ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৭.৪ ওভারে ২৯৫/৫ (চেজ ২*, গ্রিভস ৪১*, রাদারফোর্ড ১১৩, হোপ ৮৬, কার্টি ২১, লুইস ১৬, কিং ৯)
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯৪/৬ (রিশাদ ০*, মাহমুদউল্লাহ ৫০*, জাকের ৪৮, মিরাজ ৭৪, আফিফ ২৮, তানজিদ ৬০, লিটন ২, সৌম্য ১৯)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়ী।
শেরফানে রাদারফোর্ডের ৮০ বলে ১১৩ রানের ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সহজেই প্রথম ওয়ানডে জিতলো। সেন্ট কিটসের এই ভেন্যুতে ওয়ানডেতে স্বাগতিকরা সর্বোচ্চ রান তাড়া করে সফল হলো। বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ১১ ম্যাচ হারার পর জিতলো ক্যারিবিয়ানরা। শাই হোপ দারুণ শুরু এনে দেন, জাস্টিন গ্রিভসের অবদানও কম নয়। তবে বিস্ফোরক ইনিংস খেলে মূল অবদান রাখেন রাদারফোর্ড।
শুরুতে রাদারফোর্ড শর্ট বলে কিছুটা ভুগেছিলেন, হেলমেটেও আঘাত করেছিল বল। যখন পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পেলেন, আর দাঁড়াতে দেননি বাংলাদেশের বোলারদের। চার-ছক্কাকে সহজ বানিয়ে ফেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। হোপের সঙ্গে ৯৯ রানের জুটি গড়েন, তারপর জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৫৭ বলে ৯৫ রানের জুটিতে ম্যাচ পুরোপুরি বের করে নেন রাদারফোর্ড।
বাংলাদেশ বল হাতে ভালোই শুরু করেছিল। ২৫ ওভার পর্যন্ত রান রেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত রাদারফোর্ড হিসাব পাল্টে দেন। মন্থর উইকেটে ২৯৫ রানের কঠিন লক্ষ্য সহজ বানান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে গেলো ১-০ তে।
বিস্ফোরক সেঞ্চুরি করে আউট রাদারফোর্ড
শাই হোপকে আউট করেও বাংলাদেশ স্বস্তি ফেরাতে পারেনি। শেরফানে রাদারফোর্ড আগ্রাসী ব্যাটিং ধরে রেখে সফরকারীদের চাপে রাখেন। বাঁহাতি ব্যাটার তার আগের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৮০ রান পেছনে ফেলেন। তার সঙ্গে জাস্টিন গ্রিভসের পঞ্চম উইকেট জুটিও পঞ্চাশ রান ছাড়ায়। ৪৭তম ওভারের প্রথম বলে ওভারথ্রো থেকে ছয় রান যোগ হয়, রাদারফোর্ডও পেয়ে যান প্রথম সেঞ্চুরি। ষষ্ঠ ফিফটিকে ৭৭ বলে প্রথম শতকে রূপ দেন বাঁহাতি ব্যাটার। সৌম্য সরকারকে পরের দুটি বলে ছক্কা হাঁকান। এরপর শর্ট থার্ডম্যানে নাহিদ রানাকে ক্যাচ দেন। ৮০ বলে ৭ চার ও ৮ ছয়ে ১১৩ রানে আউট হন রাদারফোর্ড। ২৮৮ রানে পাঁচ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
হোপকে ফিরিয়ে ৯৯ রানের জুটি ভাঙলেন মিরাজ
অধিনায়ক ফেরালেন অধিনায়ককে। মেহেদী হাসান মিরাজ তার সপ্তম ওভারে বাংলাদেশের পথের কাঁটা সরালেন। ৩৮তম ওভারের প্রথম বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্যাপ্টেন শাই হোপকে জাকের আলীর ক্যাচ বানিয়ে ৯৯ রানের জুটি ভাঙলেন তিনি। দলীয় ১৯৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৮৮ বলে তিন চার ও চার ছয়ে ৮৬ রান করেন হোপ।
হোপ-রাদারফোর্ডের জুটিতে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ
শাই হোপ বাংলাদেশের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কিসি কার্টির সঙ্গে তার ৬৭ রানের জুটি ভাঙলেও শেরফানে রাদারফোর্ড ক্রিজে নামার পর থেকে অস্বস্তিতে সফরকারীরা। দুজনেই হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। ৪৭ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ফিফটি করেন রাদারফোর্ড। দুজনের জুটি সেঞ্চুরির কাছাকাছি।
রিশাদের শিকার কার্টি, হোপের হাফ সেঞ্চুরি
২৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২ উইকেট হারানোর পর কিসি কার্টি ও শাই হোপ দাঁড়িয়ে যান। ২২তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসান। ৩৭ বলে দুই চার ও এক ছয়ে ২১ রান করে মিডউইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ হন কার্টি। শাই হোপের সঙ্গে ৮২ বলে ৬৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। ৯৪ রানে তৃতীয় উইকেট হারালো উইন্ডিজ।
কিছুক্ষণ পর ২৭তম ওভারে শাই হোপ হাফ সেঞ্চুরি করেন। ৬০ বলে ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি হাঁকান স্বাগতিক অধিনায়ক।
পাওয়ার প্লেতে ৪২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলো বাংলাদেশ
প্রথম ৬ ওভারে ২১ রান দিয়ে শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলেন তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিব। তারপর বিনা উইকেটে ২৭ রান করা দলটি আর কোনও রান যোগ না করেই হারায় দুই ওপেনারকে। ব্র্যান্ডন কিংকে ৯ রানে তানজিম ও এভিন লুইসকে ১৬ রানে নাহিদ রানা ফেরান। পাওয়ার প্লেতে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪২ রান, পেয়েছে দুই উইকেট।
কিংকে মাঠছাড়া করলেন তানজিম, নাহিদের শিকার লুইস
অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে ব্র্যান্ডন কিংয়ের বিরুদ্ধে তানজিম হাসান সাকিব এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করলেন। আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলেন। ওপেনিং সঙ্গী এভিন লুইসের সঙ্গে আলাপ করে রিভিউ নেন কিং। আম্পায়ার্স কলে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। ৯ রানে বিদায় নিলেন তিনি। ২৭ রানে ভাঙলো উইন্ডিজের ওপেনিং জুটি।
পরের ওভারের প্রথম বলে নাহিদ রানা এলবিডব্লিউতে ফেরান লুইসকে (১৬)। তিন বলের ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুটি উইকেট হারালো কোনও রান যোগ না করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনিং জুটিকে চাপে রেখেছেন তাসকিন-তানজিম
তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিব দুই প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত বোলিং করছেন। উইকেট নিতে না পারলেও রানের লাগাম টেনে ধরেছেন তারা। বর্তমান রান রেট চারের নিচে রেখেছেন তারা, যেখানে প্রয়োজন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ের বেশি। প্রথম ছয় ওভারে মাত্র ২১ রান করেছে স্বাগতিকরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৯৫ রানের লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ
পাওয়ার প্লের মধ্যে ২ উইকেট হারালেও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ছন্দে ছিল বাংলাদেশ। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহও হাফ সেঞ্চুরি করলেন। জাকের আলী করেছেন ওয়ানডেতে সেরা পারফরম্যান্স। তাতে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৯৫ রানের লক্ষ্য দিলো। ৬ উইকেট হারিয়ে তারা করেছে ২৯৪ রান।
৪৬ রানে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারানোর পর মিরাজ ও তানজিদ ৭৯ রানের জুটি গড়েন।
তানজিদ ৬০ রানে আউট হলেও বাংলাদেশ পথ হারায়নি। আফিফ হোসেনকে নিয়ে মিরাজের ৫৪ রানের জুটিতে শক্ত ভিত গড়ে।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহে বড় অবদান মাহমুদউল্লাহ ও জাকের আলীর। দুজনের ৭৪ বলে ৯৬ রানের ঝড়ো জুটিতে প্রায় তিনশ রান করে সফরকারীরা। শেষ ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করে ৮৪ রান। মাহমুদউল্লাহ ৪৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৪০ বলে তিনটি করে চার ও ছয়ে ৪৮ রানে থামেন জাকের। বাংলাদেশের ইনিংস সেরা স্কোরার ৭৪ রান করা মিরাজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন রোমারিও শেফার্ড।
মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরি, ২ রানের আক্ষেপ জাকেরের
মাহমুদউল্লাহও হাফ সেঞ্চুরি করলেন। শেষ ওভারে প্রথম দুই বলে চার ও সিঙ্গেল নিয়ে ৪৩ বলে ফিফটি করেন তিনি। এজন্য চারটি চার ও দুই ছয় মেরেছেন বাংলাদেশি ব্যাটার। জাকের আলীও হাফ সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু শেষের আগের বলে ৪৮ রানে আউট হন তিনি।
রঙিন জার্সিতেও ঝলমলে জাকের, বাংলাদেশের আড়াইশ
জ্যামাইকা টেস্টে দারুণ এক ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জয়ের ভিত গড়ে দেন জাকের আলী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও ঝলমলে ব্যাটিং উপহার দিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের ব্যাটার চার-ছয়ে গ্যালারি মাতাচ্ছেন। সঙ্গে আছেন মাহমুদউল্লাহ। দুজনের জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে।
৭৪ রান করে আউট মিরাজ, বাংলাদেশের দুইশ
১ ও ৩১ রানে কিসি কার্টির হাত ফসকে জীবন পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ হাফ সেঞ্চুরি করে সুযোগটা কাজে লাগান। অবশেষে তাকে বিদায় করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ১৯৮ রানে জেইডেন সিলসের বলে শর্ট এক্সট্রা কাভারে শেরফানে রাদারফোর্ডের ক্যাচ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১০১ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে ৭৪ রান করেন মিরাজ। নতুন ব্যাটার জাকের আলী ৩৯তম ওভারের পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে দলীয় স্কোর দুইশতে নেন।
মিরাজ-আফিফের ৫৪ রানের জুটি ভাঙলো
৩৩তম ওভারে জাস্টিন গ্রিভসকে টানা দুটি চার মেরে ছন্দে ফেরেন আফিফ হোসেন। পরের ওভারেই থামতে হলো তাকে। রোমারিও শেফার্ডের বলে জেইডেন সিলসের চমৎকার ক্যাচ হন বাংলাদেশের ব্যাটার। ২৯ বলে চারটি চারে ২৮ রান করেন আফিফ। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ৬২ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১৭৯ রানে চার উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
মিরাজের হাফ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের দেড়শ
২৮তম ওভারে রোমারিও শেফার্ডের চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটি করলেন মেহেদী হাাসন মিরাজ। ৭১ বলে চারটি চার ও একটি ছয়ে পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি করলেন তিনি। ১ ও ৩১ রানে জীবন পেয়েছিলেন কিসি কার্টির হাত ফসকে।
বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টানা দ্বিতীয় ফিফটির দেখা পেলেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজায় ৬৬ রান করেন মিরাজ।
৬০ রান করে থামলেন তানজিদ
ওপেনিংয়ে নেমে দারুণ সব শটে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নেন তানজিদ হাসান তামিম। ৪৬ বলে করেন তৃতীয় ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে জুটি একশতে নেওয়ার পথে ছিলেন তিনি। কিন্তু পারলেন না। আলজারি জোসেফের বলে শর্ট থার্ডে রোস্টন চেজের সহজ ক্যাচ হন তানজিদ। ৬০ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৬০ রান করেন বাংলাদেশের ওপেনার। মিরাজের সঙ্গে ৯৭ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১২৫ রানে বাংলাদেশ হারালো তৃতীয় উইকেট।
আবার কার্টির হাত ফসকে জীবন পেলেন মিরাজ
মেহেদী হাসান মিরাজ দ্বিতীয়বার জীবন পেলেন ৩১ রানে। এবারও তার ক্যাচ নিতে পারলেন না কিসি কার্টি। বাংলাদেশ অধিনায়কের দুটি ক্যাচ ফেললেন উইন্ডিজ ফিল্ডার। ২০তম ওভারের শেষ বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ডানদিকে ডাইভ দিলে বল তার আঙুল ছুঁয়ে মাটিতে পড়ে। দশম ওভারে মাত্র ১ রানে জীবন পান মিরাজ।
তানজিদের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের একশ
১৮তম ওভারে রোস্টন চেজের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটিতে পৌঁছালেন তানজিদ হাসান তামিম। ৪৬ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি এবং বাংলাদেশও পৌঁছালো একশতে। এই ওপেনারের সঙ্গে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের জুটি ইতোমধ্যে পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে। ৪৬ রানে তারা জুটি বাঁধেন।
প্রথম পাওয়ার প্লেতে তানজিদ ঝলকে বাংলাদেশের ৫৮ রান
ওপেনিংয়ে নেমে সৌম্য সরকারকে বেশিক্ষণ পাননি তানজিদ হাসান তামিম। লিটন দাসও টিকতে পারেননি। ৪৬ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে পাওয়ার প্লেতে ঝলক দেখালেন তানজিদ। বাংলাদেশি ওপেনার দ্বিতীয় ওভারে ছক্কা মারেন। পরে বল বুঝে চারও মেরে রানের খাতা সচল রেখেছেন। ১০ ওভারের প্রথম পাওয়ার প্লেতে সফরকারীদের স্কোর ২ উইকেটে ৫৮ রান। তানজিদ ২৭ ও মিরাজ ৬ রানে অপরাজিত আছেন।
কার্টির হাত ফসকে জীবন পেলেন মিরাজ
দশম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি মারলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু রোমারিও শেফার্ডের দুই ওভরে দ্বিতীয় শিকার হতে পারতেন তিনি। তার আপারকাটে খেলা শট ডিপ থার্ড থেকে ডানদিকে দৌড়ে এসে বল হাতে নিয়েও রাখতে পারেননি কিসি কার্টি। ১ রানে দ্বিতীয়বার জীবন পেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
শেফার্ডের আগের ওভারে এলবিডব্লিউর বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়ে টিকে যান মিরাজ।
তানজিদের বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের পঞ্চাশ
নবম ওভারের শেষ বলে জাস্টিন গ্রিভসকে চার মেরে বাংলাদেশের স্কোর পঞ্চাশ পার করলেন তানজিদ হাসান তামিম। ৯ ওভারে ২ উইকেটে সফরকারীদের স্কোর ৫২ রান।
২ রানে আউট লিটন, রিভিউ নিয়ে টিকে গেলেন মিরাজ
সপ্তম ওভারের ঘটনা। আলজারি জোসেফের বল শাই হোপের গ্লাভসে ধরা পড়লো। রিভিউ নিতে চেয়েও নিলো না উইন্ডিজ। পরে রিপ্লেতে ধরা পড়লো ব্যাটে স্পাইক করেছে। লিটন দাসের তখন ১ রান।
ভাগ্যে পাওয়া এই উইকেট বেশিক্ষণ টিকিয়ে রাখতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটার। পরের ওভারে রোমারিও শেফার্ড বল হাতে নিয়েই তাকে ফেরান। অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে হোপের ক্যাচ হন লিটন। ৭ বলে করেন মাত্র ২ রান। ৪৬ রানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেট পড়লো।
একই ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বিরুদ্ধে শেফার্ড এলবিডব্লিউর আবেদন করলে আম্পায়ার আঙুল তোলেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান।
আলজারিকে দুটি চার মারার পর আউট সৌম্য
প্রথম ৯ বলে মাত্র্র চার রান করার পর জেইডেন সিলসকে প্রথম চার মারেন সৌম্য সরকার। হাত খুলেছিল তারপর। পঞ্চম ওভারে আলজারি জোসেফকে দুটি বাউন্ডারি মারলেন। বাংলাদেশের ওপেনার ছন্দে ফিরতেই বিদায় নিলেন। ওই ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারের বলে আউটসাইড এজ হয়ে শাই হোপের ক্যাচ হন সৌম্য। ১৮ বলে ৩ চারে ১৯ রান করেন তিনি। ৪.৫ ওভারে ৩৪ রানে এক উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
সিলসকে ছক্কা মেরে গ্যালারি মাতালেন তানজিদ
আলজারি জোসেফের প্রথম ৬ বলে বাংলাদেশ তিন রান নিতে পেরেছে। ওপেনিংয়ে খেলছেন সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম। পরের ওভারে জেইডেন সিলসের মাথার ওপর দিয়ে সোজাসুজি শট খেলে ছক্কা মারেন তানজিদ। তিনি তৃতীয় ওভারে আরও একটি বাউন্ডারি হাঁকান। সৌম্য সরকারও চতুর্থ ওভারে চার মারেন। ৪ ওভারে বাংলাদেশ করেছে ২৪ রান।
টস জিতেছে বাংলাদেশ
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতেছে বাংলাদেশ। সেন্ট কিটসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
টস জিতে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন উইকেট দেখে খুব ভালো মনে হয়েছে। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ২৮০ রান করতে চান তারা। তবে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শাই হোপ বলেছেন, তিনি টস জিতলে বোলিং নিতেন। কারণ শুরুর উইকেটে আর্দ্রতা আছে। আর সেটাই বোলারদের জন্য বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
একাদশে কারা
বাংলাদেশ তিন পেসার, দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে। স্পিনে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে আছেন রিশাদ হোসেন। পেস বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার সঙ্গে তানজিদ হাসান।
বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ, জাকের আলি, আফিফ হোসেন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান, নাহিদ রানা।
চার পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গুডাকেশ মোটির সঙ্গে স্পিনে আছেন রোস্টন চেজ। পেস বোলিংয়ে আলজারি জোসেফ, জেইডেন সিলসের সঙ্গে দুই অলরাউন্ডার রোমারিও শেফার্ড ও জাস্টিন গ্রেভস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: শাই হোপ (অধিনায়ক/উইকেটরক্ষক), ব্র্যান্ডন কিং (সহ-অধিনায়ক), কেসি কার্টি, রোস্টন চেজ, জাস্টিন গ্রেভস, আলজারি জোসেফ, এভিন লুইস, গুডাকেশ মোটি, শেরফানে রাদারফোর্ড, জেইডেন সিলস, রোমারিও শেফার্ড।









