প্রথম টি-টোয়েন্টি: বাংলাদেশ ১৫.৩ ওভারে ১১২/৩ (জাকের ১৫*, ইমন ৫৬*, তানজিদ ১, লিটন ১, হৃদয় ৩৬)
পাকিস্তান ১৯.৩ ওভারে ১১০/১০ (আবরার ০*, সাইম ৬, হারিস ৪, সালমান ৩, হাসান নওয়াজ ০, মো. নওয়াজ ৩, ফখর ৪৪, খুশদিল ১৭, ফাহিম ৫, সালমান মির্জা ০, আব্বাস ২২)
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: পারভেজ হোসেন ইমন।
শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ ঘরের মাঠে পাকিস্তানকেও হারালো। রবিবার মিরপুরে ৭ উইকেটে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছে তারা।
টসে জিতে বাংলাদেশ ব্যাটিং করতে পাঠায় পাকিস্তানকে। তারপর ১১০ রানে অল আউট করে তারা। সহজ লক্ষ্যে নেমে ১৫.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১১২ রান করে স্বাগতিকরা।
পারভেজ হোসেন ইমন ৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। জয়সূচক ৪ মেরে ১৫ রানে খেলছিলেন জাকের আলী। ৭ রানে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারানোর পর তাওহীদ হৃদয় ও ইমনের ৭৩ রানের জুটি সহজ জয় তরান্বিত করে। ৩৬ রান করেন হৃদয়। ২৭ বল হাতে রেখে জিতেছে বাংলাদেশ।
তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচ মঙ্গলবার।
ছক্কায় ইমনের হাফ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের সেঞ্চুরি
১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা মারেন পারভেজ হোসেন ইমন। তাতে তার দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ করে একশ। ৩৪ বলে ২ চার ও ৫ ছয়ে ফিফটি করেন বাংলাদেশের ওপেনার।
পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউর বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়ে টিকে যান।
বাংলাদেশকে জয়ের পথে রেখে হৃদয় আউট
তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমনের ৭৩ রানের জুটি ভেঙে গেলো। আব্বাস আফ্রিদির বলে বোল্ড হলেন হৃদয়। ৩৬ রান করেন তিনি। ৩৭ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে সাজানো ছিল তার ইনিংস। ১২.৩ ওভারে ৮০ রানে ৩ উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হাফ সেঞ্চুরি
তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমনের জুটিতে ৭.৫ ওভারে বাংলাদেশ ৫০ করেছে।
হৃদয়-ইমন জুটিতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের রান ৩৮
৭ রানে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারানোর পর তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন ঝড় তোলেন। পাওয়ার প্লেতে তাদের রান ৩৮।
তানজিদের পর লিটনকে ফেরালেন মির্জা
সালমান মির্জা অভিষেকে দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশকে বিপদে ফেললেন। ২.২ ওভারে ৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারালো স্বাগতিকরা। মাত্র ১ রান করে স্লিপে খুশদিল শাহের দুর্দান্ত ক্যাচ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন।
মির্জার প্রথম শিকার তানজিদ
পাকিস্তানের বোলার সালমান মির্জা টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকে ব্যাট হাতে ডাক মেরেছেন। তবে বল হাতে নিজের পঞ্চম ডেলিভারিতে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট আদায় করলেন। তানজিদ হাসান তামিম ৪ বলে ১ রান করে মিড অনে ফখর জামানের ক্যাচ হন। ২ রানে এক উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
প্রথমবার পাকিস্তানকে অলআউট করলো বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১১১ রান
শুুরু ও শেষটা দারুণ হলো বাংলাদেশের। পাওয়ার প্লেতেই ৪১ রানে ৪ উইকেট তুলে নেয় তারা। পাকিস্তান এই ধাক্কা কাটিযে উঠতে পারেনি। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে টানা উইকেট হারিয়ে অলআউট তারা। পাকিস্তানকে ১১০ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন ফখর জামান। এছাড়া কেবল দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছান আব্বাস আফ্রিদি (২২) ও খুশদিল শাহ (১৭)। টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার পাকিস্তানকে অলআউট করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে তিন উইকেট নিয়ে সেরা বোলার তাসকিন। মোস্তাফিজুর রহমান পান দুটি উইকেট।
ফাহিমকে ফেরালেন তাসকিন, অভিষেকে ডাক মির্জার
১৯.১ ওভারে পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট পেলেন তাসকিন আহমেদ। ফাহিম আশরাফকে (৫) মেহেদী হাসানের ক্যাচ বানান বাংলাদেশি পেসার। পরের বলে রান আউট হন সালমান মির্জা। অভিষেকে ডাক মারলেন তিনি। পরের বলে আব্বাস আফ্রিদি লিটন দাসের ক্যাচ হন। ২৪ বলে ২২ রান করেন তিনি।
একশ পার করে খুশদিলের বিদায়
রিশাদ হোসেনকে একটি ছয় ও তানজিম হাসান সাকিবকে টানা ছক্কা মেরে দলীয় স্কোর একশ পার করেন আব্বাস আফ্রিদি। ১৭তম ওভারে ভেঙে যায় তার সঙ্গে খুশদিল শাহের ৩৩ রানের জুটি। মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় বলে বৃত্তের ভেতরে রিশাদ হোসেনের ক্যাচ হন খুশদিল। ১০৩ রানে সাত উইকেট পড়েছে পাকিস্তানের।
৪৪ রানে ফখরের বিদায়
খুশদিল শাহ ও ফখর জামান ইনিংস মেরামতের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটিটি ২৪ রানের বেশি হলো না। ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে খুশদিল সিঙ্গেল নিতে চাইলে ব্যাটিং প্রান্তে সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি ফখর। তাসকিন আহমেদের থ্রোতে লিটন দাস স্টাম্প ভাঙেন। ৩৪ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে ৪৪ রানে থামলেন পাকিস্তানি ওপেনার। ৭০ রানে ছয় উইকেট হারালো পাকিস্তান।
পঞ্চাশের আগেই পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট নেই
পাকিস্তান ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে। ৪৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারালো তারা। অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে বোলিং প্রান্তে রান আউট হলেন মোহাম্মদ নওয়াজ। ফখরের শটে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফখর ক্রিজে থেকেই তাকে ফিরে যেতে বলেন। ততক্ষণে লিটনের থ্রোযে মেহেদী হাসান বল ধরেন এবং পাকিস্তানি ব্যাটার ক্রিজে ঢোকার আগেই স্টাম্প ভেঙে দেন। ৩ রান করেন নওয়াজ।
পাকিস্তানের চতুর্থ উইকেট মোস্তাফিজের
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে চতুর্থ উইকেট পড়লো পাকিস্তানের। ষষ্ঠ ওভারে বল হাতে নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান নিজের পঞ্চম বলে হাসান নওয়াজকে রিশাদ হোসেনের ক্যাচ বানান। পাকিস্তানি ব্যাটার ডাক মারেন। পাওযার প্লেতে পাকিস্তানের সংগ্রহ চার উইকেটে ৪১ রান।
তানজিমের বলে আউট পাকিস্তান অধিনায়ক
পঞ্চম ওভারে বল হাতে নিয়ে তানজিম হাসান সাকিব উইকেট পেয়েছেন। শেষ বলে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগাকে (৩) লিটন দাসের ক্যাচ বানান তিনি। স্কুপ শট খেলতে চেয়েছিলেন সালমান। বল তার গ্লাভস ছুঁয়ে বাংলাদেশ অধিনায়কের হাতে জমা পড়ে। ৫ ওভারে ৪০ রানে ৩ উইকেট পড়লো পাকিস্তানের।
মেহেদীর শিকার হারিস
প্রথম ওভারে ফখর জামানের উইকেট পেতে গিয়েও পাননি মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ হারিসকে ফেরালেন তিনি। তার আগের পাঁচ বলে তিনটি চার দেন বাংলাদেশি স্পিনার। ৪ রানে ডিপ মিডউইকেটে শামীম হোসেনের ক্যাচ হন পাকিস্তানি ব্যাটার। ৩ ওভারে ৩২ রানে ২ উইকেট পড়লো পাকিস্তানের।
সাইমকে ফেরালেন তাসকিন
আগের ওভারে চতুর্থ বলে ফখর জামানের ক্যাচ মিস করেন তাসকিন আহমেদ। নিজের প্রথম ওভারে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন বাংলাদেশের পেসার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে পঞ্চম বলে ডিপ ফাইন লেগে সাইম আইয়ুবকে মোস্তাফিজুর রহমানের ক্যাচ বানালেন। ৬ রানে থামলেন পাকিস্তানি ওপেনার। ১.৫ ওভারে ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারালো পাকিস্তান।
ফখরের ক্যাচ ছাড়লেন তাসকিন
ইনিংসের চতুর্থ বলে মেহেদী হাসানের নিচু বল ফখর জামানের ব্যাটে লেগে শূন্যে উড়লো। স্লগ সুইপ করে পাকিস্তানি ব্যাটার ধরেই নিয়েছিলেন তিনি আউট। কিন্তু শর্ট ফাইন লেগে তাসকিন আহমেদ অবিশ্বাস্যভাবে তার ক্যাচ ফেললেন। ৪ রানে জীবন পেলেন ফখর। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে তিনি দলের রানের খাতা খোলেন।
৯ ম্যাচ পর টসে জিতে বোলিংয়ে লিটনের বাংলাদেশ
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টসে জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ। টানা ৯ বার টসে হেরেছেন লিটন দাস, অবশেষে সেই জয়খরা কাটলো তার। মিরপুরে দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সিরিজ জয়ের দল নিয়েই পাকিস্তানের সামনে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ শরিফুল ইসলামের অভিষিক্ত হয়েছেন। পাকিস্তান দলে অভিষেক হচ্ছে সালমান মির্জার।
বাংলাদেশ একাদশ: পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকের আলী, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
পাকিস্তান একাদশ: ফখর জামান, সাইম আইয়ুব, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটকিপার), হাসান নওয়াজ, সালমান আগা (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নওয়াজ, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফ, আব্বাস আফ্রিদি, সালমান মির্জা ও আবরার আহমেদ।
আরও একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান
মাত্র এক সিরিজ আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছিলে লিটন দাসরা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হয়ে ফিরতে হয়েছিল দেশে। তবে এবার ঘরের মাঠে, পরিচিত কন্ডিশনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। রবিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। সরাসরি দেখা যাবে টি-স্পোর্টস ও নাগরিক টেলিভিশনে।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ২২বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পরিসংখ্যান বলছে, এই ২২ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ৩টিতে, বাকি ১৯ ম্যাচে জয়ী দলের নাম পাকিস্তান। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হিসেবেও পাকিস্তানের বিপক্ষে সাফল্য নেই বললেই চলে। ছয়টি সিরিজের মধ্যে পাঁচটিই জিতেছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র একটি সিরিজে। তবে স্বস্তির জায়গা একটাই- ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ, সেটিও ২০১৫ সালে এক ম্যাচের সিরিজে। এরপর ঘরের মাঠেই আরও দুটি সিরিজে হারতে হয়েছে। সময়ের হিসেবে প্রায় ৯ বছর কুড়ি ওভারের ম্যাচ জেতে না বাংলাদেশ।









