দ্বিতীয় টেস্টে সংক্ষিপ্ত স্কোর: আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ ওভারে ১৭৬/৬, লক্ষ্য ৫০৯ ( ম্যাকব্রাইন ১১*, ক্যাম্ফার ৩৪*; বালবার্নি ১৩, স্টার্লিং ৯, কারমাইকেল ১৯, টেক্টর ৫০, টাকার ৭, ডোহেনি ১৫)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ ওভারে ২৯৭/৪ ডি. , লিড ৫০৮ (মুশফিকুর ৫৩*; জয় ৬০, সাদমান ৭৮, শান্ত ১, মুমিনুল ৮৭)
আয়ারল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৮৮.৩ ওভারে ২৬৫/১০ (টাকার ৭৫*; স্টার্লিং ২৭, বালবার্নি ২১, কারমাইকেল ১৭, ক্যাম্ফার ০, টেক্টর ১৪, ডোহেনি ৪৬, ম্যাকব্রাইন ০, জার্ডান ৪৯, হোয়ে ৪, হামফ্রিজ ৪)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৪১.১ ওভারে ৪৭৬/১০ (এবাদত ১৮*; সাদমান ৩৫, জয় ৩৪, শান্ত ৮, মুমিনুল ৬৩, মুশফিক ১০৬, মিরাজ ৪৭, লিটন ১২৮, তাইজুল ৪, মুরাদ ১১, খালেদ ৮)
মিরপুর টেস্টেও বড় জয় জয়ের সামনে বাংলাদেশ। ৫০৯ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে চতুর্থ দিনে আয়ারল্যান্ডের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছে তারা। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীদের স্কোর ৬ উইকেটে ১৭৬ রান। ক্রিজে আছেন কার্টিস ক্যাম্ফার ৩৪* ও অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন ১১*। শেষ দিন তাদের প্রয়োজন আরও ৩৩৩ রান। কিন্তু এই উইকেটে স্বাগতিক স্পিনাররা যেভাবে দাপট দেখাচ্ছেন, তাতে বাংলাদেশের জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।
চায়ের বিরতির আগেই ৭৭ রানে ৩ উইকট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় সেশনে ফিরে ৪১ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে হতাশ করছিলেন ক্যাম্ফার ও হ্যারি টেক্টর। দলের ১১৮ রানে ফিফটি করা টেক্টরকে (৫০) ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন হাসান মুরাদ। দ্রুত সময়ে লরকান টাকারকেও (৭) তুলে নেন খালেদ আহমেদ। তার পর আবার ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন ক্যাম্ফার-ডোহেনি জুটি। শেষভাগে এসে ডোহেনিকে (১৫) এলবিডাব্লউতে ফিরিয়ে আয়ারল্যান্ডের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান তাইজুল। ভাঙে ৩৬ রানের জুটি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। ৩৫ রানে দুটি নেন হাসান মুরাদ। ২৪ রানে একটি নেন খালেদ আহমেদ।
চা বিরতির আগে আয়ারল্যান্ডের ৩ উইকেট নিয়েছে বাংলাদেশ
লাঞ্চের পর মাত্র তিন ওভার খেলেই দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের সামনে ছুঁড়ে দিয়েছে ৫০৯ রানের অসম্ভব এক লক্ষ্য।
তার পর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানে বাংলাদেশের স্পিন বিভাগ। দলের ২৩ রানে ওপেনার ও অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নিকে (১৩) এলবিডাব্লিউতে ফেরান তাইজুল। এরপর দলের ২৬ রানে আরেক ওপেনার পল স্টার্লিংকেও (৯) ফেরান তিনি। এই উইকেট নিয়েই বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলেন তিনি।
২৬ রানে দুই উইকেট হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন কেড কারমাইকেল ও হ্যারি টেক্টর। তৃতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন তারা। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের শেষভাগে হাসান মুরাদের প্রথম বলে এলবিডাব্লিউ হন কারমাইকেল (১৯)।
চায়ের বিরতিতে যাওয়ার আগে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৮৮ রান। ক্রিজে আছেন টেক্টর (২৫) ও কার্টিস ক্যাম্ফার (১০)।
৫০৮ রানের লিড পেয়ে ইনিংস ঘোষণা বাংলাদেশের
লাঞ্চ বিরতির পর মাত্র ৩ ওভার পর্যন্তই খেলেছে বাংলাদেশ। মূলত মুমিনুল হকের সেঞ্চুরি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু তিনি ৮৭ রানে লেগ স্পিনার গ্যাভিন হোয়ের বলে ক্যাচ আউট হওয়ায় ৪ উইকেটে ২৯৭ রানের পরই দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে ভাঙে ১২৩ রানের দুর্দান্ত জুটি। মুমিনুল আউট হলেও মুশফিক ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশ ৫০৮ রানের লিড পাওয়ায় এই টেস্ট জিততে ৫০৯ রানের অসম্ভব এক লক্ষ্য আয়ারল্যান্ডের সামনে ।
৪৯১ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ
দ্বিতীয় টেস্টে চতুর্থ দিনের সকালের সেশন পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে লাঞ্চ বিরতিতে গেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঝড়ো গতিতে খেলে ৪.২৪ গড়ে গড়ে রান সংগ্রহ করে তুলেছে ১২৪ রান। লিড দাঁড়িয়েছে ৪৯১ রানের।
শুরুর দিকে আয়ারল্যান্ড টানা দুই ওভারে আঘাত হানতে পেরেছে। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়ে আউট হয়েছেন সাদমান (৭৮)। তার পর ১ রানে অধিনায়ক শান্তকে ফিরিয়েছেন জর্ডান নিল।
বাংলাদেশ আরও বিপদে পড়তে পারতো। সেটা হয়নি কারমাইকেল মুশফিকুর রহিমের তুলনামূলক সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়ায়। অপরপ্রান্তে ব্যাট করতে থাকা মুমিনুল হক তুলে নিয়েছেন তার ২৫তম টেস্ট ফিফটি। মুশফিকের সঙ্গে ১০৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে লাঞ্চে গেছেন অপরাজিত ৭৯ রানে। ক্রিজে থাকা মুশফিক অপরাজিত ৪৮ রানে।
শুরুতেই টানা দুই ওভারে উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্টে চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ রানের পর আয়ারল্যান্ডকে তৃতীয় দিন ২৬৫ রানে থামিয়েছে স্বাগতিক দল। ২১১ রানে এগিয়ে থেকেও সফরকারীদের ফলোঅন করায়নি তারা। তার পর দ্বিতীয় ইনিসে অসাধারণ প্রতিরোধে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। জয় পঞ্চম ফিফটি তুলে গতকাল দিনের শেষ ভাগে ৬০ রানে ফিরলেও ধরে খেলছিলেন আরেক ওপেনার সাদমান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মুমিনুল হক।
দুজনেই দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিন খেলতে নেমেছিলেন। কিন্তু দিনের চতুর্থ ওভারেই ভাঙে সাদমানের প্রতিরোধ। ব্যক্তিগত ৭৮ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ম্যাকব্রাইনের বলে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন তিনি। পরের ওভারে জর্ডান নিলের শিকার হন নতুন নামা নাজমুল হোসেন শান্তও। শর্টার লেন্থের বলে ছিল বাড়তি বাউন্স, শান্ত ব্যাকফুটে ডিফেন্ড করতে গিয়ে গালিতে বালবার্নির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ বড় লিডের পথে অনায়াসে এগিয়ে চলেছে।









