তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ম্যাচে শেষবার খেলেছিলেন গত ওয়ানডে বিশ্বকাপেরও আগে। এরপর বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগ খেললেও অনেকদিন ধরে আছেন ক্রিকেটের বাইরে। দীর্ঘ সময় আড়ালে থাকলেও চলতি সপ্তাহে মিরপুর স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকাতে দেখা গেছে তাকে। ওইদিনের পর থেকেই আলোচনা, তামিম ক্রিকেটে ফিরবেন নাকি বোর্ড পরিচালনায়? এদিকে সাকিব আল হাসান বেশ কয়েক বছর ধরে অনিয়মিত পারফরম্যান্স করছেন! কোন ম্যাচ খেলবেন তিনি, কবে খেলবেন সিরিজ শুরুর আগেভাগে নিশ্চিত হওয়া যায়। সবকিছু মিলিয়ে তামিম ও সাকিবের ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বার্তা দিয়ে রাখলেন দেশের ক্রিকেট প্রধান হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেওয়া ফারুক আহমেদ।
বাংলাদেশের সেরা ওপেনার তামিম নানা সময়ে বলেছিলেন, উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই ক্রিকেটে ফিরবেন তিনি। নতুন সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর হয়তো সেই উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে। তামিম প্রসঙ্গ উঠতেই বিসিবির ১৫তম সভাপতি ফারুক বলেছেন, ‘এক্ষেত্রেও কিন্তু খেলোয়াড়ের চিন্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তামিম কী চিন্তা করছে, প্রথম তার সঙ্গে কথা বলা দরকার। এদিক-সেদিক না ঘুরিয়ে। তামিম খুব সেন্সেবল ছেলে। আমার মনে হয় ওয়ান অব দ্য বেস্ট উই হ্যাভ এভার প্রডিউসড ইন বাংলাদেশ।’
ফারুক চান তামিম অন্তত আরও দুই/তিন বছর ক্রিকেট খেলুক। তবে তার কথা, তিনি চাইলেই তো হবে না। তামিমের ফিটনেস ইস্যুটা এখানে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বললেন বোর্ড প্রধান, ‘আপনি যদি আমাকে বলেন, আমি দেখতে চাই তামিম আরও দুই তিন বছর খেলবে। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আমার ব্যক্তিগত অভিমতে কিন্তু কিছু যায় আসে না। ওর ফিটনেস টেস্ট হবে, টিমে আসতে হলে কী করতে হবে; যে বিভাগুলো আছে। সভাপতি হিসেবে অফ দ্য রেকর্ড যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি কিন্তু দেখতে চাই আরও দুই বছর ক্রিকেট খেলুক সে। আমি চাই আর কী।’
ইতোমধ্যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন তামিম। ওয়ানডে ও টেস্ট থেকে অবসর না নিলেও লম্বা সময় ধরে খেলার বাইরে আছেন তিনি। ফারুক মনে করেন তামিমের জন্য পারফেক্ট ফরম্যাট ওয়ানডে, ‘কোন ফরম্যাটে খেলবে, আমার মনে হয় ৫০ ওভার বেস্ট। লঙ্গার ভার্শন সবচেয়ে ভালো হতো অভিজ্ঞতাসহ, কিন্তু এটার যে কষ্ট; হয়তো ওর শরীর নিতে পারবে না। আমি জানি না। এটা তামিমই বলতে পারবে।’
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তামিম খেলায় না ফিরলেও তাকে ক্রিকেটে চান ফারুক। তিনি মনে করেন পরিচালক হিসেবে তামিম বোর্ডে আসলে দারুণ ব্যাপার হবে। তামিমের মধ্যে লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে বলে মনে করেন ফারুক, ‘খুব ভালো হয় যদি ও খেলতে পারে। আর যদি খেলতে না পারে, বোর্ডে আসে তাহলে আমি খুব খুশি হবো। কারণ আপনি দেখেন, তামিম আমার অন্তত বিশ বছরের ছোট হবে; যদি বেশি না হয়। কাছাকাছি হয়তো। সে সাবেক অধিনায়ক, তার মানে তার লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে।’
ফারুক আরও যোগ করে বলেছেন, ‘এসব ছেলে যত আসবে, তাদের যদি আমরা তাড়াতাড়ি কাজে লাগাতে পারি; তাহলে কিন্তু অনেক আইডিয়া আসবে; অনেক ভালো কিছু করতে পারবে। দেখি ওর সঙ্গে কথা বলে ব্যক্তিগতভাবে, ওর পরিকল্পনা কী, এভাবে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।’
শুধু তামিম নয়, সাকিবকে নিয়েও কথা বলেছেন ফারুক। গত কয়েক বছর ধরে এই অলরাউন্ডার বেছে বেছে নিজের ইচ্ছামতোই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে। ভবিষ্যতে এমন কিছুর সুযোগ থাকবে না। এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক বলেছেন, ‘সাকিবের ব্যাপারে পলিসি কী হওয়া উচিত, সেটা বোর্ডের সঙ্গে আলাপ করবো। সাকিব এখন যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থায় সে চালিয়ে যেতে পারবে কি না, বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করবো। আমাদের এখন দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। তারপরে কী হবে, সেটা তখন বোর্ডের একটা পলিসির ব্যাপার হবে।’
অতীতে দেখা গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে আইপিএলসহ অন্য ফ্যাঞ্চাইজির সূচি প্রায় সময়ই সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। টেস্ট খেলা নিয়ে সাকিবের কতটা অনীহা সেটা এক সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট হবে। ২০২১ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৪টি টেস্ট খেললেও সাকিব খেলেছেন ১২ ম্যাচ।
বাংলাদেশের জার্সিতে সাকিবকে নিয়মিত পাওয়া যাবে কি না, এই প্রশ্ন আসতেই ফারুক বিসিবির পলিসির কথা জানালেন, ‘এখন যদি বোর্ড থেকে বলে দেওয়া হতো যে তাকে (সাকিব) নিও না, তাহলে সেটা পলিসির ব্যাপার হতো। তখন সেই দায়িত্বটা বোর্ডের ওপর দিতো। নির্বাচনের বাইরে তাকে চিন্তা করবো। সাকিব বাইরে ঘুরে ঘুরে খেলতে পারবে কি না সেটা একটা ব্যাপার। সেটা আমরা ভালোভাবে দেখবো।’









