বেঙ্গালুরুর চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে নিজেদের গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ম্যাচটি শুরু হবে। বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি বাঁচা-মরার লড়াই। অন্যদিকে ভারতের সামনে নেট রান রেট বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ!
ম্যাচটিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মঙ্গলবার অনুশীলন করেনি। তবে ভারত এদিন চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অনুশীলন করেছে। অনুশীলন না করলেও বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলের সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি সংবাদ সম্মেলনে অনেক কিছুই অস্পষ্ট রেখেছেন। তাই টাইগার শিবিরের ছবিটা স্পষ্ট পাওয়া যায়নি।
টুর্নামেন্টে টিকে থাকা, সেমির ক্ষীণ আশা জিইয়ে রাখা ও পরাজয়-হতাশা ভুলে জেগে উঠার ক্ষেত্রে ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। তবে মঙ্গলবার ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের আবহটা ধরা পড়েনি কারও কাছেই।
গত কয়েক বছরে দুই দেশের ম্যাচকে ঘিরে বেড়ে উঠা উত্তাপ, বহিরাবরণে কথার লড়াই সবই অনপুস্থিত বেঙ্গালুরুতে। এমন ম্যাচের আগে হোটেলবন্দী হয়েছিল বাংলাদেশ। আর নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে বেশ ফুরফুরেই আছে ভারত। অন্য দশটা ম্যাচের মতোই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিয়াস থাকবে ট্রফিতে চোখ রাখা মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে আসা আশিষ নেহরা তেমনটাই জানালেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ক্রিকেট খেলছে। এমন দলের বিপক্ষে জিততে গেলে ভালো ক্রিকেট খেলেই জিততে হবে। এছাড়া তাসকিন না থাকলেও আল আমিন ও মুস্তাফিজ আছে তাদের দলে। তাই কোনও মতেই বোলিং আক্রমণ খারাপ নয় বাংলাদেশের।’
নেহরা বাংলাদেশকে সমীহ করলেও দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে বাংলাদেশকে হারিয়েছে ভারত। এশিয়া কাপের ফাইনালে জয়ের স্মৃতিতো তরতাজা আছে এখনও। তবে গত বছর জুলাইতে এবং এশিয়া কাপে মুস্তাফিজ প্রচুর বেগ দিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে। মুস্তাফিজের ফেরাটা তাই স্বস্তির খবর টাইগারদের জন্য। বল হাতে আবারও মুস্তাফিজ ভারতকে পোড়াবেন এমন আশা সবার।
এদিকে বাংলাদেশ দলের একাদশে আসতে পারে একটি পরিবর্তন। শুভাগত হোমের জায়গায় নাসির হোসেন সুযোগ পেতে পারেন।
বুধবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে আশাবাদী সাকিব। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ আমি মনে করি কন্ডিশন বেশ ভালো। সচরাচর এখানে অনেক রান হয়। অনেক দলই এখানে লক্ষ্য তাড়া করতে পছন্দ করে। টস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সবকিছুর থেকে খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। বোলি, ব্যাটিং ও ফিল্ডিং ভালো হলে আমাদের পক্ষে ফল আসা অবাস্তব নয়।’
তাসকিন না থাকায় ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ কিছুটা হলে চোখ রাঙানি দিচ্ছে লাল-সবুজদের। ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মার প্রিয় মাঠ এটি। এই মাঠেই ২০৫ রানের ব্যক্তিগত ইনিংস আছে তার। শুধু রোহিত শর্মাকে ঠেকালেই হবে না। সেই সঙ্গে বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়না এবং মহেন্দ্র সিং ধোনিও আছে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের মধ্যে।
সাকিব অবশ্য ইতিবাচক ভাবছেন। তার মতে, ‘তারা দলের মূল খেলোয়াড়। এরা সবাই ম্যাচ উইনার। ভারতের হয়ে বিভিন্ন সময়ে ম্যাচ জিতিয়েছে। তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের ব্যাটিং অর্ডার এখন সেরা। আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে এবং নিখুঁতভাবে বোলিং করতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন আমরা জানি কিভাবে ম্যাচ জিততে হয়। আমাদের তরুণ ক্রিকেটার আছে তারা ম্যাচ জেতাতে সক্ষম। এখন অনেক কন্ট্রিবিউটর দলে আছে। আগে হয়ত দুই-তিনজন ছিল। এখন পাঁচ-ছয়জন আছে। যারা প্রতিনিয়ত ভালো করে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের এলোমেলো সংসারে নতুন চ্যালেঞ্জ পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙা। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে এতসব চ্যালেঞ্জকে জয়ের প্রশান্তিতে ঢেকে দেওয়ার মানসিক সাহসটা দেখাতে পারবে কিনা বাংলাদেশ, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বুধবার রাত আটটা থেকে ১৬ কোটি মানুষ মাশরাফি-রিয়াদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে!
/এফআইআর/








