ঘরের মাঠে সমর্থকদের কাছ থেকে সমর্থন চেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। স্যান হুয়ানে পেলেনও আর্জেন্টাইন ভক্তদের ভালোবাসা। গ্যালারি থেকে ভেসে আসা উত্তাল ঢেউয়ের শব্দ দলের জন্য যেন আরও বেশি কিছু করার তাড়না দিচ্ছিল মেসিকে। সেই ভালোবাসার জবাব না দিলে কী আর হয়! বার্সেলোনা তারকা দিলেনও তার প্রাপ্য দাম।
জাদুকরী পারফরম্যান্সে শুধু নিজে ছন্দে ফিরলেন না, আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন তৃপ্তির জয়। নিজে করলেন এক গোল, সঙ্গে লুকাস প্রাতো ও আনহেল দি মারিয়াকে দিয়ে করালেন আরও দুটো গোল। তাতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা পেল ৩-০ গোলের জয়। যে জয়টা দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের তুলে এনেছে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে। এখন অন্তত প্লে অফ খেলার জায়গায় থাকল মেসিরা।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে সতীর্থদের মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন মেসি। এই আহবানে সবচেয়ে বেশি সাড়া দিয়েছেন মেসি নিজেই। ব্রাজিলের হারে ভড়কে না গিয়ে বরং মানসিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে নেমেছিলেন তিনি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে যেভাবে চেয়েছেন, খেলতে পেরেছেন সেভাবে। স্যান হুয়ানের ম্যাচে যে কঠিন শপথ নিয়ে নেমেছিলেন, সেটার প্রমাণ তিনি দেন ম্যাচ ঘড়ির দশম মিনিটে। যখন তার চোখ ধাঁধানো ফ্রি কিকে বল আশ্রয় নেয় জালে। বক্সের বেশ খানিকটা দূর থেকে মেসি যে ফ্রি কিকটা নেন, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক দাভিদ ওসপিনা ঝাপিয়েও পারেনি হাতে লাগাতে। বারের নিচের দিকে লেগে বল জড়িয়ে যায় জালে।
গোলের পর যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন তিনি। মাঝেমধ্যেই মাঝমাঠ থেকে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ডি বক্সে। ২৩ মিনিটে সে রকমই এক আক্রমণ থেকে বাঁ প্রান্ত দিয়ে মেসি চলে আসেন বক্সের একেবারে সামনে, এর পর মাপা ক্রস ছোট বক্সের সামনে থাকা প্রাতোর উদ্দেশ্যে। অ্যাতলেতিকো মিনেইরোর এই স্ট্রাইকারের মাথা ছুঁয়ে বল সোজা জালে। ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে স্যান হুয়ান তখন সেজেছে অন্য সাজে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশ্য ব্যবধান কমানোর ভালো সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া, কিন্তু ভাগ্য যে সঙ্গে ছিল না তাদের আজ!
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে নিজেদের সেরাটা উজার করে দিয়েছে কলম্বিয়া। যদিও সুযোগ বেশি তৈরি করেছে কাউন্টার অ্যাটাকে ছক পাল্টানো আর্জেন্টিনা। আনহেল দি মারিয়াই তো নষ্ট করেছেন নিশ্চিত গোলের সুযোগ। মেসির পাস বক্সের ভেতর ফাঁকা পেয়েও এই উইঙ্গার মারের সাইড নেটে। অবশ্য ৮৪ মিনিটে ওই ব্যর্থতার ধুয়েও দিয়েছেন গোলের আনন্দে। এই গোলেও ছোঁয়া সেই মেসির। গোলটিও ছিল দেখার মতো। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের অসাধারণ ব্যাক হিল দৌঁড়ে এনসো পেরেস ধরলেও প্রতিহত হন কলম্বিয়ার এই ডিফেন্ডারের কাছে। পেরেস ব্যর্থ হলেও ক্ষীপ্র গতিতে ওই ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে মেসি ঠিকই ঢুকে পড়েন কলম্বিয়ার ডি বক্সে, এর পর দেখেশুনে পাস বাড়ালেন আড়াআড়িভাবে, ফাঁকায় থাকা দি মারিয়ার এবার আর বল জড়ালে ভুল হয়নি।
জয়টা নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার তখনই। শেষ দিকে হামেস রোদ্রিগেসের ফ্রি কিক পোস্টে বাতাস লেগে চলে যাওয়ার আক্ষেপটা আরও বেড়েছে কলম্বিয়ার। আর আর্জেন্টিনা? জাদুকরী মেসিতে ততক্ষণে ফেলছে তৃপ্তির নিঃশ্বাস!
/কেআর/








