বোলার হিসেবে তাসকিন আহমেদ নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। তার বলে ফিল্ডাররা যে পরিমাণ ক্যাচ ছেড়েছেন; তাতে এমনটা হলফ করে বলাই যায়। সোমবার রাজশাহী কিংসের ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাতের সুযোগ নিয়ে চিটাগং কিংস ১৯১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। কঠিন এই লক্ষ্যে খেলতে নেমে তাসকিনের রাজশাহী খাবি খেয়েছে। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় স্কোর থেমেছে ৮০ রানে। ফলে ১১১ রানের জয়ে চিটাগং প্লে-অফের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে চিটাগং কিংস তুলেছে ১৯১ রান। জবাবে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় রাজশাহী। এই ধারা পুরো ইনিংস ধরেই চলতে থাকে। পাওয়ার প্লের মধ্যে টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারিয়ে শুরুতেই বিধ্বস্ত হয় রাজশাহী। সেখান থেকে তারা আর বেরিয়ে আসতে পারেনি। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় রাজশাহীর ইনিংস থামে ৮০ রানে। অথচ চাপমুক্ত হয়ে খেলার জন্য এনামুল হক বিজয়ের কাছ থেকে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয় রাজশাহীর টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত কাজে দেয়নি মোটেই। এনামুল ব্যর্থ হয়েছেন। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এই ব্যাটার আজকে খেলেছেন ২১ রানের ইনিংস। এটাই দলের সর্বোচ্চ ইনিংস। তাছাড়া আকবর আলীর ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউ দুই অঙ্কের ঘরে রান করতে পারেননি।
চিটাগংয়ের বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও নাঈম ইসলাম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া বিনুরা ফার্নান্দো, আরাফাত সানী, খালেদ আহমেদ, রাহাতুল ফেরদৌস ও শামীম হোসেন প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়া চিটাগং দ্বিতীয় ওভারে ৮ রানের মাথায় হারায় উসমান খানের উইকেট। তার পর অবশ্য নাঈম ইসলাম-গ্রাহাম ক্লার্ক সেটার প্রভাব দলে পড়তে দেননি। যদিও ইনিংসের প্রথম ওভারেই আউট হতে পারতেন নাঈম। রানের খাতা খোলার আগে তাসকিনের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু সানজামুল এই ক্যাচ ধরতে পারেননি। জীবন পেয়ে সেটি খুব ভালো ভাবেই কাজে লাগান নাঈম। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছেন।
এছাড়া গ্রাহাম ক্লার্কের ২৮ বলে ৪৫ রানের ক্যামিও ইনিংস দলের স্কোর দুইশ’র কাছাকাছি পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর বাইরে মোহাম্মদ মিঠুনের ২০ বলে ৩২, হায়দার আলীর ১৪ বলে ২৫ এবং রাহাতুলের ৮ বলে ১৬ রানের ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে চিটাগং কিংস ২৯১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।
ক্যাচ ফেলার মিছিলের মধ্যেও দলের সেরা বোলার তাসকিন। চার ওভারে মাত্র ২৩ রান খরচ করে দুই উইকেট শিকার করেন তিনি। এছাড়া মোহর শেখ ৪৬ রানে নেন দুটি উইকেট। এর বাইরে জিসান ও সানজামুল একটি করে উইকেট নেন।









