দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে প্রথম টেস্টে ইনিংস হারের শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। ১১২ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অভিষিক্ত জাকের আলী ও মেহেদী হাসান মিরাজের রেকর্ড ১৩৮ রানের জুটি-ই স্বাগতিকদের ইনিংস হার থেকে বাঁচিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লিডও নিতে পারে স্বাগতিকরা। ৯৭ রানের ইনিংস খেলে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে বাঁচানোর পাশাপাশি বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পরও সাকিবের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে চান না তিনি।
ঢাকা টেস্ট শুরুর আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, ‘সাকিব ভাইয়ের মতো পারফর্মার এখন নেই। তবে মিরাজ হতে পারে দারুণ বিকল্প।’ মিরাজ যেন শান্তর কথারই বাস্তব প্রমাণ দিলেন মিরপুরে। যদিও সাকিবের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমি যে জায়গায় ব্যাটিং করি, সাত-আট নম্বরে, সেটা বেশ কঠিন। সাকিব ভাই সব সময় টপ অর্ডারে ব্যাটিং করেন। আর আমি নিচে এসে কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করি। এখানে পারফর্ম করলে নায়ক হওয়া যায়। এই জায়গাটা উপভোগ করি।’
চাপের মধ্যে ব্যাটিং করার কৌশল নিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘আমি সব সময় কঠিন পরিস্থিতি উপভোগ করার চেষ্টা করি। বেশি কিছু চিন্তা করি না। চিন্তা করার চেষ্টা করি, আমার জন্য এটা সুযোগ। ভালো করলে হিরো হওয়ার সুযোগ থাকে। ’
বৃহস্পতিবার তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার থেকে ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে মিরাজকে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপ ঝরেছে ২৬ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের, ‘সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলে খারাপ তো লাগেই। তবে সেঞ্চুরির চেয়ে আমি যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছি, সেটি যদি মাঠে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারতাম, দল বেশি উপকৃত হতো। সেঞ্চুরি নিয়ে চিন্তা করিনি। চিন্তা করেছি দলকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যেতে পারি।’
সাকিব আল হাসানের বিদায়ের সময় মিরাজ নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে (২০২৩-২০২৫) প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০০ রান ও ৩০ উইকেটের ‘ডাবল’ পূর্ণ করেছেন তিনি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে এই কীর্তি গড়া তৃতীয় অলরাউন্ডার মিরাজ। এমন পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিবের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে চান না তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে মিরাজ বলেছেন, ‘আপনারা সব সময় একটা কথা বলেন, সাকিব ভাইয়ের জায়গায় আমি। ব্যাটিংয়ে রানটা শুরু করেছি মাত্র ১-২ বছর। আপনি ধারাবাহিকভাবে রান করার ব্যাপারটা যদি দেখেন, সাকিব ভাই শুরু থেকে রান করেছেন। তাই সাকিব ভাইয়ের জায়গায় সাকিব ভাই, আমি আমার জায়গায়।’
গত তিন বছরে লেট অর্ডারে নেমে সফল ছিলেন শুধু মেহেদী হাসান মিরাজ। যে কারণে নাজমুল হোসেন শান্ত, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক ও মাহমুদুল হাসান জয়ের চেয়েও তার ব্যাটিং গড় বেশি। গত তিন বছরে মিরাজ ২৭.৪২ গড়ে ব্যাটিং করেছেন। কিন্তু লিটন আর মুশফিক ছাড়া টপ অর্ডারে ব্যাটিং করা বাকিদের গড় ছিল তার চেয়েও কম। ওপরের ব্যাটারদের ব্যাটিংয়ের এই দৈন্যদশা না কাটলে টেস্ট ক্রিকেটে জয়ের ধারাবাহিকতা আসাটা বেশ কঠিন। নিয়মিত নিচে ব্যাটিং করা মিরাজকে কেউ কেউ ওপরে খেলার কথা বলেছেন। মিরাজের কতটা আগ্রহ, এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘আপনি যেটা বললেন যে ওপরের দিকে ব্যাট করতে পারি কি না, এটা আসলে ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। যারা দল নির্বাচন করবে, তারা দলের ভালোর জন্য সিদ্ধান্ত নেবে। ’









