মিরপুরের উইকেট মানেই স্পিনাদের স্বর্গরাজ্য। উইকেটে বল আসে ধীরগতিতে, বল হয় নিচু। এখানে পেসারদের ভূমিকা সামান্যই। স্ট্রাগল করেন ব্যাটাররা। তবে কখনও কখনও মিরপুরের উইকেট হয়ে উঠে স্পোর্টিংও; ব্যাটারদের যেমন ভূমিকা থাকে, বোলারদের থাকে সমান সহযোগিতা। রবিবার শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজে উইকেট কেমন হচ্ছে সেটি নিয়ে চলছে আলোচনা। তাতে মিরপুরের চরিত্রগত উইকেটই কি থাকবে নাকি স্পোর্টিং উইকেট হবে? সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটন দাস অবশ্য ভালো উইকেটের আশা করছেন।
শনিবার বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ছিল সন্ধ্যায় ফ্লাডলাইটের আলোয়। অনুশীলন শুরুর আগে মাঠে এসেই লিটন সোজা চলে যান উইকেটের কাছে। সেখানে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে উইকেট পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। এরপরই আসেন সংবাদ সম্মেলনে। উইকেট সম্পর্কে জানতে চাইলে শুরুতেই বলেন, ‘উইকেট ভালোই দেখলাম। আমার কাছে মনে হয় ভালো উইকেট হবে। ব্যাটিং–বোলিং দুই সাইডেই থাকবে। ’
তবে শঙ্কার কথাও ফুটে ওঠে লিটনের কণ্ঠে। গত কিছুদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে মিরপুরে। সূর্যের আলো সেভাবে না পাওয়াতে উইকেটে কিছুটা ভেজা ভাব থাকা স্বাভাবিক। এমন উইকেট ব্যাটারদের জন্য কঠিন হতে পারে। লিটন সেটাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘এই মুহূর্তে জিনিসটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। যারা উইকেট বানাচ্ছে তাদের জন্য। আবহাওয়ার ওপর তো আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনি যদি দেখেন, লাস্ট–তিন চারদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। যে মানুষটা পরিশ্রম করে আপনাকে উইকেট বানিয়ে দেবে, সেই মানুষটার হাতেও ওই সময়টা ছিল না। এই মুহূর্তে আমাদের উইকেট নিয়ে ভাবার কিছু নাই। উইকেট পাকিস্তানের জন্য যা থাকবে, বাংলাদেশ দলের জন্যও সেইম থাকবে। আমরা কতটা উইকেটটাকে রিড করে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি সেটাই দেখার।’
মিরপুরের উইকেটে খেলে ব্যাটারদের ক্যারিয়ার শেষ হবে যাবে-এমন মন্তব্য করেছিলেন সাকিব আল হাসান। লিটনও হতাশ ছিলেন মিরপুরে খেলা নিয়ে। যদিও বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল এখানে লিটনই। সবচেয়ে বেশি ১৮ ম্যাচ খেলে ৩০ গড়ে মিরপুরে তার রান ৫১০।
তবে লিটন মিরপুরে খেলার নেতিবাচক বিষয়টি আবারও তুলে ধরেছেন সংবাদ সম্মেলনে, ‘আমিও একমত! (২০২১ সালের নিউ জিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খেলে) অনেক ক্রিকেটারেরই ক্যারিয়ার নিচু হয়ে গেছে ব্যাটসম্যান হিসেবে। যদি বোলার হতাম, হয়তো আমার ক্যারিয়ারও বিল্ড-আপ হতো ওই উইকেটে খেললে (হাসি)। অবশ্যই দল হিসেবে বাংলাদেশ ডেভেলপ করেছে, সিরিজ জিতেছিল, সেটা বিশাল প্লাস পয়েন্ট। তবে একই সময়ে ব্যটারদের জন্য আবার খারাপ ছিল। আমার মনে হয় না ওই জিনিসের পুনরাবৃত্তি হবে। উইকেট দেখে ভালো মনে হয়েছে। আশা করি, একটা ইভেন গেম হবে।’
লিটন আরও বলেছেন, ‘প্রথমত, ব্যাটারদের যে সবসময় সমস্যা হয় তা না। ক্লিয়ার করে দেই, পার্টিকুলার দুইটা সিরিজ ব্যাটারদের একটু সমস্যা হয়েছে। চ্যালেঞ্জিং থাকে, স্পিনারদের বল স্পিন করে। ব্যাটাররা রান করে না তা না, রানও হয়। পেস বোলাররাও সাহায্য পায়, স্পোর্টিং উইকেট এটা। দুই সাইডের জন্যই ইকুয়েল থাকবে, এমন না আমরা শুধু এডভান্টেজ পাবো। তাদেরও পেস বোলার আছে, স্পিনার আছে, ব্যাটার আছে। ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে এটাই....। মিরপুর সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়, এট দ্য সেইম টাইম এটা নিয়েই ভালো খেলতে হবে।’
এমনিতে মিরপুরের উইকেট ধীরগতির হলেও গত বিপিএলে ভালো উইকেটে খেলা হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার ম্যাচে রান খুব ভালো হয়েছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজও সন্ধ্যায়। সেক্ষেত্রে ভালো উইকেটের প্রত্যাশাই বেশি থাকছে। লিটনের ভাবনা, ‘আমার ক্রিকেট অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় এখানে (বিপিএল ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রানের তফাত) দুইটা বিষয়। আমরা যখন বিপিএলটা খেলি, একটা ইনিংস থাকে যেখানে শিশির পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন ব্যাটিং করাটা সহজ হয়ে যায়। আর বিপিএলে আমার মনে হয় না, প্রত্যেক দলে ৫টা মানসম্পন্ন বোলার থাকে। তাই ২-১টা বোলারকে টার্গেট করলে রানটা বেড়ে যায়। তবে জাতীয় দল ভিন্ন জায়গা। প্রতিটি দলে ৫-৬টা মানসম্পন্ন বোলার থাকে। তো আমার মনে হয়, হাই স্কোরিং না হলেও খেলাটা জমবে খুব। দুই দলই কাছাকাছি থাকবে।’









