আগামী বছর অক্টোবরে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এই আসরে সরাসরি খেলতে হলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ছয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ দলকে। যদিও এই মুহূর্তে তারা অবস্থান করছে আট নম্বরে। ফলে তাদেরকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজতো বটেই, জিততে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও। ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫টি ম্যাচ জিতলেই সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার টিকিট নিশ্চিত করে ফেলবে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি অবশ্য এতো দূর এখনই ভাবতে চান না।
স্বাগতিক হিসেবে ভারতের বিশ্বকাপ নিশ্চিত। এর বাইরে উইমেন্স ওয়ানডে চ্যাম্পিয়ন্সশিপের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তিন দল অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে। বাকি চার দলের মধ্যে উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্সশিপ থেকে দুটি দল এবং বাছাইপর্ব থেকে দুটি দল বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ যদি দুই সিরিজে অন্তত ৫টি ম্যাচ জিততে না পারে তাহলে বাছাইপর্ব খেলতে হবে।
কঠিন সমীকরণ এড়াতে আইরিশদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই জ্যোতিদের সামনে। এরপর ক্যারিবিয়ান সফরে ম্যাচ জয়ের হিসাব নিকাশ। অধিনায়ক জ্যোতি অবশ্য এতো দূরে তাকাতে চান না, ‘বিশ্বকাপের চিন্তা তো অনেক পরে। এখন আমাদের ম্যাচ বাই ম্যাচ মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমাদের হাতে এটাসহ দুইটা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আছে। পয়েন্ট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজ ধরে যদি চিন্তা করি, সেটা ভালো হবে। তাই এই পয়েন্টগুলো নেওয়ার দিকে মনোযোগ থাকবে বেশি।’
আগামী বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করবে বাংলাদেশ। ওই সফরে তিনটি ম্যাচ-ই উইমেন্স ওয়ানডে চ্যাম্পিয়ন্সশিপের অংশ। স্বাভাবিকভাবেই ক্যারিবিয়ানদের সাথে কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকবে বাংলাদেশের। জ্যোতি মনে করেন, আইরিশদের বিপক্ষে জিততে পারলে এই আত্মবিশ্বাস ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে কাজে দেবে, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। যদি এখান থেকে ভালো একটা সিরিজ শেষ করতে পারি, দল হিসেবে অবশ্যই পরের সিরিজে আমাদের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, শুরু করাটা। যদি ভালো একটা শুরু পাই, সেটা ধরে রাখতে পারলে এই দলটি ভালো করতে পারবে।’
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ক্রিকেটারদের ব্যর্থতা চোখে পড়ার মতো। সব ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় ভক্ত-সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরার আহবান জানিয়েছেন অধিনায়ক জ্যোতি, ‘সবকিছু (মানুষের আগ্রহ, প্রত্যাশা, স্পন্সর আসা) কিন্তু আমরাই তৈরি করেছি। আজ যদি আপনারা এখানে এসে থাকেন, প্রশ্ন করছেন আগে ভালো ছিল বা এমন ছিল, এটা আমরাই তৈরি করেছি। তো এটা ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের। আমি বলবো, বিশ্বাস রাখেন। কারণ দল কষ্ট করছে। অনেক সময় পারফরম্যান্সগুলো দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ফল না হলে তখন নেতিবাচক বিষয়গুলো বেশি আসে। এই সিরিজটা বলবো, আমাদের দলের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর জায়গা।’








