টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনেকবার দেখা গিয়েছে গেইলের ব্যাট যেদিন ঝড় তুলে সেদিন যে কোনও টার্গেটকে মামুলি বানিয়ে ছাড়েন তিনি। এর প্রমাণ আবারও পাওয়া গেল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ ওয়ানের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮৩ রানের টার্গেট দেয় ইংল্যান্ড। গেইলের ৪৮ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ১১ বল হাতে রেখে হেসে-খেলে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা। দানবীয় শতক হাঁকানোর পথে ১১টি ছক্কা ও ৫টি চার মেরেছেন গেইল।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। দুই ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় ও অ্যালেক্স হেলস সতর্কতার সঙ্গে ব্যাট চালিয়ে ভালো শুরু এনে দেন দলকে। দলীয় ৩৭ রানে আন্দ্রে রাসেলের বলে সাজঘরে ফেরেন রয় (১৫)। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে হেলসের সঙ্গে জুটি বেধে ব্যাট চালান তিন নম্বরে নামা জো রুট। দলীয় ৯২ রানে হেলস (২৮) বাঁহাতি স্পিনার সুলেমান বেনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ।
১১৪ রানে রাসেলের দ্বিতীয় শিকারে বিদায় নেন জো রুট। ৩৬বলে তিনটি চার ও দুই ছক্কায় ৪৮ রানে করে জেরম টেলরের হাতে সহজ ক্যাচ দেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৩৬ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে ইংলিশদের রানের চাকা সচল রাখেন রুট।
তবে রুটের বিদায়ের পর রান তোলার গতি অনেকটা কমে আসে ইংল্যান্ড ইনিংসে। ১৭তম ওভারে জস বাটলার ও অধিনায়ক ইয়ন মরগান মিলে ১৪ রান যোগ করে রানের চাকা সচল রাখেন। শেষ দিকে মরগান ও বেন স্টোকসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ক্যারিবীয়দের ১৮৩ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় ইংলিশরা। মরগান ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান করেন। বেন স্টোকস ৭ বলে ১৫ রান করেন। ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে রাসেল ও ডোয়েন ব্রাভো ২টি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট নেন সুলেমান বেন।
ক্যারিবীয়দের হয়ে ইনিংস শুরু করেন জনসন চার্লস ও ক্রিস গেইল। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই বিদায় নেন ওপেনার জনসন চার্লস। ডেভিড উইলির বলে মঈন আলির হাতে ধরা পড়েন চালর্স।
ওপেনার চার্লস ফিরে গেলেও উইকেটে জুটি বেধে রানের চাকা সচল রাখেন ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলস। স্কোরবোর্ডে আরও ৫৫ রান যোগ করেন তারা। ইনিংসের সপ্তম ওভারে বিদায় নেন স্যামুয়েলস। আদিল রশিদের বলে উইলির হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তিনি ২৭ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৩৭ রান করেন।
দলীয় ৫৭ রানের মাথায় দুই উইকেট হারালেও ব্যাট হাতে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে থাকেন গেইল। একপ্রান্তে ব্যাটে তাণ্ডব চালানো গেইলের সঙ্গী দিনেশ রামদিন ইনিংসের ১২তম ওভারে বিদায় নেন। মঈন আলির বলে আদিল রশিদের তালুবন্দি হওয়ার আগে রামদিনের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। গেইলের সঙ্গী হয়ে স্কোরবোর্ডে আরও ৪৬ রান যোগ করেন তিনি।
১৩তম ওভারে বিদায় নেন ব্রাভো। টপলির বলে ফেরেন ২ রান করা ব্রাভো। চার উইকেট হারালে একপ্রান্তে ঝড় অব্যাহত রাখেন গেইল। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ব্যাটিং দানব। শেষ পর্যন্ত আন্দ্রে রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে দলকে ৬ উইকেটের জয় এনে দেন।
/এমআর/








