ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্নটা এখন আর কোনো কল্পনা নয়। একেবারে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কারণ, ডারউইনে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এখনও ম্যাচের চালকের আসনে। তবে অস্ট্রেলিয়াও হাল ছাড়েনি। ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। ফলে চতুর্থ দিনেই নির্ধারিত হতে পারে এই রোমাঞ্চকর টেস্টের গতিপথ। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৬১ রানে দিন শেষ করেছে। তারা পিছিয়ে আর ৬৭ রানে।
দুই দিনের তুলনায় এদিন অস্ট্রেলিয়া ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। তার আগে সকালে শেষ চার উইকেটে আরও ৭৫ রান যোগ করে বাংলাদেশ। মূল কৃতিত্ব মেহেদী হাসান মিরাজের। তার ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এবং লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে বড় লিড এনে দেয়। অন্যদিকে জশ হ্যাজলউড ছিলেন দুর্দান্ত। তিনি একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। একই সঙ্গে পেরিয়ে যান টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের ফলে বাংলাদেশের লিড থামে ২২৮ রানে। হ্যাজলউডের ৬ উইকেট ছাড়াও দুটি নেন মিচেল স্টার্ক। একটি করে নেন প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন বল হাতে বাংলাদেশ যেন অস্ট্রেলিয়াকে এক মুহূর্তও স্বস্তি দিতে রাজি ছিল না। হাসান মাহমুদ শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন। জ্যাক ওয়েদারাল্ড আবারও ব্যর্থ হন। ফেরেন শূন্য রানে। তার পর ট্রাভিস হেড ১৭ রানে বোল্ড হন। তাতে স্বাগতিকদের ওপর আবারও চাপ তৈরি করে ফেলে বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারের মূল ব্যাটাররা দায়িত্ব নেন।
মারনাস লাবুশেন (৩১) এবং স্টিভেন স্মিথ (৪৪) শুরুটা ভালো করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। লাবুশেন তাইজুলের শিকার হন। আর মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে কাটা পড়েন স্মিথ। কিন্তু ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ হতে দেননি। গ্রিন ৪৩ রানে অপরাজিত, আর ক্যারি অপরাজিত ১৯ রানে। দুজনে অবিচ্ছিন্ন ৩৯ রানে। তার পরও আপাতত ম্যাচে বাংলাদেশই এগিয়ে।
এই টেস্টে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবার মতো কারণ দিয়েছে। একদিকে ঐতিহাসিক জয়ের হাতছানি, অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা। চতুর্থ দিন তাই রোমাঞ্চকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৩৩ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। একটি করে নেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।









