ম্যাচ শেষে স্কোর লাইনের ডিজিট বলছে ৩-১, খেলা শেষে ওটাই শেষ কথা। কিন্তু সে তো বাংলাদেশের ভুলের খেসারতের ফল। প্রথমবারের মত সাফের ফাইনালে খেলার চাপটা পুরোপুরি নিতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। মোটা দাগে ভারতের তিনটি গোলই হয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ভুলে।
কাঞ্চনজঙ্ঘার গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ বলে গর্জন নেই। হালকা বাংলাদেশ শব্দ যা ছিল, তা তো সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সমর্থকদের ভুভুজেলার বিকট শব্দেই হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। গ্যালারির পুরোটাই ছিল ভারতীয়দের রাজত্ব, কিন্তু মাঠে আর আধিপত্য দেখাতে পারল কোথায় তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা! ম্যাচ শেষে স্কোর লাইনের ডিজিট বলছে ৩-১, খেলা শেষে ওটাই শেষ কথা । কিন্তু সে তো বাংলাদেশের ভুলের খেসারতের ফল।
প্রথমবারের মত সাফের ফাইনালে খেলার চাপটা পুরোপুরি নিতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। মোটা দাগে ভারতের তিনটি গোলই হয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ভুলে। আর ভুলগুলো সদ্বব্যহার করে টানা চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন ভারত। ফলে রানার্স আপ ট্রফি নিয়েই এবার সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাদশেকে। বাংলাদেশের কোচ ছোটনের ভিন্ন এক কৌশলে মাঠের পরতে পরতে খাবি খেয়েছে ভারত। মাইনু মারমাকে ফরোয়ার্ডে দিয়ে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনকে মিডফিল্ডে খেলিয়েছেন ছোটন । এই এক টোটকাতেই শক্তিশালী ভারতীয় মিডফিল্ডকে বশে রাখা গিয়েছিল ম্যাচের সিংহভাগ সময়।
দুই মিডফিল্ডার মৌসুমী ও মারিয়া মান্ডা যেন মাঝমাঠে বুলডোজার চালালেন, আর বল নিয়ন্ত্রণ ও সৃষ্টিশীল ‘নায়িকা’র ভূমিকায় অধিনায়ক সাবিনা । সব কিছুই ছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীদের আয়ত্বের মধ্যে। শুধু গোলরক্ষক সাবিনা আক্তার চাপটা নিতে পারলেই কাঞ্চনজঙ্ঘার সন্ধ্যাটা হতে পারতো বাংলাদেশের। শিলিগুড়িতেই রচনা হতো বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাস।
ভুলের শুরুটা ১২ মিনিটে। বাম প্রান্ত থেকে নিচু ক্রসে পুরো রক্ষণভাগ বলের লাইন মিস করলে বল পেয়ে যান আনমার্কড গ্রেসি, ততক্ষণে গোলরক্ষক সাবিনাও পোষ্ট ছেড়ে বের হয়ে গিয়েছেন। গ্রেসির দুর্বল টোকাটাই শেষ পর্যন্ত গড়িয়ে গড়িয়ে জালে। দিনটি ভারতের হলে যা হয়। কিন্তু সাবিনা-স্বপ্নারা বুঝিয়ে দিলেন শুধু ফাইনাল খেলার তৃপ্তি নিয়েই বাংলাদেশের ফ্লাইট ধরতে চান না তারা । মাঝমাঠে নিজেদের মধ্যে ৮-১০ টা পাস হলো, দুই উইং দিয়ে জোরালো আক্রমণও হল বেশ কয়েকবার। ৩৮ মিনিটে সাবিনার থ্রুতে বক্সের মধ্যে বল পান স্বপ্না। ভারতীয় আগুয়ান গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে প্লেসিংয়ে গোল। স্বপ্নার গোলের পরপরই মাঠে আসা প্রায় কয়েকজন বাংলাদেশী দর্শক কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামকে পরিণত করেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে! শোনা যায় ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ ধ্বনি।
সমতা নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে ১৭ মিনিটের মধ্যেই আবার ভুল স্বাগতিকদের, এবার পেনাল্টি উপহার দেয় তারা স্বাগতিকদের। বক্সের মধ্যে বালা দেবীকে অহেতুক পেছন থেকে ধাক্কা দেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডার নার্গিস খাতুন। পেনাল্টি থেকে সুস্মিতা মালিক গোল করতে ভুল করেননি। ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল তখনও। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে নির্ভরতার প্রতীক গোলরক্ষক সাবিনা ছিলেন ফাইনালে একেবারে নড়বড়ে। ম্যাচে কয়েকবার বল গ্রিপে নিতে ভুল করেছেন, পোষ্ট ছেড়ে সময়মত বের হওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারেনি। ৬৭ মিনিটে তার করা ভুলই বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে দেয় ছিটকে। বক্সের অনেক বাইরে থেকে লম্বা শট নেন ইন্দু। বলের ফ্লাইট না বুঝায় বল ড্রপ খেয়ে তার মাথার উপর দিয়ে জালে। এমন ভুলের পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।
স্বাগতিক ভারত টানা চার সাফের আসরে চ্যাম্পিয়ন। আর বাংলাদেশ প্রথমবার রানার্স আপ। অভিজ্ঞ সাবিনার সঙ্গে ১৬ বছরের বছরের কিশোরীরা ভারতের কয়েক হাজার দর্শকদের সামনে যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়েছেন , সেটাই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বড় প্রাপ্তি। কমলা দেবী, বালা দেবী, সুস্মিতার মত নামীদামি ফরোয়ার্ডদের ভালোই সামলেছেন শামসুন্নাহার-শিউলি-আজিমরা। শুধু স্কোর লাইনের ফলাফলটাই পাশে নেই দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশের।
/কেআর/







