রাওয়ালপিন্ডির উইকেট মানেই রান উৎসব। এই উইকেটে তিনশ রান তাড়া করে অনায়াসেই জেতা সম্ভব। সেখানেই সোমবার দুপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। রাওয়ালপিন্ডির ফ্ল্যাট উইকেটে বাংলাদেশ দল কি পারবে তিনশর বেশি রানের চ্যালেঞ্জ নিতে। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানালেন নাজমুল হোসেন শান্তদের তিনশ রান করার সমার্থ্য রয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত রাওয়ালপিন্ডিতে কোনও ম্যাচ হয়নি। সেখানে প্রথম ম্যাচ হচ্ছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের। ২০২৩ সালে এ মাঠে হওয়া সবশেষ ওয়ানডে সিরিজেও ছিল নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই সিরিজেও রানের বন্যাই দেখা গিয়েছিল। তবে এখানে পেসারদের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। তারপরও সব ছাপিয়ে ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্যই বলা চলে রাওয়ালপিন্ডির উইকেটকে। কিন্তু বাংলাদেশ কি ৩০০ রান করার মতো সামর্থ্য রাখে?
সিমন্সকে এমন প্রশ্নই করা হয়েছিল, যার উত্তর দিয়েছেন, ‘এটা বড় স্কোর গড়ার মাঠ। গতকাল (পরশু) দেখেছি লাহোরে কত রান হয়েছে। এখানে বড় স্কোরই দেখছি। ৩০০ পেরোনো স্কোর গড়তে হবে। আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। আমাদের খেলা গত পাঁচ ওয়ানডে দেখুন, দুটিতেই ৩০০ পেরোনো স্কোর গড়েছি। আমাদের সামর্থ্য আছে। গত দুই ম্যাচে আমরা ভালো শুরু পাইনি। যদি ভালো শুরু করতে পারি, তাহলেই বড় স্কোর গড়া সম্ভব।’
বেশ কয়েক সিরিজে বড় স্কোর গড়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজে সেন্ট কিটসেই ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। সিমন্স অবশ্য এখানেও যুক্তি দেখালেন, ‘৩০০ করলেই তো হয় না। প্রতিপক্ষকে আটকাতেও হয়। প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে ভালো ব্যাটিং করেছে। আমরা ৩০০ করেছি, কিন্তু তারা ৩০০ পেরোনো রান করেছে। এটাই খেলা, তাদের আটকাতেও তো হবে। আমাদের বোলিং ভালো হয়নি ওই ম্যাচগুলোয়।’
সিমন্স বাংলাদেশ দলের বড় স্কোর গড়ার সামর্থ্যের কথা বললেও ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে টপ অর্ডারের ৫ ব্যাটারের কেউই রান পাননি। তিনজন রানের খাতা খুলতেই পারেননি। ব্যাটারদের এমন অফফর্ম নিয়ে কীভাবে রাওয়ালপিন্ডিতে রান উৎসব সম্ভব? কোচের ব্যাখ্যা, ‘আমি তাদের ফর্ম নিয়ে চিন্তিত নই। যে রকম খেলছি, প্রথম ১০ ওভারে সেটার চেয়ে ভালো করতে হবে। যেটা বললেন, মিডল আর লোয়ার অর্ডার খুব ভালো করছে। টপ অর্ডারের ব্যাটারদের জ্বলে উঠতে হবে এখন। বিশেষ করে প্রথম ১০-১৫ ওভার পর্যন্ত।’
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গত আসরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচে সাকিবের পাশাপাশি সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এবারের আসরে সাকিব স্কোয়াডে না থাকলেও মাহমুদউল্লাহ আছেন। চোটের কারণে যদিও কিউইদের বিপক্ষে খেলা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।
বাংলাদেশের একাদশটা ঠিক কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নে সিমন্স বলেছেন, ‘যেমন আমরা আগে বলেছি, আমাদের দেখতে হবে রিয়াদ ফিট কিনা, তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেবো দলকে কীভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করা যায়। আজ অনুশীলন শেষ হলে আমরা জানতে পারবো। পাশাপাশি আমরা উইকেট এবং এই জাতীয় সবকিছু দেখবো। কিছুক্ষণ পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
নিউজিল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে এবং অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রথম ম্যাচেও তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতেছে। দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই সোমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে। যদিও পাকিস্তানের দিকে তাকে চাচ্ছেন না বাংলাদেশের কোচ, ‘এই টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচই চাপের। বিশ্বের শীর্ষ আটটি দল খেলে থাকে এখানে এবং প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে। হ্যাঁ, তারা (নিউজিল্যান্ড) ভালো খেলেছে, কিন্তু আগামীকাল নতুন দিন, তাই আমরা নিশ্চিত করবো তারা যেন আগের মতো ভালো খেলতে না পারে।’









