩ রানে লিটনের গ্লাভসবন্দি হয়েছেন কুশল মেন্ডিস।
চা বিরতির আগে ব্রেক থ্রু এনে দিলেন নাহিদ
প্রথম ইনিংসে ১৮৮ রানে অলআউট হলেও লঙ্কানদের শুরুতে চাপে ফেলার কৌশলে সফল বাংলাদেশ। চা বিরতির আগে ১৯ রানে ওপেনার মাদুশকাকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন নাহিদ রানা। তার বলে গ্লাভসবন্দি হয়ে ১০ রানে ফিরেছেন লঙ্কান ওপেনার। দ্বিতীয় সেশন শেষে লঙ্কানরা এগিয়ে ১১১ রানে।
এর আগে খালেদ আহমেদের পর পর দুই ওভারে দুটি ব্যর্থ রিভিউ নিয়েছে বাংলাদেশ। দুটি ক্ষেত্রেই ব্যাটার ছিলেন মাদুশকা। ইনিংসের প্রথম বলে রানআউটের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে।
১৮৮ রানে শেষ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতা সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। লঙ্কান বোলিংয়ে ১৮৮ রানে অলআউট হয়েছে তারা। তাতে সফরকারীরা লিড পেয়েছে ৯২ রানের।
অবশ্য লিডটা আরও বড় হতো, যদি না নবম উইকেটে দুই পেসার শরিফুল ও খালেদ দ্রুত গতিতে রান তুলতেন। ৩৫ বলে ৪০ রান যোগ করেছেন তারা।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন থেকে বাংলাদেশ কোনও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। আগের দিন ৩ উইকেট হারিয়ে খেলতে নামা স্বাগতিক দল ২২ রান যোগ করে হারায় ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের (১২) উইকেট।
প্রথম ঘণ্টায় জয়ের পর কিছুক্ষণ খেলে আউট হন শাহাদাত হোসেনও (১৮)। কঠিন বিপদের মুহূর্তে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন নাইটওয়াচম্যান তাইজুল। প্রান্ত আগলে খেলে গেছেন তিনি। লাঞ্চের আগে লিটনকে নিয়ে উপহার দেন সর্বোচ্চ ৪১ রানের জুটি। সম্ভাবনাময় এই জুটি লাঞ্চের আগে ভাঙে লিটনের (২৫) বিদায়ে। দলকে তার পরেও টেনে নিতে থাকেন তাইজুল। অবশেষে বিরতির পর তার প্রতিরোধ ভেঙেছেন রাজিথা। তাতে অল্পের জন্য ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। বিদায়ের আগে উপহার দিয়েছেন ইনিংসের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চও।
তাইজুলের বিদায়ের পরই মূলত প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে। মিরাজও (১১) থিতু হননি বেশিক্ষণ। দলের ১৪৭ রানে আউট হয়ে বিপদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে গেছেন। তাতে অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কাতেও পড়ে স্বাগতিক দল। সেখান থেকে শরিফুল-খালেদের জুটি দলের স্কোর প্রায় দুইশর কাছে নিয়ে গেছে। শরিফুল ২১ বলে দুই ছক্কায় ১৫ রানে আউট হলে ভাঙে দারুণ এই জুটি। তাদের প্রতিরোধ ভাঙতেই ১৮৮ রানে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস।
পেসার বিশ্ব ফার্নান্ডো ৪৮ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৩১ রানে তিনটি নিয়েছেন লাহিরু কুমারা। আজ প্রথম সেশনের তিনটি উইকেটই নিয়েছেন তিনি। তাছাড়া কাসুন রাজিথা ৫৬ রানে তিনটি শিকার করেছেন।
মিরাজের বিদায়ে পড়লো অষ্টম উইকেট
তাইজুলের আউটের পর প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে বাংলাদেশের। মিরাজও দলের বিপদে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারলেন না। রাজিথার বলে শট খেলতে গিয়ে ফার্নান্ডোকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১১ রানে।
অবশেষে তাইজুলের প্রতিরোধ ভাঙলেন রাজিথা
দ্বিতীয় দিন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের ব্যর্থতার মিছিলে লড়াই করছিলেন তাইজুল। প্রথম সেশনে নাইটওয়াচম্যান হয়েও প্রান্ত আগলে খেলছিলেন তিনি। লাঞ্চ বিরতির পর সেই তাইজুলের প্রতিরোধ ভেঙেছেন কাসুন রাজিথা।
রাজিথার বলে গ্লাভসবন্দি হওয়া তাইজুল অল্পের জন্য ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি মিস করেছেন। বিদায় নিয়েছেন ক্যারিয়ার সেরা ৪৭ রানে। তার ৮০ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার। তাইজুলের প্রতিরোধ ভাঙায় বিপদ আরও বেড়েছে বাংলাদেশের।
লাঞ্চের আগে আউট লিটন, একা লড়ছেন তাইজুল
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম দিনের ব্যাটিং ব্যর্থতা দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত থাকলো বাংলাদেশের। প্রথম ঘণ্টায় বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয় ও শাহাদাত হোসেন। তার পর লিটন-তাইজুলের ব্যাটে ভালো প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল। কিন্তু লাঞ্চের আগে লিটনকে ফিরিয়ে ৪১ রানের জুটি ভেঙে নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে লঙ্কানরা। প্রথম সেশনের তিনটি উইকেটই নিয়েছেন কুমারা।
৩৫তম ওভারে কুমারার ভেতরে ঢুকে পড়া বলে লিটন পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছেন। বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ২৫ রানে। তার ৪৩ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার। অথচ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে প্রান্ত আগলে লড়াই করছেন নাইটওয়াচম্যান তাইজুল ইসলাম। তিনি ৪১* রানে ব্যাট করছেন। সঙ্গে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ (২*)।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২৬ ওভারে তুলতে পেরেছে ১০০। লাঞ্চের বিরতিতে যাওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে তাদের স্কোর ৬ উইকেটে ১৩২ রান। তারা এখনও পিছিয়ে ১৪৮ রানে।
প্রথম ঘণ্টায় জয়ের পর সাজঘরে শাহাদাতও
প্রথম দিনের ধাক্কা সামাল দিতে ভালো জুটির প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু দ্বিতীয় দিন সেটা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম ঘণ্টাতেই দু’জন ব্যাটারকে হারিয়ে আরও বিপদে তারা। দিনের শুরুর দিকে ফিরেছেন আগের দিনের অপরাজিত মাহমুদুল হাসান জয়। নাইটওয়াচম্যান তাইজুল অবশ্য প্রান্ত আগলে নিজের লড়াইটা অব্যাহত রেখেছেন। তাকে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়েছিলেন নতুন ব্যাটার শাহাদাত হোসেন। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার ইনিংস। কুমারার দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন তিনি।
২১.৬ ওভারে লঙ্কান পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি বাড়তি বাউন্স পেয়েছিল। বল শাহাদাতের ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে প্রথম স্লিপে। তাতে ১৮ রানে থেমেছেন শাহাদাত।
নিজের প্রথম ওভারেই জয়কে ফেরালেন কুমারা
আগের দিনই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন দেখার ছিল মাহমুদুল হাসান জয় সেই বিপদ থেকে উদ্ধারে প্রতিরোধ গড়তে পারেন কিনা। কিন্তু নাইটওয়াচম্যান তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে বেশিক্ষণ টেকেনি তার প্রতিরোধ। সকালে নিজের প্রথম ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই জয়কে তৃতীয় স্লিপে তালুবন্দি করিয়েছেন লাহিরু কুমারা। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে এজ হয়ে জয় ১২ রানে সাজঘরে ফিরেছেন। তাতে ৪৬ বলে থেমেছে জয়ের লড়াই।
এর আগে ভালোই লড়ছিলেন জয়-তাইজুল। দু’জনে প্রথম ৫ ওভারে তুলেছেন ২১ রান। তাদের ব্যাটেই দলের স্কোর পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে।
জয়, তাইজুলকে নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু বাংলাদেশের
সিলেটে সিরিজের প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ইনিংসে ২৮০ রানে থামিয়ে দিতে পারলেও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। প্রথম দিনের শেষ বিকালে খেলতে নেমে টপের তিন উইকেট হারিয়ে চাপে রয়েছে। শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দিনের খেলা। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ৩২ রান।
গতকাল লঙ্কান পেসারদের তোপে বিদায় নিয়েছেন জাকির হাসান (৯), নাজমুল হোসেন শান্ত (৫) ও মুমিনুল হক (৫)। ক্রিজে আছেন নাইট ওয়াচম্যান তাইজুল ইসলাম (০) ও মাহমুদুল হাসান জয় (৯)। চাপ কাটিয়ে ওঠার আশায় খেলছেন তারা।









