জয়ের জন্যই বরুশিয়া পার্কে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু ঘরের মাঠের প্রাণবন্ত গ্যালারির সামনে উদযাপনটা শুরু করে বরুশিয়া মনশেনগ্ল্যাডবাখ। তবে পেছনে পড়েও শেষ পর্যন্ত স্বস্তির ড্র করেছে ম্যানচেস্টারের ক্লাবটি। জার্মানদের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করেও ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপের মর্যাদা নিয়ে টানা চতুর্থ মৌসুম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বার্সার সঙ্গে ম্যানসিটির (৮) পয়েন্ট ব্যবধান চারের।
আগের ম্যাচে বার্সেলোনাকে হারানোর উদ্দীপনা বরুশিয়া পার্কে দেখাতে পারেনি ম্যানসিটি। অন্যদিকে ইংলিশ জায়ান্টবধের সর্বোচ্চ চেষ্টা শুরুতে দেখা গেছে স্বাগতিকদের মধ্যে। ২৩ মিনিটে এর সুফল দেখা গেছে, ডিবক্সের পেনাল্টি এলাকা থেকে অগ্নিঝরা শটে মনশেনগ্ল্যাডবাখকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন রাফায়েল। দুশ্চিন্তা নিয়ে বিরতিতে যেতে হয়নি সিটিজেনদের। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে কেভিন ডি ব্রুইনের নিখুঁত পাস থেকে ডেভিড সিলভা সমতা ফেরান
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে নিকোলাস ওটামেন্ডিকে গুরুতর ফাউল করে ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন লার্স স্টিন্ডল, ১০ জনের দল হয়ে যায় মনশেনগ্ল্যাডবাখ। একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা নিতে পারেনি ম্যানসিটি, উল্টো তারাও হারায় ফার্নান্দিনহোকে। রাফায়েলকে ফাউল করে ৬৩ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠছাড়া হন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। শেষ আধা ঘণ্টায় দুই দল ১০ জনকে নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি। সেল্টিকের মাঠে বার্সা জেতায় মাত্র একটি পয়েন্টই ম্যানসিটিকে তুলে দেয় নকআউট পর্বে।
বুধবার প্রথম ম্যাচে রোস্তভের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখ পাঁচ গোলের রোমাঞ্চে হেরে গেলে পুরোপুরি সুবিধা নিতে সফল হয় অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। কেভিন গামেইরো ও আন্তোয়ান গ্রিজমানের গোলে পিএসভি এইন্দহোফেনকে ২-০ তে হারিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। ৫ ম্যাচের সবগুলো জিতে ১৫ পয়েন্টে এক নম্বরে অ্যাতলেতিকো। ৬ পয়েন্টে পেছনে থেকে রানার্সআপ বায়ার্ন (৯)। দুই দলই নকআউট নিশ্চিত করে পঞ্চম ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিল।
‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান কার হতে যাচ্ছে সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। কারণ শীর্ষ দুইয়ে থাকা আর্সেনাল ও প্যারিস সেন্ত-জার্মেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ২-২ গোলে ড্র করেছে। দুই দলের পাশেই ১১টি করে পয়েন্ট, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচটি সত্যিকার অর্থেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় উনাই এমেরির দল। প্রাপ্য গোলটি তারা পেয়ে যায় ১৮ মিনিটে। শকোদরান মুস্তাফিকে ফাঁকি দিয়ে ব্লেইস মাতুইদি ক্রস দেন গোলমুখে, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা এডিনসন কাভানি এগিয়ে দেন ১-০ গোলে। আর্সেনাল সুযোগ খুঁজছিল সমতা ফেরানোর। এজন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল, অ্যালেক্সিস সানচেজকে ডিবক্সের মধ্যে ফেলে দেন গ্রেগোর্জ ক্রিচোভিয়াক। পেনাল্টি থেকে ১-১ করেন অলিভার জিরদ। গানাররা আবার এগিয়ে যায় সৌভাগ্যের ছোঁয়ায়। ৬০ মিনিটে মারকুইনহোস বল বিপদমুক্ত করতে যান, কিন্তু শটটি ভেরাত্তির গায়ে লেগে গোলরক্ষক আরিওলাকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। আত্মঘাতী গোলে ২-১ এ এগিয়ে যায় আর্সেনাল। পিএসজি হাল ছেড়ে দেয়নি, কপাল ভালো ছিল তাদেরও। অ্যালেক্স লোবির আত্মঘাতী গোলে ফরাসিরা হার এড়ায়।
গ্রুপ জিততে হলে আগামী ৬ ডিসেম্বর বাসেলের মাঠে পিএসজির (লুদোগোরেটসের বিপক্ষে একই দিন) চেয়েও ভালো ফলাফল করতে হবে আর্সেনালকে। যদি দুই দলেই একই ফল হয়, তাহলে তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসেবে পিএসজি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে; কারণ দুই অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে ফরাসিরা। একই গ্রুপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণীও হবে শেষ ম্যাচে গিয়ে। কারণ লুদোগোরেটস ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছে বাসেলের বিপক্ষে। দুই দলের সমান ২ পয়েন্ট।
‘বি’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কোনও দল। তিন গোলে পিছিয়ে থেকেও বেনফিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৩-৩ গোলে ড্র করে গ্রুপে টানটান উত্তেজনা ধরে রেখেছে বেসিকটাস। শীর্ষস্থান থেকে এক পয়েন্ট কমে তিন নম্বরে তুর্কি দলটি। ডায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করায় নাপোলিকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। তবে ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষেই আছে ইতালিয়ানরা। তবে তাদের ঘাঁড়ে অস্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বেনফিকা (৮) ও বেসিকটাস (৭)। শেষ ম্যাচে বেনফিকার মাঠে খেলবে নাপোলি, ছিটকে পড়া কিয়েভ স্বাগত জানাবে বেসিকটাসকে।
/এফএইচএম/








