কে ভেবেছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের এতটা দাপটে কাটবে! মাত্র এক সপ্তাহ আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল যে দল, সেই বাংলাদেশই এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে।
হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকারে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়েছে মাত্র ১৯৮ রানে। এরপর তো বাকিটা সময় দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। তাই দিন শেষে স্কোরবোর্ড বলছে, স্বপ্নের শুরু হয়েছে বাংলাদেশের। ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রানে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। যারা পিছিয়ে আর ১০২ রানে।
অধিনায়ক প্যাট কামিন্স টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার দিনটা যেন উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করে। দিনের শুরুতে উইকেটে বাড়তি ঘাস ছিল। সেই সুবিধাকে অসাধারণভাবে কাজে লাগান বাংলাদেশের তিন পেসার- হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদ।
তিনজন মিলে এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন যে ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড ও মারনাস লাবুশেনের কেউই উইকেটে থিতু হওয়ার সুযোগ পাননি।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ইনিংসে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ আসে স্টিভেন স্মিথের ব্যাট থেকে। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৫তম ফিফটি তুলে নিলেও দলের ইনিংসকে বড় সংগ্রহে নিয়ে যেতে পারেননি। ৭১ রানে ফিরেছেন। তাতে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে যা সর্বনিম্ন!
আর এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল কারিগর ছিলেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়াকে অল্প রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটাররাও নিশ্চিত করেন পেসারদের অসাধারণ পরিশ্রম যেন বৃথা না যায়।
বল হাতে শুরুতে কিছুটা ত্রাস ছড়ান মিচেল স্টার্ক। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাকি বোলাররা, এমনকি অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়নও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারেননি। সাদমানের (২০) বিদায়ে ৩৬ রানে শুরুর জুটি ভাঙার পর দিনের শেষটা দারুণভাবে সামলেছেন মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান।
মুমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত, আর ওপেনার তানজিদ ব্যাট করছেন ৩২ রানে। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানে।
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য- ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে এনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়া। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দিনেই এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং নিঃসন্দেহে বড় বার্তা দিচ্ছে।









