মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মোহামেডান ও রূপগঞ্জ ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচ। কিন্তু খেলাকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। বুধবার রাতে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। পরের দিন ২২ গজে মোহামেডানের জার্সিতে মাঠে নামার পর যেন সবার দৃষ্টি ছিল তার দিকেই। মাঠে নামার আগে সতীর্থরা গার্ড অব অনার দিয়ে শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন মুশফিককে। ম্যাচ শেষে কেকও কেটেছেন সতীর্থদের সঙ্গে। এই দিনে অবশ্য তিনি ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। দুটো স্টাম্পিং ও একটা ক্যাচ নিয়েছেন কেবল। ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়ে আলোচনা তৈরি করা মুশফিক মিডিয়া থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন! গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকলেও কথা বলেননি তিনি।
কাগজে-কলমে এবারের মৌসুমে সবচেয়ে শক্তিশালী দল গড়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। কিন্তু মৌসুমের সবচেয়ে নবীন দল গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু করেছিল তামিম ইকবালের দল। তবে হারের গ্লানি কাটিয়ে জয়ে ফিরতে সময় নেয়নি মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-তামিম-মিরাজদের নিয়ে গড়া মোহামেডান। বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৭ উইকেটে হারিয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে রূপগঞ্জ টাইগার্স ব্যাটিং করে ২২২ রান তোলে। জবাবে খেলতে নেমে মোহামেডানের শুরুটা ভালো হয়নি। পঞ্চম ওভারেই ওপেনার তামিমকে হারায়। ১৭ বলে ১৪ রান করে আউট হন এই ওপেনার। এরপর রনি তালুকদার ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। রনি ৩৬ রানে আউট হলে ৪৭ রানের জুটি ভাঙে তাদের। এরপর আরিফুল আউট হলে মোহামেডানের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১০৬ রান। চতুর্থ উইকেটে অঙ্কন ও তাওহীদ হৃদয় মিলে ১১৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ৩৭.৫ ওভারে মোহামেডানকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। অঙ্কন ৯৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে হৃদয় ৪৭ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ৭৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। দায়িত্বশীল ভূমিকায় থেকে দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন অঙ্কন।
রূপগঞ্জের বোলারদের মধ্যে ফরহাদ হোসেন, এনামুল হক আশিক ও মাহমুদুল হাসান প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
রূপগঞ্জ প্রথম ওভারেই উইকেট হারায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। দলের প্রত্যেকেই শুরুটা ভালো পেয়েছেন, কিন্তু ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪১ রান আসে অধিনায়ক আল আমিন জুনিয়রের ব্যাট থেকে। এছাড়া তানভীর হায়দার ৩৭ রান করেন। সবমিলিয়ে রূপগঞ্জ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে করে ২২২ রান।
মোহামেডানের বোলারদের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ, এবাদত হোসেন ও তাইজুল ইসলাম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট নেন আবু হায়দার রনি, মুশফিক হাসান ও রনি তালুকদার।









