জোহানেসবার্গে রবিবার রানবন্যার ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টানা দ্বিতীয় জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিজেদের করে নিয়েছে প্রোটিয়ারা।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান তোলে স্বাগতিকরা। জবাবে ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৩ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। দুই দলের শেষ ২৫ ওয়ানডের মধ্যে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯তম জয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের শুরুটা অবশ্য মোটেও স্বস্তির ছিল না। প্রথম বলেই আউট হন এইডেন মারক্রাম।
এরপর ধীরে ধীরে ইনিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। ১১৬ বলে ১০৩ রান করে তুলে নেন ওয়ানডেতে নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে পুরো মাঠজুড়েই শট খেলেছেন তিনি।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাওয়ার কাজটি করেছেন ডেভিড মিলার। বিধ্বংসী ব্যাট করেছেন তিনি। মাত্র ৯৩ বলে ১৪২ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। মেরেছেন ৯টি ছক্কা, সঙ্গে ছিল ১২টি চার। এটি ওয়ানডেতে তার অষ্টম সেঞ্চুরি।
চতুর্থ উইকেটে বাভুমা ও মিলার মিলে যোগ করেন ১৫৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা জ্যাক এডওয়ার্ডস ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১০ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট।
৩৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াও শুরুতে ঝড় তোলে। দ্রুত রান তুলতে থাকেন মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড। ওপেনিং জুটিতে মাত্র ১৭ ওভারে ১৩০ রান যোগ করেন তারা। মার্শ ৫৩ বলে ৮৪ এবং হেড ৭৬ বলে ৮৪ রান করেন।
কিন্তু মাঝের ওভারে এসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের গতি থেমে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার তিন স্পিনার ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। কেশব মহারাজ ৫৪ রানে ২ উইকেট, বিয়র্ন ফোরটুইন ৭০ রানে ২ উইকেট এবং মারক্রাম ৫৫ রানে নেন ১ উইকেট। লিজাড উইলিয়ামস ৫৪ রানে নেন ৩ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার জয়ের আশা অবশ্য শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রেখেছিলেন জেভিয়ার বার্টলেট। মাত্র ২৮ বলে ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ভেঙে পড়ায় ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৩ রানে থামে তাদের ইনিংস। ফলে ৩২ রানের জয় নিয়ে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা।