ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্টের নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯১ রানে অলআউটের পর প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪২ রানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিক দল। তার পর দ্বিতীয় ইনিংসে চালকের আসনে এখন প্রোটিয়া দল। ৩ উইকেটে ১৩২ রানে শেষ করেছে দ্বিতীয় দিন। তাদের লিড এখন ২৮১ রানের।
লঙ্কান পেস বোলিংয়ে ১৯১ রানেই শেষ হয়েছে প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংস। অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা ছিলেন সর্বোচ্চ স্কোরার। ৭০ রান আসে তার ব্যাট থেকে। তাছাড়া দশ নম্বরে নেমে দ্রুত গতিতে ২৪ রান তুলেছেন কেশব মহারাজ। লঙ্কান পেসারদের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন আসিথা ফার্নান্ডো ও লাহিরু কুমারা।
এর পর কিংসমিডে চলেছে স্বাগতিক পেসার মার্কো ইয়ানসেনের গতির ঝড়। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ১৩ রানে একাই ৭ উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছেন তিনি। ৪২ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কার নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এটাই দলীয় সর্বনিম্ন। আগের সর্বনিম্ন স্কোরটি ছিল ৭১। ১৯৯৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যান্ডিতে এই রানে গুটিয়ে গিয়েছিল তারা। টেস্ট ক্রিকেটের সর্বনিম্ন স্কোরটি নিউজিল্যান্ডের। ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬ রানে তারা অলআউট হয়েছিল।
বলের হিসেবে আবার টেস্ট ইতিহাসে লঙ্কানদের ইনিংসটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। মাত্র ৮৩বল স্থায়ী ছিল সফরকারীদের ইনিংস। তার চেয়েও কম বলে স্থায়ী ইনিংসটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকারই। ১৯২৪ সালে ৭৫ বলে তারা ৩০ রান করেছিল। সিমারদের আধিপত্যের দিনে মাত্র দুই ব্যাটারই লঙ্কানদের হয়ে ডাবল ডিজিটে পৌঁছাতে পেরেছেন। একজন কামিন্দু (১৩), আরেকজন লাহিরু কুমারা (১০*)।
লঙ্কানদের ৭ উইকেট নিয়ে রেকর্ড বইতেও স্থান করে নিয়েছেন ইয়ানসেন। মাত্র ৪১ বল করেছেন তিনি। এত কম বলে ৭ উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় নজির। তার আগের কীর্তিটি অস্ট্রেলিয়ার হিউ ট্রাম্বলের। ১৯০৪ সালে ইয়ানসেনের সমান বল করে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্বল ছিলেন অফস্পিনার।
১৯ উইকেট পতনের দিনে ১৪৯ রানের লিড পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে সাবলীল ভঙ্গিতেই ব্যাট করছে। ৪৭ রানে শুরুর জুটি গড়ে ফিরেছেন ওপেনার টনি ডি জর্জি (১৭)। ভিয়ান মুল্ডার ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে প্রান্ত আগলে ভালো প্রতিরোধ গড়েছিলেন আরেক ওপেনার এইডেন মারক্রাম। শেষ পর্যন্ত ৪৭ রানে ফিরেছেন তিনি। তার পর ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেছেন অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা (২৪*) ও ত্রিস্টান স্টাবস (১৭*)।









