২০১৪ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাইজুল ইসলামের। তবে শুরু থেকেই ছিলেন সাকিব আল হাসানের ছায়া হয়ে। বাঁহাতি অলরাউন্ডার কোনও ম্যাচ মিস করলে কিংবা একাদশে তিন স্পিনার খেললেই কেবল তার ডাক পড়তো। শুধু এতটুকুই নয়, তাইজুল পারফরম্যান্স করুক আর না করুক, সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে কেন্দ্র করেই হতো প্রশ্ন। আজ সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়ে এই স্পিনার সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। সব প্রশ্নেই কোনও না কোনোভাবে এসে গেলেন সাকিব!
সাংবাদিকদের প্রশ্নে বারবার সাকিব থাকায় আপত্তি নেই তাইজুলের। যা অর্জন করেছেন, তার জন্য তৃপ্ত তিনি। তবে এত কথার মাঝেও তার কণ্ঠে লেগে থাকলো বিষাদের সুর। শুরুর প্রশ্নই হলো সাকিবকে নিয়ে, ঢাকা টেস্টের একাদশে নেই যিনি। বাঁহাতি এই স্পিনার না থাকায় বাড়তি দায়িত্ব নিতে হয়েছে তাইজুলকে। সাকিব না থাকায় কীভাবে দল মানিয়ে নিয়েছে?
তাইজুলের উত্তর, ‘আপনার প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, সাকিব ভাই নাই, তাই তো? সাকিব ভাই নাই, সাকিব ভাই ছাড়া যে আমি খেলি নাই, তা তো না। আমি থাকা পর্যন্ত অনেক ম্যাচ সাকিব ভাইকে ছাড়া খেলেছি। আমরা নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জিতেছি, সাকিব ভাই ছিলেন না, আমরা যখন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এখানে ম্যাচ জিতছি, তখনও ছিলেন না। এরকম অনেক উদাহরণ আছে। আসলে আপনি তো একজন খেলোয়াড়কে ৫০ বছর খেলাতে পারবেন না।’
তাইজুলের উত্তরেই উঠে এলো তার সাফল্যে আরেকজনের অংশীদার হওয়ার বিরক্তি! এরপর তাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হলো, সাকিবের মতো তারকা ক্রিকেটাররা ম্যাচ না খেললেও সেটি নিয়ে আলোচনা হয়। আপনার ক্ষেত্রে হয়তো পারফরম্যান্স করার পর আলোচনা হয়, পরে সেই আলোচনাও থেমে যায়। আপনি হয়তো এই নিয়তি মেনে নিয়েছেন, এটা কতটা কঠিন? এবার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন তাইজুল, ‘আসলে আমাদের দেশে সত্যি কথা বলতে কী, অনেক কিছুই মুখে মুখে হয় আর কী। মুখে মুখে বিষয়টা হলো, অনেকে আছে খারাপ করেও তারকা হয়ে গেছে, অনেক সময় ট্রল হতে হতে তারকা হয়ে গেছে। আবার অনেক ভালো করে তারকা হতে পারেনি। এরকম অনেক হয়েছে। আমি এটা মেনে নিয়েছি। মেনে নেওয়া ছাড়া কোনও (উপায়) নাই।’
ঢাকা টেস্টের মাধ্যমে সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি তার শেষ ম্যাচটি খেলতে পারবেন কিনা, সেটি নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। তিনি খেলতে পারুক আর না পারুক, তাইজুল আশা করছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডারের মতো ক্রিকেটার যেন আসে, ‘কখনও একজন আসবে, একজন যাবে। ১০ বছর, ১৫ বছর, খুব বেশি হলে ২০ বছর; এটা আমাদের মেনে নিতেই হবে। আসলে কোনও সন্দেহ নেই উনি অনেক ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু আমরাও দোয়া করবো, আপনারাও দোয়া করবেন উনার মতো যেন আরেকজন আসে বা এখন যারা আছে তারাও যেন ভালো পারফরম্যান্স করে।’









