অল্প সময়ের ব্যবধানে মিচেল স্যান্টনার ও গ্লেন ফিলিপসের আঘাতে ডেথ ওভারের বেশ আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার হার হয়ে দাঁড়ায় আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপার। তবুও গ্যালারিতে প্রোটিয়া সমর্থক ও বেঞ্চের ক্রিকেটারদেরকে আনন্দ আর উত্তেজনার উপলক্ষ এনে দিলেন ডেভিড মিলার। নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া রান অতিক্রম করার চেয়ে তার সেঞ্চুরি দেখার তাড়না ছিল সবার মধ্যে। শেষ দিকে কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে সফল হন তিনি। প্রোটিয়া ব্যাটার ইনিংসের শেষ বলে সেঞ্চুরি করে জয়ের সমান আনন্দ ছড়ান।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড রানের জবাবে টেম্বা বাভুমা ও রাসি ফন ডার ডুসেনের একশ ছাড়ানো জুটিতে লড়াই জমিয়ে তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। স্যান্টনার এই জুটি ভেঙে দিলে আর দাঁড়াতে পারেনি প্রোটিয়ারা। এই স্পিনারের পর ফিলিপস আঘাত করেন। তাতে হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ৯ উইকেটে ৩১২ রানে থামে আফ্রিকানরা। ৫০ রানে সেমিফাইনাল জিতে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল নিশ্চিত করলো নিউজিল্যান্ড। আগামী রবিবার দুবাইয়ে হবে শিরোপার লড়াই।
রাচিন রবীন্দ্র ও কেন উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে রেকর্ড ৩৬২ রান করে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু পরিসংখ্যান ছিল তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে। ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে সফল হওয়ার তালিকায় শীর্ষ দুটি স্থানই তাদের দখলে। ২০০৬ সালে ৪৩৮ ও ২০১৬ সালে ৩৭২ রান করে জিতেছিল প্রোটিয়ারা, দুইবারই তাদের সামনে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এবার মিচেল স্যান্টনার ও গ্লেন ফিলিপসের স্পিন সামলে নিউজিল্যান্ডের ধারেকাছে যেতে পারেনি তারা।
পঞ্চম ওভারে রায়ান রিকেলটন (১৭) ম্যাট হেনরির শিকার হন। ২০ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর বাভুমা ও ডুসেন মিলে শক্ত জুটি গড়েন। ১০৫ রানে তাদের জুটি ভেঙে দেন স্যান্টনার। বাভুমাকে ৫৬ রানে ফেরান তিনি। সেট হওয়া ডুসেনও ৬৯ রানে তার শিকার। দারুণ এক ডেলিভারিতে প্রোটিয়া ব্যাটারকে বোকা বানিয়ে মিডল স্টাম্প ভেঙে দেন স্যান্টনার। এরপর কিউই অধিনায়ক মাত্র ৩ রানে ফেরান দারুণ ফর্মে থাকা আইনরিখ ক্লাসেনকে।
১৬৭ রানে চার উইকেট পড়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা ওখানেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এইডেন মার্করামকে (৩১) ফিরতি ক্যাচে মাঠছাড়া করেন রাচিন রবীন্দ্র। উইয়ান মুল্ডার (৮) মাইকেল ব্রেসওয়েলের শিকার হওয়ার পর ফিলিপস জোড়া আঘাত হানেন। মার্কো ইয়ানসেন (৩) ও কেশভ মহারাজ (১) প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
কাগিসো রাবাদাকে নিয়ে ডেভিড মিলার বাউন্ডারি ওভার বাউন্ডারিতে গ্যালারি মাতান। তাতে কেবল ব্যবধানই কমেছে। বড় শট খেলতে গিয়ে হেনরির বলে ফিলিপসের ক্যাচ হন রাবাদা (১৬)। ইনিংসের বাকি সময়ে একাই লড়াই করেছেন মিলার। এক উইকেট হাতে রেখে দলের হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালেও ৪৬ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে পঞ্চাশ করা এই ব্যাটার সেঞ্চুরির জন্য ছুটতে থাকেন। শেষ ওভারে সফলও হন তিনি। ৬ বলে তাকে করতে হতো ১৮ রান। দুটি চার ও ছয় হাঁকানোর পর শেষ বলে ২ রান নিয়ে ৬৭ বলে সেঞ্চুরি উদযাপন করেন মিলার। ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে স্যান্টনার সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। দুটি করে পান হেনরি ও ফিলিপস।









