টাইগারদের সামনে আবারও ভারত। এবারের এশিয়া কাপের প্রথম সাক্ষাতে হেরে গেলেও রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, ধোনিদের ফাইনালে হারিয়ে প্রথম কোনও বড় টুর্নামেন্টের ট্রফি ঘরে তুলতে সন্ধ্যায় মাঠে নামবে মাশরাফি-সাকিব-মুশফিকরা। পাকিস্তানকে হারিয়ে টাইগারদের ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই টক অফ দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে আজকের ম্যাচটি। সারাদেশের মত সে উত্তেজনায় কাঁপছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও।
ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের সব জায়গায় চলছে টাইগারদের পক্ষে যুক্তি, পাল্টা-যুক্তি। প্রতিটি হল, চায়ের দোকান, ক্লাস কিংবা টিএসসির আড্ডা সবখানেই আলোচনার বিষয় আজকের ফাইনাল ম্যাচ। দু'দলেরই শক্তিমত্তা আর দুর্বলতা নিয়ে চলছে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ। কেউ বলছেন টুর্নামেন্ট জুড়ে ভালো খেলে আসা মাশরাফি বাহিনীর সামনে টিকতে পারবে না ধোনিরা। আবার কেউ একটু সংশয় নিয়ে সমীহই করছেন ভারতকে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দিতে বেশকিছু হল ও ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। রবিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জিয়াউর রহমান হল, মাস্টার দা সূর্যসেন হল, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল, শহীদুল্লাহ হল ও ছাত্রীদের বেশ কয়েকটি হলে খেলা দেখানো হবে। এছাড়া টিএসসি ও মূল চত্ত্বরেও থাকছে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় বসানো এসব বড় পর্দায় খেলা দেখতে রাতভর থাকবে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের উপস্থিতি। আর তাতে কোনও ধরণের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন,‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতই বলবৎ থাকবে। তবে কোনও বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে সেদিকে নজর রাখা হবে। যারা খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করছে তাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।’
রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কথা হয় থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের সজীব রানার সঙ্গে। তিনি বলেন, ’অন্য যে কোনও সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো ক্রিকেট খেলছে। সবার মাঝেই এখন জয়ের তাড়না দেখা যায়। একদিন সাকিব খারাপ খেললে দেখা যায় সাব্বির ভালো খেলছে। আবার সাব্বির খারাপ খেললে সৌম্য ভালো খেলছে। কোনও নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে নয় বরং একটি দল হিসেবেই আমরা জিতছি। আশা করি সে জয় আজ একটি ট্রফি জয়ের মধ্যে দিয়েই পূর্ণতা পাবে।’
ফাইনালে সাব্বির রহমানের আরও একটি ভালো ইনিংসের প্রত্যাশা করে বায়োক্যামেস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আলম বলেন, ‘জাতীয় দলের খোলোয়াড়দের মধ্যে এখন সাব্বিরকেই আমার বেশি ভালো লাগে। শ্রীলংকার সঙ্গে সে ম্যাচ জেতানো একটি ইনিংস খেলেছে। আশা করি আজকেও তার ব্যাটেই জয় পাবে বাংলাদেশ।’
ফাইনালে টাইগারদের আরও একটি জয় দেখতে পুরো দেশ আজ অপেক্ষার প্রহর গুণছে। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালের দুঃসহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে থাকা টাইগাররা মাঠের খেলায় আবারও জ্বলে উঠে আনন্দের জোয়ারে ভাসাবে পুরো দেশকে তেমনটাই প্রত্যাশা টাইগার ভক্তদের।
/এমআর/








