ডারউইনে এক কথায় নতুন ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ। ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিতে তারা এটা প্রমাণ করেছে যে ক্রিকেটে কাগজ-কলমের হিসাব কিংবা ভবিষ্যদ্বাণী সময় শেষ কথা বলে না। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে সাকিব আল হাসানের ১০ উইকেটের শিকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
ডারউইনে ৯ উইকেটের এই জয়ে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা- এই চার দেশের সমন্বয়ে পরিচিত ‘সেনা’ অঞ্চলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়। এর আগে ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। গত এক দশকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারত ছাড়া বাংলাদেশই দ্বিতীয় এশিয়ান দল, যারা টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে। শ্রীলঙ্কা এখনও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি। পাকিস্তানও দেশটিতে সর্বশেষ জিতেছিল সেই ১৯৯৫ সালে।
এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নাজমুল শান্তর দল। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ২২ আগস্ট।
অজিরা বাংলাদেশকে পাত্তা না দিয়েই এই ম্যাচ খেলতে নেমেছিল। কোনো লাল বলের প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলেই টেস্টে নেমেছিল স্বাগতিকরা। মাঠের পারফরম্যান্সেও যার স্পষ্ট ছাপ দেখা গেছে। মার্নাস লাবুশেন, জেক ওয়েদারাল্ড ও বাউ ওয়েবস্টাররা বেশ অসহায় ছিলেন। বল হাতে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও মনে হয়েছে প্রস্তুতির ঘাটতিতে কিছুটা জড়তা ছিল। গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই হার সেই চাপ আরও বাড়াবে।
টস হারার পর থেকেই বাংলাদেশ একটি ভুলও করেনি। প্রথম ইনিংসে বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা ছিলেন হাসান মাহমুদ। তার ৬ উইকেটের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে মাত্র ১৯৮ রানে। স্টিভ স্মিথ ৭১ রানের লড়াকু ইনিংস না খেললে স্বাগতিকদের সংগ্রহ আরও কম হতে পারতো।
তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল ব্যাটিংয়ে। সেই পরীক্ষাতেও সবাইকে চমকে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় টাইগাররা। তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত ১০১, মুমিনুল হকের ৪৯, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডাররাও একের পর এক ক্যাচ ফেলে বাংলাদেশের কাজ সহজ করে দেন। তবে বল হাতে জশ হ্যাজলউড ছিলেন ব্যতিক্রম। ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে তুলনামূলক ভালো ব্যাটিং করলেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। একমাত্র ক্যামেরন গ্রিনই লড়াই চালিয়ে যান। তার ১০৪ রানের ইনিংসে ভর করে অস্ট্রেলিয়া ৫৬ রানের লিড নিতে সক্ষম হয়। ফলে বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে নামতে হয়।
তবে বল হাতে সেই কাজটিও সহজ করে দেন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামান তিনি। হাসান মাহমুদও প্রথম ইনিংসের ছয় উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে আরও তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ৯ উইকেট শিকার করেন।
জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই তানজিদ তামিমকে শূন্য রানে হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। সাদমান ২৫ এবং মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় সেশনেই বাংলাদেশকে এনে দেন ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লেখা হয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস।









