টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশর পারফরম্যান্স বরাবরই হতাশাজনক। প্রতিবার ধারণা করা হয়, এই বুঝি সুসময় ফিরবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। কিন্তু বাস্তবে হয় ভিন্ন কিছু। দ্বি-পাক্ষিক সিরিজগুলো ভালো মন্দের মিশেলে কাটলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ময়দানে একরাশ হতাশাই উপহার দিয়েছেন তারা। অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে পাওয়া দুটি জয়-ই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। আগামী মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন। এবার যে পরিস্থিতি পাল্টাবে, তেমন কিছু আশাও করা যাচ্ছে না। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরেজর পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে। বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স যেমন হোক না কেন, সমর্থকদের সব সময় পাশে চান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
আগামী ৮ জুন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন। তার আগে কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তারা তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু পুঁচকে এই দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশ সিরিজ খুঁইয়েছে। এমন হারের পর নিশ্চিত ভাবেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস তলানীতে। এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল হয়ে গেছে ঝড়ের কারণে। ১ জুন ভারতের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালাই করে নেওয়ার শেষ সুযোগ পাবে শান্তর দল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিয়মিত ভাবে ক্রিকেটারদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা নিয়ে দ্যা গ্রিন রেড স্টোরি নামে ভিডিও প্রকাশ করেছে। বুধবার প্রকাশিত হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর ভিডিও। সেখানেই বিশ্বকাপের আগে ভক্তদের কাছে শান্ত অনুরোধ করেছেন, ‘দেশের বাইরে যখন ভক্ত-সমর্থকেরা সমর্থন দেন, এটা তো একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার। বাড়তি অনুপ্রেরণা। আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ যেভাবে ক্রিকেট অনুসরণ করেন, ক্রিকেটের পাশে থাকেন, অবশ্যই দলকে অনুপ্রাণিত করে। বাড়তি চাওয়া বলতে বিশ্বকাপের সময় এতটুকু চাইবো যে আল্লাহ না করুক, কোনও বাজে অবস্থায় যদি পড়ি, সে সময় তারা যেন দলের পাশে থাকেন। দলকে সমর্থন দেন।’
কয়েক মাস আগে তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক হিসেবে শান্তকে অধিনায়ক নির্বাচন করে বিসিবি। তাই শান্ত প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ইভেন্টে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চকর হলেও নেতৃত্ব উপভোগ করতে চান বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘আমার মনে হয় প্রত্যেকটা ক্রিকেটারেরই এমন স্বপ্ন থাকে যে প্রথমে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা। তারপর যদি আবার বিশ্বকাপের মতো একটা আসরে এ ধরনের সুযোগ আসে তাহলে তো ওই ক্রিকেটারের জন্য গর্বের বিষয়। অনেক রোমাঞ্চকর একটা মুহূর্ত আমার কাছে মনে হয়। পাশাপাশি আমার কাছে মনে হয় এই সময়টাকে উপভোগ করতে চাই। খুব বেশি অধিনায়ক হওয়া নিয়ে অনেক বেশি দায়িত্ব বেড়ে গেছে এভাবেও চিন্তা করতে চাই না। প্রত্যেকটা সময় উপভোগ করতে চাই। প্রত্যেকদিন দলকে যেন কিছু একটা দিতে পারি এটাই মূল লক্ষ্য থাকবে আর কি।’
শান্ত আরও বলেছেন, ‘দলের হয়ে প্রত্যেকদিন কনট্রিবিউট করতে চাই যে দায়িত্বটা আছে সেটা ঠিকভাবে পালন করতে চাই এটাই টার্গেট।’









