মহিলা ফুটবলে এমন ব্যস্ততম বছর আর আসেনি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মেয়েরা খেলবে সাতটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে। যেখানে সেরা হওয়ার লক্ষ্যে নিয়েই নতুন বছর শুরু করতে চায় তারা।
এতদিন ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া কথা থাকলেও বছরের শেষ দিকে যোগ হয়েছে আরেকটি টুর্নামেন্ট। সব মিলিয়ে সাতটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশের লক্ষ্য সব টুর্নামেন্টেই সেরা হওয়া। সাতটি আসরের মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন হংকংয়ের অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্ট। আমন্ত্রণমূলক এই প্রতিযোগিতায় এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশও থাকছে। আগামী বছরের মার্চে হবে এই প্রতিযোগিতাটি।
মূলত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরু হবে হংকংয়ের টুর্নামেন্ট দিয়ে। এছাড়া এএফসি ফুটসাল, অনূর্ধ্ব-১৬ ও ১৯ বাছাই পর্ব তো আছেই। সাফের অনূর্ধ্ব-১৫, ১৮ ও সিনিয়রদের আসরেও খেলতে হবে বাংলাদেশকে।
জাতীয় মহিলা দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন মঙ্গলবার বাংলা ট্রিবিউনকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সব আসরে আমাদের অংশগ্রহণের কথা আছে। তালিকাভুক্ত যারা আছে, তারাই যে সব আসরে খেলবে তা নয়; যাদের পারফরম্যান্স ভালো তাদের নিয়েই লড়ব।’ এরপরই জানালেন তাদের লক্ষ্যের কথা, ‘বাছাই পর্বগুলোতে সেরা হওয়ার লক্ষ্য। আর টুর্নামেন্টে ট্রফি জেতার দিকে চোখ আমাদের। চেষ্টা করব সব আসরে ভালো করার। আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা নিয়েই লড়ব।’
২০১৮ সালের সাত টুর্নামেন্ট খেলার জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে আন্তর্জাতিক এমন সূচির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাও কঠিন হবে। বাফুফের অধীনে ৩৮ থেকে ৪০ জন খেলোয়াড় আছেন। ঘুরেফিরে তারাই সব আসরে খেলছেন। বয়সভিত্তিক দলেই খেলোয়াড় বেশি। সিনিয়র দলের জন্য চার থেকে পাঁচজন খেলোয়াড় যোগ হবেন।
এমনিতেই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ও জেএফএ কাপ ছাড়া ঘরোয়া কার্যক্রম নেই। তৃণমূলে অবশ্য বঙ্গমাতা ফুটবল বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। বাফুফের চাওয়া, সারা বছর যেহেতু মেয়েরা আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্যস্ত থাকবে, সেক্ষেত্রে পাইপলাইন যেন আরও শক্তিশালী হয়। এজন্য ২০১৮ সালে মহিলাদের লিগ আবার চালুর কথা আছে। ২০১১ ও ২০১৩ সালে হয়েছিল সর্বশেষ দুটি আসর।
লিগ হলে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বাড়বে। তখন মানের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সংখ্যাও বেড়ে যাবে বলে মনে করেন ছোটন. ‘আমাদের হাতে যেসব খেলোয়াড় আছে, তাদের নিয়েই বছরব্যাপী ব্যস্ত থাকতে হবে। সবাইকে নিয়ে তো সারা বছর ট্রেনিং করা সম্ভব না। যদি লিগ হয়, তাহলে তো ভালোই। আর্থিক দিক ছাড়াও সবদিক দিয়ে মেয়েদের ফুটবল উপকৃত হবে।’







