উত্তেজনার অন্যরকম আবহ তৈরি হয় ম্যাচটা ঘিরে। অন্য মহাদেশে, ভিন্ন সময়ে মাঠে গড়ানো ম্যাচটির অপেক্ষায় মুখিয়ে থাকে বিশ্বের অন্য প্রান্তের ফুটবলপ্রেমিরা। বাংলাদেশে ম্যাচটির প্রভাব কতটা, সেটা আসলে না বললেও চলে। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের দ্বৈরথে দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায় বাংলাদেশ। আরামের ঘুম মাটি করে ফুটবল রোমান্ট্কিরা কাক ডাকা ভোরে বসে পড়ে টেলিভিশনের সামনে। গত বছরের নভেম্বরে শেষবার সেই উত্তাপ গায়ে মেখেছিল বাংলাদেশ সহ গোটা ফুটবল বিশ্ব। আবার সেই নভেম্বরেই ফুটবল উৎসবে বিশ্বকে মাতাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল।
‘সুপার ক্লাসিকো’র সবশেষ ম্যাচটাও ছিল এই বিশ্বকাপ বাছাইয়ে। লাতিন অঞ্চলের রাশিয়া মিশনে সেবার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরিসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে হওয়া লড়াইটা শেষ হয়েছিল ড্রতে। ১-১ গোলে সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচটিতে অবশ্য স্বস্তির হাসি ছিল ব্রাজিলের মুখেই। আর্জেন্টিনার মাটি থেকে পয়েন্ট নিয়ে ফেরাটা যে জয়ের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়!
ম্যাচটিতে যদিও ছিলেন না লিওনেল মেসি। শুধু ওই ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগের দুই ম্যাচেও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড খেলতে পারেননি চোটের কারণে। জয়টাও তাই অধরা ছিল আলবিসেলস্তেদের। রাশিয়া মিশনের শুরুটাও তো হয়েছিল আর্জেন্টিনার হার দিয়ে! ঘরের মাঠেই তারা বিস্ময়করভাবে ০-২ গোলে হেরে বসেছিল ইকুয়েডরের বিপক্ষে। মেসিহীন আর্জেন্টিনা পরের ম্যাচেও ড্র করে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। গোলশূন্য ড্রয়ের পরই ছিল ব্রাজিল পরীক্ষা। ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরিসের ওই ম্যাচের উত্তাপ খানিকটা হলেও কমে গিয়েছিল মেসি না থাকায়।
ব্রাজিল অবশ্য পেয়েছিল নেইমারকে। ব্রাজিলিয়ানদের আশার প্রতীক বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড ওই ম্যাচে লক্ষ্যভেদ করতে না পারলেও ১ পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পেরেছিলেন দেশে। শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল অবশ্য আর্জেন্টিনা। ৩৪ মিনিটে স্বাগিতকরা লিড নেয় এসেকিয়েল লাভেজ্জির লক্ষ্যভেদে। প্রথমার্ধ ওই গোলের লিড নিয়ে শেষ করলেও ৫৮ মিনিটে ব্রাজিল ঠিকই সমতায় ফেরে লুকাস লিমার গোলে। পরে আর কোনও দলই গোল করতে না পারায় রাশিয়া বিশ্বকাপ অভিযানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রথম লড়াই শেষ হয় ১-১ গোলের ড্রতে।
এক বছর পর সেই নভেম্বরেই আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের পয়েন্ট টেবিলের চিত্রটাও। যদিও ‘সুপার ক্লাসিকো’র জন্য এই সব সমীকরণের মূল্য কবেই বা ছিল!
/কেআর/







