ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ ফরহাদ হোসেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন। ঘরের মাঠে রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার তার দীর্ঘ খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন তিনি। যদিও শেষ ম্যাচটিতে জিততে পারেনি তার দল, রংপুরের কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয় রাজশাহীকে। ব্যক্তিগতভাবে নিজের শেষটাও রাঙানো হয়নি।
২০০৫ সালে ফরহাদ তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের যাত্রা শুরু করেছিলেন। একটু একটু করে ১৯ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই সময় ১৬১টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ২৭৫ ইনিংসে ৩৫.৯৭ গড়ে করেছেন ৯ হাজার ৬৫ রান। ১৮টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে ৪৬টি হাফ সেঞ্চুরি। শুধু ব্যাটার হিসেবেই নয়, বল হাতেও তিনি ছিলেন সফল। ডানহাতি এই অফস্পিনার ১৬৫টি উইকেট নিয়েছেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করলেও তার সেরা সময় ছিল ২০০৮-০৯ থেকে ২০১১-১২ পর্যন্ত। তার পারফরম্যান্সেই রাজশাহী বিভাগ পরপর চারবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের শিরোপা জেতে। ওই সময়টাতে ৪৬.৯৩ গড়ে ২ হাজার ২০৬ রান করেছিলেন। এই পারফরম্যান্সে ‘এ’ দলের সিরিজে সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন ফরহাদ। এই ফরম্যাটে ১৩৫ ম্যাচে তার রান ৩ হাজার ৩০৪।
মঙ্গলবার বিদায়ী ম্যাচ শেষে ফরহাদ মাঠে সংবর্ধনায় সিক্ত হন। সেখানে সকল খেলোয়াড়দের সই করা রাজশাহী বিভাগের একটি জার্সি উপহার দেওয়া হয় তাকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে একটি স্মারক ক্রেস্ট উপহার দেয়। জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার ও বিসিবির নির্বাচক হান্নান সরকার ছাড়াও এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক বাংলাদেশ ও রাজশাহী বিভাগের অধিনায়ক খালেদ মাসুদ, ম্যাচ রেফারি ও সাবেক জাতীয় খেলোয়াড় এহসানুল হক।









