বিপিএল পেরিয়ে তিন ফরম্যাটের অন্তহীন সীমায় চোখ অঙ্কনের

রবিউল ইসলাম
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২০:৫৯আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২১:৩৭

ঘরোয়া ক্রিকেটে অঙ্কন পরিচিত ছিলেন ধীরস্থির ব্যাটার হিসেবে। ক্রিজে থিতু হতে সময় লাগতো তার। তবে তাকে এবার বিপিএলে দেখা গেলো ভিন্ন মেজাজে। খুলনা টাইগার্সের হয়ে এগারোতম আসরে ১২ ইনিংসে ১৭৪.৫৮ স্ট্রাইকরেটে দারুণ ব্যাটিং করেছেন উইকেট কিপার এই ব্যাটার। ছোট কিন্তু বেশ কয়েকটি কার্যকরী ইনিংসে তার ব্যাটেই বেশ কিছু জয় পেয়েছে খুলনা টাইগার্স। ২০১৮ সাল থেকে বিপিএল খেললেও এবারই প্রথম দায়িত্বশীল ভূমিকাতে ছিলেন। খেলেছেন সব ম্যাচেই। দলের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পেয়ে জ্বলে উঠেছেন তিনি। বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে শেষ বলের হারে ফাইনালের স্বপ্ন থেকে ছিটকে গেছেন তিনি এবং তার দল খুলনা টাইগার্স। হারের দগদগে ক্ষত নিয়েই বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে বিপিএলের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। লাল বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলে অভিষেক হলেও সাদা বলের ক্রিকেটে এখনও অপেক্ষায় তিনি। এগারোতম বিপিএল পেরিয়ে তিন ফরম‍্যাটের অন্তহীন সীমায় চোখ এখন উইকেট কিপার এই ব্যাটারের।

বাংলা ট্রিবিউন: পুরো আসর জুড়েই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে খুলনা টাইগার্স। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে খুলনা ম্যাচটা কোথায় হেরে গেলো?

মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন: ৪০ ওভারের ভেতর শেষ ওভারটা ছাড়া আমরা খেলায় ছিলাম। শেষ ওভারে ওরা তিনটা বাউন্ডারি পেয়ে যায়। এই ধরনের ম্যাচে এমন কিছু হতেই পারে! মুশফিকের উপর আমাদের সবার আত্মবিশ্বাস ছিল। মুশফিক কিন্তু আমাদের খেলায় ফিরিয়েছিল। এটা পার্ট অব গেম। চাপের মুহূর্ত ছিল। হয়তো চাপে পড়েই নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। 

বাংলা ট্রিবিউন: ফাইনালে যাওয়ার সূর্বণ সুযোগ ছিল, শেষ বলে ম্যাচ হারার পর নিশ্চয়ই পুরো দলই হতাশ ছিল। রাতটা কীভাবে কাটলো?

অঙ্কন: সবাই অনেক হার্ট হয়েছে। সবার অনেক খারাপ লেগেছে। ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্ট সবার স্বপ্ন ছিল ফাইনাল খেলার। শুধু খেলোয়াড় নয়, টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই হতাশ হয়েছে। বিপিএল শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল ফাইনাল খেলবো। সবার মধ্যে সেই বিশ্বাস ছিল। স্বাভাবিকভাবেই সবাই অনেক আপসেট ছিল। গতরাতে সবার কথা বলতে পারবো না, তবে আমি ঘুমাতে পারিনি। মনে হচ্ছিল আমি আরও কয়েকটা রান করতে পাররেই খুলনা ফাইনালে চলে যেতো। যাই হোক, যেটা চলে গেছে, সেটা ভেবে লাভ নেই। ভবিষ্যতে এই ধরনের ম্যাচে কী পরিস্থিতিতে ক্যামব্যাক করা যাবে, সেটা শেখার আছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ঘরোয়া ক্রিকেটে ধীরস্থিরভাবে খেলেন, এবার আপনাকে হাতখুলে খেলতে দেখা গেছে, নিজেকে বদলালেন কীভাবে?

অঙ্কন: আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে যেসব পজিসনে কিংবা যেসব ভূমিকাতে খেলি- আমার চেষ্টা থাকে আমার দায়িত্বটা পালনের। পজিশন এবং দায়িত্বের উপর নির্ভর করে খেলার ধরন কেমন হবে। যখন এই টুর্নামেন্ট শুরু হয়, তখন আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ফিনিশিংয়ের। আমাকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ফলে নিজেকে আমি প্রস্তুত করতে পেরেছিলাম। আমি যেহেতু আগেই জানতাম, আমার দায়িত্বটা কী, আমাকে কী করতে হবে- সেই কারণে আমি স্বাধীনভাবে ফেয়ারলেস ক্রিকেট খেলতে পেরেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণের তাড়না নিশ্চয়ই ছিলো?

অঙ্কন: অবশ্যই। আমি প্রথমবার বিপিএলে প্রত্যেকটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাস ছিল, সুযোগ আসলে আমি সেটি কাজে লাগাতে পারবো। সাদা বলের জন্য কিছু প্রস্তুতির ব্যাপার ছিল। আমি সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেছিলাম। অনেকের হয়তো ভাবনা ছিল আমি স্লো ক্রিকেট খেলি, আমি হয়তো লংগার ভার্সনের ক্রিকেটার। কিন্তু আমি তিন ফরম্যাটই পছন্দ করি। আমার পুরো ফোকাস তিন ফরম্যাটে আধিপত্য বিস্তার করে ক্রিকেট খেলা। আমি বলছি না, যে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। কিছু ভুল ত্রুটি হয়তো আমার মধ্যে এখনও আছে। আমি সেসব নিয়ে কাজ করছি। আমি পুরোপুরি প্রস্তুত হচ্ছি তিন ফরম্যাটের জন্যই।

বাংলা ট্রিবিউন: এই প্রস্তুতিতে বিশেষ কোন কাজ করেছেন?

অঙ্কন: অবশ্যই কিছু কাজ তো আমি করেছি, আলাদাভাবে আমি কিছু কাজ করছিলাম। মানসিকভাবে আমার কিছু প্রস্তুতি ছিল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগ থেকে আমি জানতাম, আমি ম্যাচ খেলবো। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি অনুশীলন করেছি। যেহেতু আমি আগেই জানতাম, আমার পজিশন কী, দলে আমার ভূমিকা কী থাকবে- এই কারণে প্রস্তুতি নিতে আমার সহজ হয়েছে। শট সিলেকশন নিয়েও কাজ করেছি। বিপিএল প্রথম ম্যাচটা যখন ভালো গেছে, তখন আমি আরও আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: বিপিএলে মাহেন্দ্র সিং ধোনির সিগনেচার ‘হেলিকপ্টার শট’ বেশ কয়েকবার খেলেছেন, কীভাবে রপ্ত করলেন এই শট?

অঙ্কন: আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে আসার পর যখন ট্রেনিং শুরু করি, চেষ্টা করছিলাম এই ধরনের শট খেলার। আমার ভাবনায় ছিল, আমি যদি শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নামি, আমাকে বাউন্ডারি মারতেই হবে। শেষ দিকে বোলাররা সাধারণত লো ফুলটস কিংবা ইয়র্কার করে থাকে। কিন্তু ব্যাটারদের এই বলগুলোতে রান তুলতে হয়। আমার ভাবনা ছিল এইসব বলে কীভাবে স্কোরিং পাওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে এই শটগুলো খেলতে তৎতক্ষনাৎভাবে বডি রিঅ্যাক্ট করে, এমন না যে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম ওই শটটা খেলার জন্য। এগুলো আমার মনে হয় অনুশীলনের মাধ্যমেই হয়েছে। আমি নিয়মিত অনুশীলন করছি। আশা করি সামনে আরও ভালোভাবে নিজের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো।

বাংলা ট্রিবিউন: বিপিএল নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কতখানি সন্তুষ্ট?

অঙ্কন: আলহামদুলিল্লাহ, পুরো টুর্নামেন্টে মনে হয়েছে, আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। বেশি কিছু চিন্তা করছিলাম না। দলের অবদান রাখতে পারাটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে উন্নতির তো অনেক জায়গা আছে। কিছু বিষয়ে আমার কোচের সাথে কথা বলতে হবে। পরবর্তী সময়ে যেন আরও ভালো করতে পারি। 

বাংলা ট্রিবিউন: জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট অভিষেক হয়ে গেছে, বাকি দুই ফরম্যাটে নিশ্চয়ই চাইবেন দ্রুতই জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে?

অঙ্কন: আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি তিন ফরম্যাটেই আমি অনেক ভালো খেলতে পারবো। আমি চেষ্টা করছি, ডে বাই ডে নিজেকে কীভাবে উন্নতি করতে পারি। আল্লাহ যখনই সুযোগ দেবে, চেষ্টা করবো দেশের জন্য খেলতে।

/এফএইচএম/
সম্পর্কিত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
এলিসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে সিরিজে সমতা অস্ট্রেলিয়ার
১৫ বলে ফিফটি, পারভেজের রেকর্ডে ভাগ বসালেন হাবিবুর
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম