ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। শিরোপা নিশ্চিতের পর ভিক্টরি ল্যাপ দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। মাঠে উপস্থিত হাজার দশেক দর্শক অভিনন্দন জানিয়েছে তাদের সমস্বরে। শুধু একবার নয়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছ থেকে ট্রফি পেয়ে আবারও দর্শকদের কাছে গেছে মার্জিয়া-মারিয়ারা।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম জেগে উঠেছিল অনেক দিন পর। মেয়েরা ট্রফি জিতে দর্শকদের মাঠে আসাটাকে করে তুলেছিল স্বার্থক। ট্রফি ও মেডেল পেয়ে যারপরনাই মেয়েরা উচ্ছ্বসিত। এমন একটি দিনের জন্য অপেক্ষায় ছিল সবাই। দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের কথাতেই তা পরিস্কার, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার লক্ষ্য ছিল। প্রত্যেক ম্যাচ একই রকম খেলব, জিতব- ম্যাচ শেষে তাই হয়েছে।’
বিজয়ের মাসে দেশবাসীকে বড় উপহার মেয়েদের এই শিরোপা। কোচ তেমনই বললেন, ‘১৬ কোটি মানুষকে বিজয়ের মাসে কাপ উপহার দেব, এমনটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা। তা করে দেখাতে পেরেছি। এছাড়া ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে পারলাম শিরোপা। আমাদের সাবিনাকে স্মরণ করেছি। ও থাকলে খেলতো এই দলে। ওর জন্য মেয়েরা খেলেছে। এই জন্য মেয়েদের স্যালুট জানাচ্ছি।’
ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে ছোটনের বক্তব্য, ‘এক মিনিটে ভারত গোল খেলে তখনই ম্যাচ অনেকটা শেষ হতে পারতো। আমরা আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতাম। কিন্তু রেফারি গোল বাতিল করায় তা হয়ে উঠেনি। তবে ম্যাচ শেষে ট্রফি জয় বড় অর্জন।’
মেয়েদের নিয়ে কোচের বড় আশা, ‘২০১০ সালে সাফের আসরে প্রথমার্ধে হাফ ডজন গোলে খেয়েছি। তখন চিন্তা করলাম, কিভাবে দল গোল হজম থেকে রক্ষা পাবে। এখন আমরাই প্রতিপক্ষকে একের পর এক গোল দিচ্ছি। এটা তো বিশাল অর্জন। অনেক ভালো লাগছে।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘মেয়েদের দিকে নজর দিতে হবে। ওরা দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। সাফের সভাপতি আমাদের (কাজী সালাউদ্দিন)। এজন্য এই ট্রফির গুরুত্ব আমার কাছে অন্যরকম। ভেবেছিলাম আমরা যদি একটা কিছু উপহার দিতে পারি, ভালো লাগবে। শেষ পর্যন্ত সেটা করতে পেরেছি।’
ভারতের কোচ মায়মল রকি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ভালো খেলে ট্রফি জিতেছে। এটা তাদের প্রাপ্য।’








