বাংলাদেশে হওয়ার কথা ছিল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে শেষ পর্যন্ত সরে গেছে মধ্যপ্রাচ্যে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে ১০ দলের এই প্রতিযোগিতা। দেশের বাইরে খেলা হলেও আয়োজক হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশ খেলবে উদ্বোধনী ম্যাচ, প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। এবারের আসরটি স্মরণীয় করে রাখার প্রত্যয় নারী দলের।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপ প্রথম আসরে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ওইবার দুটি ম্যাচ জিতলেও পরে ১৬ ম্যাচ খেলে একটিও জিতেনি। এবার বড় স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে গেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
বুধবার সন্ধ্যায় বিসিবির ভিডিও বার্তায় নিগার বলেছেন, ‘আমি বলবো পুরো দলের জন্য অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, আমরা যতগুলো বিশ্বকাপ খেলেছি; ২০১৪ ছাড়া বলার মতো তেমন কিছু করতে পারিনি। আমাদের জন্য এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, আমরা চাই যেন এই বিশ্বকাপটা স্মরণীয় হয়।’
প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করতে চায় লাল সবুজ জার্সিধারীরা, অধিনায়ক বললেন, ‘আমি বলবো যে খুবই হতাশাজনক। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই দুঃখ এবার ঘোচাতে চাই। যেন আমাদের এই দুঃখ আর না থাকে। শুরুটা করতে চাই আগামীকালকের (বৃহস্পতিবার ম্যাচ দিয়ে।’
মূল পর্বে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারলেও পাকিস্তানকে হারিয়েছে তারা। প্রস্তুতির ম্যাচের কথা উল্লেখ করে নিগার বলেছেন, ‘আমি বলবো যে আমাদের দল যেভাবে খেলে এসেছে, শেষ ওয়ার্ম আপ ম্যাচটা যেভাবে খেলেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সবাইকে একটা ভালো গড়নে দেখেছি। সবার ভেতর যে প্রাণচাঞ্চল্য বা ম্যাচ জেতার যে ক্ষুধা ছিল, প্রত্যেকটা খেলোয়াড় যেভাবে একজন আরেকজনকে মাঠে সমর্থন দিয়েছে, তা অসাধারণ। ব্যাটিং ইউনিট অনেক ভালো করেছে, ভালো একটা স্কোর দাঁড় করিয়েছে। বোলাররা অনেক ভালো বেশি সমর্থন দিয়েছে। সেদিক থেকে সবকিছু মিলিয়ে যদি চিন্তা করি, দল একটা ভালো অবস্থায় আছে। আমরা জয়ের জন্যই খেলবো।’
বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টস করতে নামলেই নিগার শততম টি-টোয়েন্টির মাইলফলক ছোঁবেন। এনিয়ে তার অনুভূতি, ‘অন্যরকম অনুভূতি একশতম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। অনেক বেশি খুশি। অনেক সময় আসলে অবাকও লাগে। মনে হচ্ছিল এই তো কেবল ক্যারিয়ার শুরু করেছি। দেখতে দেখতে প্রায় একশটা ম্যাচ হয়ে যাচ্ছে। ওদিক থেকে আমি অনেক আনন্দিত। সব থেকে খুশি হবো যদি ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে কোনও অবদান রাখতে পারি, সেটা হবে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়।’
এদিকে দলের কোচ হাসান তিলকারত্নে মনে করেন এই টুর্নামেন্টে ইতিবাচক বাংলাদেশকে দেখা যাবে, ‘হ্যাঁ। আমরা এখানে ২০ কোটি মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করছি। সবাই এই টুর্নামেন্টের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি আপনি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের দিকে তাকান। প্রথমটা প্রত্যাশা মতো হয়নি, দ্বিতীয়টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে মেয়েরা খুব ভালো খেলেছে। টুর্নামেন্টটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক।’
তিলকারত্নে আরও বলেছেন, ‘মোমেন্টামের শুরুটা প্রথম ম্যাচ থেকেই হয়। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমরা সেরা খেলাটা খেলবো ও ইতিবাচক ফল আনবো। আমি নিশ্চিত মেয়েরা আত্মবিশ্বাসী ও উজ্জীবিত টুর্নামেন্টে খেলার জন্য।’









