হেড কোচ পল সেইন্টফিটের পরিকল্পনায় অনেক আগে থেকেই ছিলেন না বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। যেই ধারাবাহিকতায় ভুটানের বিপক্ষেও দলে স্থান পাননি। এর কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সোমবার বাফুফে ভবনে সেইন্টফিট জানালেন ক্যাম্প বর্জন করাতেই এমনটি ঘটেছে তার ভাগ্যে, ‘মামুনুল ইসলাম দেশের সেরা ফুটবলারদের একজন। তাকে সম্মান করি। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে মামুনুল ইসলামসহ ৫ জন জাতীয় দলের ক্যাম্প বর্জন করে নৌবাহিনীর একটি ম্যাচ খেলার জন্য গিয়েছিল। আমি এতে অবাক হয়েছিলাম। জাতীয় দলের ক্যাম্প বর্জন করে নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়াকে আমি কখনো সমর্থন করি না।’
সেইন্টফিটের কাছে জাতীয় দলের ক্যাম্পই সব। ওই ৫ ফুটবলারের এমন কাণ্ডের পর জাতীয় দলের প্রতি তাদের ভালোবাসা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই কোচ, ‘ওদের এমন ঘটনার পর আমি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম। এটা কি জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ? জাতীয় দলের প্রতি সর্বোচ্চ মনোযোগ যে খেলোয়াড় দেয় না তাকে আমি পছন্দ করতে পারি না।’
ক্যাম্প বর্জনের পাশাপাশি অনুশীলনেও অনিয়মিত ছিলেন মামুনুল। যেটাকে মামুনুলকে বাদ দেওয়ার আরেকটি কারণ হিসেবেও দেখিয়েছেন সেইন্টফিট, ‘মামুনুল পরে ইনজুরি নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসলেও পরবর্তী এক সপ্তাহ পুরোদমে অনুশীলনের মধ্যে ছিল না। তাই ভুটানের বিপক্ষে যে পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলাম সেখানে মামুনুলকে স্বাভাবিকভাবেই রাখিনি।’
এরআগে মালদ্বীপের বিপক্ষেও দলে জায়গা পাননি মামুনুল। সেসময় ফিটনেস পরীক্ষায় না উতরানোতেই এমনটি করেছিলেন বেলজিয়ান কোচ সেইন্টফিট, ‘মালদ্বীপ ম্যাচের জন্যও সে নির্বাচিত হয়নি। কারণ সে ফিট ছিল না। আর আমি জোর দিয়ে বলতে পারি যে তার স্থানে খেলা আব্দুল্লাহ ছিল মালদ্বীপের বিপক্ষে সেরা খেলোয়াড়।’
আজ দুপুরেই অবসরের ঘোষণা দেন মামুনুল। এ বিষয়ে হেড কোচকে কিছুই জানানো হয়নি বলে দাবি করেন সেইন্টফিট, ‘এ বিষয়ে সে আমাকে কিছুই জানায়নি। তার সঙ্গে আমার কথাও হয়নি। আর তার সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক তার সুবাদে আমি তার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে পারি। কিন্তু এ মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করতে পারছি না।’
ইতোমধ্যেই সেইন্টফিটের দল থেকে বাদ পড়াতে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মামুনুল। পুরো চিত্র এখনও সামনে না আসলেও বর্তমানে উত্তেজক পরিস্থিতি বিরাজ করে বাফুফে ভবনে।
/আরএম/এফআইআর/







