গত বছরের ডিসেম্বরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতীয় অফস্পিনার এবার আইপিএল থেকেও অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার সকালে সাবেক টুইটার তথা এক্সে এমন ঘোষণার কথা জানান তিনি। তবে বিভিন্ন লিগে নতুন অভিযান শুরুর কথাও জানিয়েছেন একই পোস্টে। তার মানে বিভিন্ন লিগে দেখতে পাওয়া যাবে টেস্টে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিকে।
এক্সে অশ্বিন লিখেছেন, ‘বিশেষ দিন, তাই বিশেষ শুরু। বলা হয়, প্রতিটি সমাপ্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক নতুন সূচনা। আজ আমার আইপিএল ক্রিকেটার হিসেবে পথচলার শেষ দিন, তবে আজ থেকেই বিভিন্ন লিগে খেলার মাধ্যমে ক্রিকেটকে নতুনভাবে আবিষ্কারের যাত্রা শুরু।’
আইপিএলেও সফলতম বোলারদের একজন অশ্বিন। ১৮৭ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের পঞ্চম উইকেট শিকারি তিনি। ইকোনমি ৭.২। টুর্নামেন্টে তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে শুরু করেছিলেন, শেষটাও করলেন একই দলে থাকা অবস্থায়। তবে তিনি রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টস, দিল্লি ক্যাপিটালস, রাজস্থান রয়্যালসের হয়েও খেলেছেন। অধিনায়কত্ব করেছেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে।
চেন্নাইয়ের হয়ে ২০১০ ও ২০১১ সালে শিরোপা ঘরে তুলেছিলেন অশ্বিন। অন্যদলগুলোতে খেলে ৮ বছর পর হোম সিটির হয়ে খেলতে নেমেছিলেন এই বছর। যদিও সেটা স্মরণীয় ছিল না।
গত বছর মেগা নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) ৯.৭৫ কোটি রুপিতে তাকে দলে নিয়েছিল। ১৪ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে খেলেছিলেন। ২০০৯ সালে অশ্বিনের প্রথম মৌসুমের পর এই প্রথমবার তিনি কোনও মৌসুমে ১২টির কম ম্যাচ খেলেছেন। এটি ছিল তার সবচেয়ে ব্যয়বহুল মৌসুমও—প্রতি ওভারে গড়ে ৯.১২ রান খরচ করেন তিনি। যার ফলে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মৌসুমে ইকোনমি রেট ৮.৪৯-এর ওপরে গেছে।
নতুন যাত্রায় অশ্বিন বিশ্বের অন্যান্য লিগে খেলতে পারবেন। অনেকটা তার রাজ্য (চেন্নাই) সতীর্থ দিনেশ কার্তিকের মতো। ২০২৪ সালের জুনে আইপিএল থেকে অবসর নিয়ে ছয় মাস পর এসএ-টোয়েন্টি লিগে অংশ নিয়েছিলেন। বিসিসিআই কোনও বর্তমান ভারতীয় আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া ক্রিকেটারকে বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার অনুমতি দেয় না। বর্তমানে কার্তিক ভারতীয় ক্রিকেটে কোচিংয়ের ভূমিকা পালন করছেন এবং সুযোগ পেলে বিদেশি লিগগুলোতেও খেলছেন। কার্তিকের মতো অশ্বিনকেও বিদেশে খেলতে হলে তামিলনাডু প্রিমিয়ার লিগ (টিএনপিএল) থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যদি তার প্রতি আগ্রহ দেখায়, তাহলে অশ্বিনের সামনে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল), দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ-টোয়েন্টি, ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিপিএলে খেলার সুযোগ থাকবে।









