বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কোচ জাফরুল এহসান দীর্ঘদিন ধরেই মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন। সেই যুদ্ধে পরাজিত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়ার সঙ্গে জাফরুল লড়াই করছিলেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি কাজের বাইরে ছিলেন। চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন ভারতের চেন্নাইয়েও। সেখানে নানা জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় দুই মাস পর ফিরে আসেন। এরপর ঢাকাতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল সুস্থ হয়ে ক্রিকেটে ফেরার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ আর হলো না। ৪/৫ মাস আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘এখন তো উঠতে পারছি না। সুস্থ হয়ে ফিরতে চাই ক্রিকেট মাঠে। ওরা (ক্রিকেটাররা) তো আমাকে বলেছে মিস করছে। আমিও চাই ওদের সঙ্গে আরও কিছু সময় কাটাতে।’
সত্যিই আর উঠে দাঁড়াতে পারলেন না বাংলাদেশের প্রবীন এই কোচ। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। জাফরুল এহসানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক শোক বার্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাফরুলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
জাফরুল এহসান ২০০৬ সালে বিসিবির সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর বিভিন্ন ভূমিকায় ছিলেন বিসিবির সঙ্গে। এইচপির প্রধান কোচ ও ব্যাটিং কোচ ছিলেন ২০১৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচও ছিলেন তিনি। জাতীয় নারী দলের প্রধান কোচ ছিলেন ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল নাগাদ। জাফরুল এহসান বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।
লেভেল-৩ সার্টিফাইড কোচ জাফরুল এহসান ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এ ভিন্ন ভিন্ন দলের কোচিংয়েও যুক্ত ছিলেন।









