টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজা অবসরে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জন বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়া কাপ থেকেই। বাংলাদেশের অনেক মিডিয়াতেও এ নিয়ে ফলাও করে খবর ছাপা হয়েছে। চলতি বিশ্বকাপ শেষেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে অবসরে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা- এমন খবর মিডিয়ায় এলেও মাশরাফি নিজে সরাসরি এমনটা বলেননি কখনও! তারপরও যদি ঘটনা সত্যি হয়, সেক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে মাশরাফির টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
বাংলাদেশের সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে অল্প-বিস্তর জানেন। হয়তো কালকেই টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শেষ হতে চলেছে তার। কিন্তু ভারতীয় সাংবাদিকরা যেন মাশরাফিকে পুরোপুরি অবসরে পাঠিয়ে দিতে চান! ধর্মশালা হয়ে ইডেন। ইডেন হয়ে বেঙ্গালুরু এরপর আবার ইডেনে। ঘুরেফিরে বারবার মাশরাফিকে লক্ষ্য করে অবসর কবে নিচ্ছেন এমন প্রশ্ন ভারতীয় সাংবাদিকদের। যেন মাশরাফির মুখ থেকে অবসরের কথা বের করেই ছাড়বেন তারা!
শুক্রবারও এমনই একটি প্রশ্ন এসেছে ভারতীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে। এক ভারতীয় সাংবাদিক প্রশ্ন করেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই কি আপনার ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ম্যাচ হতে চলেছে? মাশরাফিও দক্ষতার সঙ্গে উত্তর দিলেন। তিনি বলেন, ‘বাসায় গিয়ে এটা নিয়ে ভাববো!’ মাশরাফির এমন কূটনৈতিক উত্তরে জানা যায়নি তিনি সত্যি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন কিনা।
তবে ঢাকায় এশিয়া কাপ চলার মাঝপথে জানা গিয়েছিলো ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে মাশরাফির পক্ষ থেকে! যদিও এখন পর্যন্ত সেই ঘোষণা আসেনি। ২০০১ সালে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়া মাশরাফি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই অবসরে যাচ্ছেন-বলে খবর চাউড় হয়েছিলো মিরপুরে। সেই খবর ভাসছে ভারতের আকাশেও। কিন্তু খবরটা সত্যি-মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি এমনটা হয় সেক্ষেত্রে মাশরাফির এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেট ভক্ত তথা মাশরাফি ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা আবিষ্কার মাশরাফি-অনেকেই হয়তো দ্বিমত করতে পারেন। কিন্তু এটা সত্যি, ছয় ছয়বার অস্ত্রপচার করে যেভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন, সেটা বিরল। গোটা ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ক্রিকেটার খুঁজে পাওযা যাবে না! এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমি ক্রিকেট ভালোবাসি। তাই নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে এখনও ক্রিকেট খেলছি। আমার মতো অবস্থা নিয়ে কোনও ক্রিকেটার ক্রিকেট খেলেছেন কিনা আমার জানা নেই।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটের সফলতা ও ব্যর্থতার রাজসাক্ষি মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০০১ সালে ওয়ানডে ও টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। বোলার ও অধিনায়ক হিসাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদান মূল্যায়ন করার মত। পায়ে ৭টি অস্ত্রপাচারের পরও অদম্য মানসিকতার মাশরাফি খেলে গেছেন দেশের জার্সি গায়ে। সেই মাশরাফি এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট তার হাত ধরেই বদলে গেছে। ক্রিকেটকে তিনি এই ক’বছর দুই হাত ভরে দিয়েছেন।
২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ১৬ বছর ধরে খেলে চলেছেন এবং দাপটের সঙ্গেই খেলছেন। মাশরাফি ওয়ানডেতে ১৬০টি ম্যাচ খেলে ২০৪টি উইকেট নিয়েছেন। ৩৬ টেস্টে ৭৮টি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে ৪৮ টি-টোয়েন্টি খেলে ৩৭টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে টেস্টে তার রান ৭৯৭, ওয়ানডেতে ১৪৪২ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৩৬৩।
/আরআই/এমআর/








