অস্ট্রেলিয়াতে পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষে তৃতীয় দিনেই প্রবল চাপে ছিল বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স ইউনিট (এইচপি)। দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচ জিততে হলে আজকে ১৬০ রানের মধ্যে পাকিস্তানের দলটির শেষ ৬ উইকেট তুলে নিতে হতো। কিন্তু এইচপির মূল বোলারদের ব্যর্থতায় হারের পথে ছিল এইচপি। খাদের কিনারে থাকার মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ওপেনার ব্যাটার মাহমুদুল হাসান! তবে ব্যাট হাতে নয়, বল হাতে পাকিস্তানের ব্যাটারদের কুপোকাত করেছেন তিনি। তার ফাইফারেই বাংলাদেশ ৫ রানের দারুণ এক জয় পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়াতে প্রথম চারদিনের ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছিল। জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচে মাঠে নেমে প্রথম দুইদিন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল এইচপির হাতেই। তৃতীয় দিনে দারুণ বোলিংয়ের পর ব্যাটিং করে ম্যাচটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় পাকিস্তান শাহিনস। রবিবার ২৯৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে দলটি ৪ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৩৬ রান। আজ ৬ উইকেট নিয়ে ১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামে। সকালের শুরুটা বেশ ভালো ভাবেই সামাল দেন হাসিবউল্লাহ ও তৈয়ব তাহির। ৩০ রানের জুটির পর হাসিবউল্লাহ হাফসেঞ্চুরি করে (৫১) আউট হন।
তার পরেও সমস্যা হয়নি শাহিনসের। ওমর বিন ইউসুফকে সঙ্গে নিয়ে তাহির দারুণ প্রতিরোধ গড়েন। তাদের করা ৬৫ রানের জুটিতে জয়ের সুবাস পেতে থাকে দলটি। ৪৩ রানের মাথায় জয়ের শিকারে পরিণত হন তাহির। এরপর স্কোরবোর্ডে আরও ৯ রান যোগ হতেই আবার ব্রেকথ্রু এনে দেন জয়। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পরও জয়ের পথেই ছিল পাকিস্তান। কিন্তু আনপ্রেডিকটেবল দলটি জিততে পারেনি। হাতে ৩ উইকেট রেখে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান। কিন্তু জয় ও হাসান মুরাদের ঘূর্ণিতে মাত্র ৩ রানের মধ্যে শেষ তিনটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হেরে যায় তারা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তিন বল করেছিলেন জয়। ছিলেন উইকেট শূন্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৬৯ বল করে তিন উইকেট শিকার করেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ তে ২০৯ বল করে ৫ উইকেট তার দখলে। সেই জয় ব্যাট হাতে নয়, বল হাতে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক। সোমবার তার ঘূর্ণিজাদুতে পাকিস্তান শাহিনের ইনিংস ভেঙে পড়ে। ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট নিয়েছেন। ১৩ ওভারের বোলিংয়ে ২১ রান খরচ করে শিকার করেছেন ৫টি উইকেট-ই। এছাড়া রেজাউর রহমান রাজা তিনটি এবং হাসান মুরাদ শিকার করেন দুটি উইকেট।
এর আগে জয় ও আইচ মোল্লার হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ২৫৮ রান করে বাংলাদেশ। পরে রিপন মন্ডল ও রেজাউলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৭৯ রানে গুটিয়ে যায় শাহিনস। ৭৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ২১৬ রান করলে জয়ের জন্য ২৯৬ রানের লক্ষ্য পায় পাকিস্তানের দলটি।









