ভারত-বাংলাদেশ কানপুরে নামার আগে হুট করেই সাকিব আল হাসান টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন। নিরাপদে দেশ ছাড়ার নিরাপত্তা পেলে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ খেলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি অলরাউন্ডার। দেশের সেরা ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন রাজনৈতিক কারণেই সাকিব অবসরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তেমন কিছু নয় বলে জানালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার কথা, সাকিবের অবসরের সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া।
সোমবার কানপুরে টেস্টের চতুর্থদিন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন মিরাজ। সেখানেই সাকিবের অবসর প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সাকিব ভাই অনেক আগে থেকেই অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। উনি জানিয়েছিলেন কিভাবে উনি টেস্ট থেকে বিদায় নিতে চান। এটা এমন না যে, হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অনেক আগে থেকেই আমরা জানতাম। সাকিব ভাই টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আমাদের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও। সবার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা সবাই তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছি।’
রাজনৈতিক কারণে সাকিবের দেশে ফেরা এখন অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও আছে। তাই সাকিব দেশে এসে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ খেলতে পারলেও প্রয়োজনে দেশ ত্যাগ করতে পারবেন, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কানপুরে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছেন, ‘আমি যেন গিয়ে খেলতে পারি এবং নিরাপদ অনুভব করি। যখন দেশের বাইরে আসার দরকার হবে, দেশের বাইরে আসতেও যেন আমার কোনও সমস্যা না হয়। বোর্ড খেয়াল করছে। বিষয়গুলোর সঙ্গে যারা জড়িত, তারা দেখছেন। তারা হয়তো আমাকে একটা সিদ্ধান্ত দেবে, যেটার ভিত্তিতে আমি দেশে গিয়ে খুব ভালোভাবে খেলে অন্তত টেস্ট ফরম্যাটটা ছাড়তে পারবো।’
সাকিবের নিরাপত্তা প্রশ্নে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেছিলেন, ‘আমি কোনও এজেন্সি না, পুলিশ বা র্যাব না। কিংবা বিসিবিও এখানে কেউ না। এটা সরকারের তরফ থেকে নিরাপত্তার বিষয়টা আসতে হবে। নিরাপত্তাটা দুই রকম। একটা হচ্ছে, ‘ক্লিয়ারিং ফ্রম’ (দেশ ছাড়ার)। এটা হয়তো আপনাদের বলেছে। আরেকটা হলো দর্শকদের থেকে নিরাপত্তা। এটা আসলে তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা এখানে পার্ট হতে পারবো না আসলে। এই মুহূর্তে বোর্ড থেকে এ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব না। বোর্ড ব্যক্তিগতভাবে কাউকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না আসলে। সেই অ্যাবিলিটিও নেই।’
এদিকে একদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সাকিবের নিরাপত্তা নিয়ে আসিফ বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিপক্ষে জনমনে তৈরি হওয়া ক্রোধের বিপরীতে নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া অবান্তর। তবে খেলোয়াড় সাকিবের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আছে।’
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ঘরের মাঠে সাকিবের শেষ টেস্ট খেলার স্বপ্ন পূরণ হবে তো? মিরাজ আশাবাদী, ‘যেহেতু তিনি (সাকিব) একটা স্বপ্নের কথা বলেছেন, দেশের মাটিতে শেষ করতে চেয়েছেন। এখানে একটা ইস্যু আছে (নিরাপত্তা সংক্রান্ত)। এটার এখন ক্লিয়ারেন্স দেয়নি। কীভাবে করবে না করবে, তারা চিন্তা করবে। তিনি যদি ক্লিয়ারেন্স পান, যদি যেতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশেই শেষ হতে পারে।’








