আরব আমিরাতের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে বাংলাদেশের ব্যর্থতার মিছিল শুরু। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলটির কাছে নতজানু হওয়ার পর পাকিস্তানে গিয়েও কুড়ি ওভারের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় তারা। তারই ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কাতেও হার দিয়ে শুরু হলো এই সংস্করণের সিরিজ। টি-টোয়েন্টিতে হারের বৃত্তটা কেবল বড়ই হচ্ছে বাংলাদেশের। এনিয়ে টানা ৬ ম্যাচ হারলো লিটন দাসের দল। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশেকে নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠেছিল লঙ্কান ক্রিকেটাররা। কুশর মেন্ডিস-পাথুম নিসাঙ্কারা যেন শেখালেন কীভাবে টি-টোয়েন্টি খেলতে হয়।
টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজ হারের হতাশা কাটিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু পাল্লেকেলেতে লিটনের নেতৃত্বে সেই প্রত্যাবর্তনের গল্পটা শুরুই হলো নতুন এক ব্যর্থতায়। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ উইকেটের হারে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নেতিবাচক মানসিকতার প্রদর্শন হয়েছে। অন্যদিকে লঙ্কানরা দেখিয়েছে এই ফরম্যাটটা ঠিক কীভাবে খেলতে হয়। ব্যাটিংবান্ধব কন্ডিশনেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা খেলেছেন সাদামাটা, ধীরগতির ইনিংস। ক্রিকেট বদলে গেলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং চিন্তাধারা সেই পুরানো ধাঁচের। লিটনের নেতৃত্বে নতুন কিছু দেখার অপেক্ষায় থাকা দর্শকরা হতাশ হয়েছেন, উল্টো মিলেছে পরিকল্পনাহীন ব্যাটিং।
পাল্লেকেলেতে কোনোমতে ১৫৫ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। লঙ্কান দুই ওপেনার কুশল ও নিসাঙ্কা বাংলাদেশের তিন পেসারের ওপর টর্নেডো বইয়ে দেন। এক বছর পর ফেরা সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিব- কেউই তাদের তাণ্ডব থেকে রেহাই পাননি। প্রথম ২৭ বলেই স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৭৮ রান। ভযঙ্কার হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আউট হওয়ার আগে নিসাঙ্কা খেলেন ১৬ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪২ রানের ইনিংস। জুটি ভাঙার পর রানের গতি কিছুটা কমে আসে। এরপর দুই কুশলের (মেন্ডিস ও পেরেরা) দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেকে আসে ৪২ রান। এই জুটির পর আরও একটি উইকেট তুলে নিলেও প্রতিরোধহীনভাবেই ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। ৫১ বলে ৭৩ রান করা মেন্ডিস লঙ্কানদের সেরা ব্যাটার।
বাংলাদেশের বোলাদের মধ্যে কেউই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারেননি। সাইফউদ্দিন-তাসকিস-জুনিয়র সাকিব ছিলেন ছন্নছাড়া। তাদের নখদন্তহীন বোলিংয়ের সহজ সুযোগ নিয়েছে লঙ্কানরা। তাসকিন ৩ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে বোলার। সাইফউদ্দিন একটি উইকেট নিলেও ৩ ওভারে খরচ করেন ২২ রান। জুনিয়র সাকিব ৩৪ রান খরচায় ছিলেন উইকেট শূন্য। ভালো বোলিং করেছেন কেবল রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুইজনই ৪ ওভার বোলিং করে ২৪ রান খরচায় একটি করে উইকেট শিকার করেন।
বাংলাদেশ দল বোলিংয়ের আগেই মূলত ম্যাচটা হেরে গেছে ব্যাটিং ব্যর্থতায়। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, সেটি বোঝতে সময় নেয়নি লঙ্কান বোলাররা। ১২০ বলের ইনিংসে ৩৯টি ডট খেলেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বিশেষ করে ইনিংসের মাঝখানের ১০ ওভারে (৭ম-১৬তম) ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬২ রান তুলে রানরেট নামিয়ে আনে। ওখানেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ থাকার পরও আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে পারেনি তারা।
ওয়ানডেতে বাজে ফর্মের কারণে বাদ পড়া অধিনায়ক লিটন এই ম্যাচে হতাশ করছেন, আউট হয়েছেন ৬ রানে। দারুণ ছন্দ নিয়ে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ তার আউটের পরই ছন্দ হারায়। অনেকদিন পর ফেরা নাঈমও ভালো স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করতে পারেননি। যদিও শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। একাদশে শামীম থাকতেও আগে নামানো হয় মিরাজকে! তিনি ২৯ রান পেলেও ইমপ্যাক্ট ইনিংস খেলতে পারেননি। মিরাজের আউটের পর শামীম ক্রিজে নেমে ৫ বলে ১৪ রান করে বাংলাদেশের স্কোরকে নিয়ে যান ১৫৪ রানে। তাতেই লড়াই করার মতো কিছুটা পুঁজি পায় লিটনরা।
ব্যাটিংয়ের আগে বাংলাদেশের বোলারদের লঙ্কান বোলাররা শিখিয়েছেন কীভাবে ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করতে হয়। কীভাবে দুর্বল জায়গায় বোলিং করে সাফল্য তুলে আনতে হয়। কিন্তু ম্যাচের পর ম্যাচ ভুল করে সেইসব ভুল শোধরানোর কথা জানান ক্রিকেটাররা। কিন্তু ম্যাচের পর ম্যাচ গেলেও ভুলগুলো আর শোধরায় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে যেন ফিরে গেছে পুরানো আমলে! যেখানে সম্মানজনক হার কিংবা কিছুটা লড়াইয়েই ইতিবাচক দিক খুঁজে পেতেন ক্রিকেটাররা! এতো বছর পরও লিটনরা হারের পরও খোঁজেন ইতিবাচক দিক। অথচ অপেক্ষাকৃত তরুণ লঙ্কান ক্রিকেটারদের কাছ থেকে কিছুই শিখতে পারছেন না তারা!









