ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপপর্বের কোনও ম্যাচ না জিতেই, বলতে গেলে ভাগ্যের জোরে গ্রুপের তৃতীয় সেরা দল হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছিল পর্তুগিজরা। রাউন্ড অফ সিক্সটিনে ক্রোয়েশিয়াকে কোনওরকমে হারিয়ে কোয়ার্টারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০ মিনিট লড়াইয়ের পরও সেই ড্র! টাইব্রেকারে গিয়ে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পায় ফার্নান্দো সান্তোসের দল। সেমিফাইনালে ঠিকই জ্বলে উঠেছেন তিনবারের বর্ষসেরা ফুটবলার রোনালদো। একাই হারিয়ে দিলেন গ্যারেথ বেলের ওয়েলসকে, ২-০ গোলে। এই ম্যাচে নিজে একটি গোল করলেন, আর বাকি গোলটি করালেন নানিকে দিয়ে। বলা যায় ফাইনালের আগে দারুণ ছন্দে রোনালদোর পর্তুগাল।
অন্যদিকে শুরু থেকে ফেভারিটদের মতো খেলে এসেছে ফ্রান্স। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক-আউটে ওঠেন পায়েত-গ্রিজম্যান-পগবারা। সেখানে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টারে। শেষ আটে আইসল্যান্ডকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে সেমিতে। সেমিফাইনালে শক্তিশালী জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল।
আগামী রবিবার রাত একটায় ইউরোর ফাইনালে পর্তুগালের মুখোমুখি স্বাগতিকরা। এই ম্যাচে দুই দলের পাশাপাশি রোমাঞ্চ ছড়াবে রোনালদো-গ্রিজম্যান লড়াইও। তাই একটি ধ্রুপদি লড়াই উপভোগ করার অপেক্ষায় রয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
ছন্দে ফেরা পর্তুগালকে নিয়ে বেশ সতর্ক ফরাসি শিবির। জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও সতীর্থদের পা মাটিতেই রাখতে বললেন ফরাসি দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার আন্তোনিও গ্রিজম্যান। রোনালদোদের বিপক্ষে ম্যাচটি খুব চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড। বলেন, ‘এখন ফাইনাল নিয়ে ভাবছি আমরা। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। এই ফাইনালে যে কোনোও কিছুই ঘটতে পারে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
এর আগে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবার মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল ও ফ্রান্স, ১৯৪৮ ও ২০০০ সালে আসরটি সেমিফাইনালে। দু’বারই জয় পেয়েছে ফরাসিরা। বিশ্বকাপে মোটে একবার মুখোমুখি হয় দু’দল। তা-ও আবার সেমিফাইনালে। ওই ম্যাচে জিনেদিন জিদানের একমাত্র গোলে জয় পায় ফ্রান্স। তার চেয়েও বড় খবর, গত দশ ম্যাচে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে পর্তুগাল হেরে সবকটিতে। আর বিজয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফ্রান্স।
সে কারণেই কিনা ফ্রান্সকে ফেভারিট মানছেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘জানি ইউরোর ফাইনালে ফেভারিট ফ্রান্স, কিন্তু জিতব আমরাই। আমি ক্লাব পর্যায়ে অনেক কিছুই জিতেছি। এবার পর্তুগালের হয়ে জিততে পারলে সেটা হবে দারুণ এক অর্জন। আমি বিশ্বাস করি, রবিবারের ফাইনালে পর্তুগাল প্রথমবারের মতো একটা বড় প্রতিযোগিতার শিরোপা জিততে যাচ্ছে।’
/এমআর/








