জিতলে অন্য দু’দলের চেয়ে একটু হলেও ভালো অবস্থানে থাকতে পারতো রহমতগঞ্জ। অন্তত এই রাউন্ডে রেলিগেশন শঙ্কা থেকে উতরে যেত। কিন্তু তা আর হলো কই? মোহামেডান তাদের ২-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই রেখে দিল।
শেষ তিনটি ম্যাচ পুরনো ঢাকার দলটির জন্য তাই চ্যালেঞ্জই হয়ে থাকলো। অন্যদিকে মোহামেডান হেড কোচ ছাড়াই একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে। লিগ শিরোপার স্বপ্ন তাদের আগেই শেষ হয়েছে। এখন ‘নিয়মরক্ষার’ ম্যাচে তাদের লক্ষ্য যতদূর সম্ভব পয়েন্ট সংগ্রহ করে উপরের দিকে থাকা যায়। যদিও পয়েন্ট টেবিলে সাইফ স্পোর্টিংয়ের (৩৫ পয়েন্ট) উপরে থাকতে পারলে এএফসি কাপের প্লে অফে খেলার পথ সুগম হবে মোহামেডানের। কিন্তু সেই সম্ভাবনা আপাতত কমই বলা যায়।
১৯ ম্যাচে অষ্টম জয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে আছে মোহামেডান। রহমতগঞ্জ সমান ম্যাচে নবম হারে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে। ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে এগিয়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা ও ফরাশগঞ্জ।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু থেকে রহমতগঞ্জ আক্রমণে। প্রথমার্ধেই তিনটি গোল হয়েছে। প্রথম চার মিনিটের মধ্যে দুটি আক্রমণ থেকে গোল প্রায় হয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্য, দ্বিতীয় মিনিটে গাম্বিয়ার মিডফিল্ডার মোস্তফা জাত্তারের কর্নারে আরেক মিডফিল্ডার নাইমুর রহমান শাহেদের হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। চতুর্থ মিনিটে মোস্তফা জাত্তারের স্কয়ার পাসে গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড দাউদা সিসের বাঁ পায়ের শট সাইড বার ঘেঁষে গেলে হতাশ হতে হয় রহমতগঞ্জকে।
পরের মিনিটে মোহামেডান আক্রমণে উঠে গোলের দেখাও পেয়ে যায়। বাঁ প্রান্ত থেকে হাইতির অগাস্টিন ওয়ালসনের ক্রসে নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড কিংসলের সাইড ভলি দূরের পোস্ট দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে।
দশম মিনিটে ম্যাচে ফেরে রহমতগঞ্জ। দাউদা সিসের বাঁ প্রান্ত থেকে বাড়ানো বল গোলরক্ষক মামুন খান ধরতে পারেননি, ডিফেন্ডার আসাদুজ্জামান বাবলুর শটও ঠিকমতো ‘ক্লিয়ার’ হয়নি; মিডফিল্ডার মোহাম্মদ সোহেল বল পেয়ে ৬ গজের মধ্যে থেকে গোল করতে ভুল করেননি।
৩১ মিনিটে বিপলুর বাড়ানো বলে ডিফেন্ডার নাসিরুল ইসলাম ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে সতীর্থ একজনকে দিতে চেয়েছিলেন, জায়গা মতো দিতে না পারলেও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার নাজিমউদ্দিনের পায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়, যাতে আবার মোহামেডান এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। বিরতির পর আক্রমণ-প্রতি আক্রমণনির্ভর ফুটবল হয়েছে। তবে কোনও দলই গোল করতে পারেনি।
৬৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বিপলু আহমেদের জোরালো শট বারের ওপর দিয়ে যায়। ৬৭ মিনিটে দাউদা সিসের ফ্রি কিক আবার ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে দাউদার ভলি গোলরক্ষকের গ্রিপে জমা পড়লে রহমতগঞ্জের আফসোস আরও বাড়ে। ৭৩ মিনিটে রাশেদুল ইসলাম শুভও তৈরি করেছিলেন দারুণ সুযোগ, যদিও তার জোরালো শট গোলরক্ষক মামুন খান ফিস্ট করেন।
সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায় আরেকটি হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রহমতগঞ্জকে। যাতে পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে ওঠা হলো না তাদের। রেলিগেশনের শঙ্কা তাই আরও বাড়লো তাদের।








