যে-ই জিতুক ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়াম প্যারিসের 'স্ট্যাদে দে ফ্রান্সে' ইতিহাস একটা হবেই সেটা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু তাতে জড়িয়ে থাকবে এমন আনন্দ-বিষাদের সুর, তা কে জানতো? ম্যাচের ২০ মিনিট হতে না হতেই পায়েতের সাধারণ ট্যাকলে মাঠ ছাড়লেন রোনালদো। চোট এমনই গুরুতর যে আর মাঠেই নামতে পারলেন না তিনি। তারপরও ইউরো চ্যাম্পিয়ন রোনালদোবিহীন পর্তুগাল। রোনালদোর মঞ্চে এদিন পর্তুগিজদের নায়ক হিসেবে আর্বিভূত হলেন আন্তোনিও লোপেজ। যিনি 'এদের' নামে পরিচিত। তার অবদানে ১-০ গোলে স্বাগতিক ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল।
ম্যাচের ২০ মিনিট পার হতেই চোটে পড়ে রোনালদোর বিদায়ের পর আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে এই বুঝি পর্তুগিজ জাহাজ ডুবিয়ে ছড়িয়ে পড়বে ফরাসি সৌরভ। দূর থেকে দাঁড়িয়ে ফরাসিদের জয়োল্লাস দেখতে হবে পর্তুগিজ জাহাজের নাবিক 'ভাস্কো দা গামা' রোনালদোকে। ভাগ্যদেবতা রোষে পড়ে ইনজুরিতে মাঠে বাইরে কপাল চাপড়ানো ছাড়া কিছুই করার ছিল না। কিন্তু রোনালদো মঞ্চে আলো ছড়ালেন এদের। ১১০ মিনিটের মাথায় মৌটিনহোর গোলে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতলো পর্তুগাল। প্রথমবারের মতো ইউরো জিতে ইতিহাস গড়লো রোনালদোর দল।
ক্লাব ফুটবলে এমন কোনও শিরোপা নেই যে জেতেননি তিনবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে অর্জনের ঝুড়িটা শূন্যই ছিল। নানা যুগে বড় তারকা জন্ম দিয়েছে তারা। ইউসেবিও থেকে লুইস ফিগো। হালে রোনালদো তো একক নৈপুণ্যের বদৌলতেই টানছেন পর্তুগালকে। কিন্তু তবু আন্তর্জাতিক শিরোপা না জিতলে নাকি বীর হওয়া যায় না! এবার ফাইনালে এসে সে চেষ্টাই করতে পারলেন না তিনি। তবে তাতে আটকায়নি পর্তুগালের শিরোপা।
জিতলো পর্তুগাল কিন্তু তাতে মাঠে থেকে জয়োৎসব করতে পারলেন রোনালদো। দলের জয়ে কোনও অবদান নেই তার। কিন্তু তাতে কী? দিনশেষে তিনিও ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন। ক্যারিয়ার শেষে নামের পাশে জ্বলজ্বল করবে একটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকে সতর্ক দুই দল। রোনালদো মাঠের বাইরে যাওয়ার পর তার বদলি হিসেবে মাঠে নামে কোয়ারেজমা। স্বাভাবিকভাবে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয় পর্তুগাল। তবে প্রথমার্ধে তেমন আক্রমণ চালাতে পারেন ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগিজ রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন পায়েত গ্রিজম্যানরা। তবে দুর্ভাগ্যের কারণে বেশ কয়েকটি নিশ্চিক গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। নির্ধারিত সময়ে শেষে খেলা গোলশূন্য ড্র। ইউরোর ফাইনালের ইতিহাসে এই প্রথম নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও গোল হলো না। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে সেখানেই বাজিমাত করেন এদের। মৌটিনহোর পাস থেকে দুর্দান্ত এক শট থেক দারুণ এক গোল করে বসেন তিনি।
এ জন্য 'অখ্যাত' এদেরকে কুর্ণিশ করতেই পারেন রোনালদো। তার কল্যাণ্যেই যে ইউরো শিরোপা জেতার স্বাদ পেলেন তিনি। দূর হলো দীর্ঘদিনের হাহাকার। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের দীর্ঘ অর্জনে যোগ হলে একটি আন্তর্জাতিক শিরোপা। যার দিকে এতদিন চাতক পাখির মতো চেয়েছিলেন তিনি।
/এমআর/








