দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে এসেছে স্বস্তির জয়। ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা করেছে লাল-সবুজের দল। চমৎকার জয়ের পর সুফিল-জামালদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে।
সাফের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে। জয়ের পর বাংলাদেশ কোচ বেশ উচ্ছ্বসিত, ‘ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করে আসছিল। সাফের প্রথম ম্যাচে তারা লড়াই করে জিতেছে। সঠিক সময়ে জয় এসেছে।’ ভুটানের চেয়ে ভালো খেলে জয়টা আসায় বেশি তৃপ্তি জেমি ডে’র মনে, ‘আমরা যোগ্য দল হিসেবে ম্যাচ জিতেছি। আমি যেমনটি চেয়েছিলাম, দল সেভাবেই খেলেছে। আগের চেয়ে দলের পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে। আমি এই জয়ে বেশ খুশি।’
দুই বছর আগে ভুটানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে প্রায় এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবল। এএফসি এশিয়ান কাপের প্রাক বাছাই পর্বের ওই হার র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ঠেলে দিয়েছিল অনেক। যদিও দুঃসহ ওই স্মৃতি মনে করতে চান না বাংলাদেশ কোচ, ‘এমন জয়ের পর আসলে পুরনো কথা নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো। আমরা এই ম্যাচ জিতেছি, এটাই বড় বিষয়।’
ভুটান ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। গ্রুপের পরের ম্যাচ দুটিতে নজর রেখে জেমি ডে’র বক্তব্য, ‘আমরা জয় দিয়ে শুরু করেছি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। জানি পাকিস্তান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তারপরও আমরা সব ম্যাচে ভালো খেলতে চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে কোচের সঙ্গে ছিলেন মাশুক মিয়া জনি। শুরুতেই দর্শকদের ধন্যবাদ দিয়ে জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডার বললেন, ‘দর্শকরা অনেকদিন পর মাঠে এসেছে। আমাদের সহযোগিতা করেছে। এতে করে আমরা উজ্জীবিত হয়েছি। আশা করছি তাদের এই সমর্থন ভবিষ্যতেও থাকবে।’
ভুটানের বিপক্ষে দুই বছর আগের হারই তাতিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে, সেটাই জানালেন তিনি, ‘ভুটানের বিপক্ষে দুই বছর আগে হেরে আমরা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ি। এই ম্যাচের আগে সবাই পণ করেছিলাম- জিততেই হবে, ভালো খেলতে হবে। সেটাই করে দেখিয়েছি। এখন অনেক ভালো লাগছে।’
ভুটানের ইংলিশ কোচ ট্রেভর মরগান প্রথম ম্যাচ হেরে স্বভাবতই হতাশ, ‘আমরা ম্যাচের শুরুতে গোল হজম করেছি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও তাই হয়েছে। ওরা (বাংলাদেশ) সুযোগ পেয়ে গোল করেছে, যেটা আমরা পারিনি। চেনচো তো ওদের ডিফেন্সের ভুলে সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি! তবে আমরা ম্যাচ হারলেও লড়াই করেছি।’
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, যারা উদ্বোধনী ম্যাচে নেপালকে হারিয়েছে ২-১ গোলে।







