চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তামিম ইকবালের দলে থাকা নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছিল, ঠিক ওই সময় আনুষ্ঠানিক ভাবে দেশ সেরা ওপেনার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আর ফেরা হচ্ছে না। তামিম বিদায়ের ঘোষণায় শুরুটা করেছেন এভাবে, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছি অনেক দিন ধরেই। সেই দূরত্ব আর ঘুচবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার অধ্যায় শেষ।’
তামিমের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)ও। শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের এগারোতম আসরের ফাইনাল শেষে তামিমের হাতে স্মারক তুলে দেবে বিসিবি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
মিরপুরে শুক্রবার বিপিএলের এগারোতম আসরে চিটাগং কিংস ও ফরচুন বরিশালের মধ্যে শিরোপার লড়াই হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী মঞ্চেই তামিমের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'বাংলাদেশের ব্যাটিং সুপারস্টার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিপিএলের ফাইনাল শেষে তার হাতে বিসিবির পক্ষ থেকে বিশেষ স্মারক উপহার দেওয়া হবে।’
২০২৩ সালের ৬ জুলাই আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে ফিরে সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে খেলে চলে যান দলের বাইরে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নিলেও টেস্ট ও ওয়ানডে খেলার দরজা খোলা রেখেছিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তাতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাকে পাওয়ার আশা করছিল বিসিবি। তার মতামত জানতেই তার সঙ্গে সভায় বসেছিল নির্বাচক কমিটি। সভা শেষ হওয়ার দুই দিন পর গত ১০ জানুয়ারি নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।
২০০৭ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তামিমের। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিই ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের শেষ হয়ে থাকলো। একই বছর সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি ক্যাপ পান তামিম। পরের বছর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে পা রাখেন। ৭০ টেস্ট, ২৪৩ ওয়নাডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলে ১৫ হাজার ২৪৯ আন্তর্জাতিক রান তামিমের এবং সেঞ্চুরি ২৫টি ও হাফ সেঞ্চুরি ৯৪টি।









